নয়া দিল্লি: দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ছাত্র আন্দোলনের আড়ালে কোটি কোটি টাকার বিদেশি অনুদান পাওয়ার বিস্ফোরক অভিযোগ! আর এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র বিরুদ্ধে এবার সরাসরি এনআইএ (NIA) তদন্ত চেয়ে দিল্লি হাই কোর্টে দায়ের হল একটি জনস্বার্থ মামলা। বৃহস্পতিবার অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার প্রাক্তন সহ-সভাপতি সতীশ কুমার আগরওয়াল এই মামলাটি দায়ের করেছেন। অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে শুক্রবারই প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার বেঞ্চে এই হাই-প্রোফাইল মামলাটির শুনানি হতে চলেছে।
মামলাকারীর অভিযোগ, দিল্লির বুকে বর্তমানে যে আন্দোলন চলছে, তা সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর দাবি, এটি কোনও প্রকৃত ছাত্র আন্দোলন নয়; বরং বিদেশি শক্তি দ্বারা পরিচালিত এবং দেশে অস্থিরতা তৈরির এক বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ। আবেদনে স্পষ্ট দাবি করা হয়েছে, এই আন্দোলনকে দিনের পর দিন সংঘটিত করতে বিদেশ থেকে বিপুল অঙ্কের ফান্ড পাচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টি। এই গোটা প্রক্রিয়ার নেপথ্যে থাকা চক্রকে প্রকাশ্যে আনতে দিল্লি বিক্ষোভের সম্পূর্ণ তদন্তভার অবিলম্বে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) বা অন্য কোনও বিশেষ এজেন্সির হাতে তুলে দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে দিল্লি পুলিশের দায়ের করা সমস্ত এফআইআর অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাছে হস্তান্তরিত করারও আর্জি জানিয়েছেন মামলাকারী।
জনস্বার্থ মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভে আন্দোলনকারীরা যান চলাচলে ব্যাপক বাধা সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি সরকারি ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি ভাঙচুর থেকে শুরু করে পুলিশ এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার মতো ঘটনাও ঘটেছে। যারা এই হিংসা ছড়ানো, ভাঙচুর ও জরুরি পরিষেবায় বাধা সৃষ্টির নেপথ্যে রয়েছে, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সতীশ। শুধু তাই নয়, এই আন্দোলনের অন্যতম মুখ, পরিবেশকর্মী তথা শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গেও কিছু সন্দেহভাজন বিদেশি সংস্থার যোগ রয়েছে বলে ওই আবেদনে বিস্ফোরক দাবি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, শুক্রবার দিল্লি হাইকোর্টে এই মামলার শুনানিতে কী নির্দেশ আসে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশের রাজনৈতিক মহল।

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুলাই ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন