কলকাতা: ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের দফতরে ঘটে যাওয়া তুলকালাম কাণ্ডে পুলিশি তৎপরতা তুঙ্গে। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর এবার দ্বিতীয় নোটিসে শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজিরা দিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন। প্রথম তলবে আইনজীবীর মাধ্যমে অপারগতা প্রকাশ করলেও, দ্বিতীয় নোটিসের ফাঁড়া কাটাতে বুধবার নির্ধারিত সময়েই তদন্তকারীদের মুখোমুখি হতে থানায় পৌঁছন তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার, যখন পুরসভার আধিকারিকেরা ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতরে একটি বেআইনি ও বিপজ্জনক অবস্থায় ঝুলতে থাকা বিলবোর্ড সরাতে যান। পুরকর্মীদের সঙ্গে পুলিশ সেখানে পৌঁছতেই পরিস্থিতি কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। অভিযোগ ওঠে, সরকারি কাজে চরম বাধা দেওয়ার পাশাপাশি পুরকর্মী এবং পুলিশ আধিকারিকদের গায়ে হাত তোলা হয়। এমনকী কর্তব্যরত মহিলা পুলিশকর্মীদের হেনস্থা ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগও দায়ের হয়। এই পুরো ঘটনায় পুরসভার আধিকারিক এবং পার্ক স্ট্রিট থানার সার্জেন্টের দায়ের করা অভিযোগ মিলিয়ে মোট তিনটি পৃথক এফআইআর রুজু করে তদন্তে নামে পুলিশ।
সেই অভিযোগের সূত্র ধরেই অভিষেক এবং ডেরেক-সহ একাধিক প্রভাবশালী নেতার নাম জড়ায়। মঙ্গলবার দীর্ঘক্ষণ থানায় উপস্থিত থেকে প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিলেন স্বয়ং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর বুধবার সকাল দশটা নাগাদ ডেরেক ও’ব্রায়েনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হয়। তবে তদন্তের রাশ এখানেই আলগা হচ্ছে না। জানা গিয়েছে, বুধবারই দুপুরে অভিষেকের ঘনিষ্ঠ আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছে শেক্সপিয়র সরণি থানা। পাশাপাশি বৃহস্পতিবার তলব করা হয়েছে তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়কে এবং নোটিস পাঠানো হয়েছে প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকেও। শাসকদলের একের পর এক শীর্ষ নেতা ও তাঁদের ঘনিষ্ঠদের থানায় তলবের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে চরম শোরগোল শুরু হয়েছে।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন