Supreme Court March: প্রধান বিচারপতির না সত্ত্বেও রাজধানীতে ধুন্ধুমার! সুপ্রিম কোর্টে ‘ইন্ডি’ জোটের মেগা অভিযান ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা
নয়া দিল্লি: এসআইআরের নামে ভোট চুরির অভিযোগ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে সোমবার এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে রাজধানীতে শুরু হলো ‘ইন্ডি’ জোটের সুপ্রিম কোর্ট অভিযান। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খাড়গের নেতৃত্বে এই মিছিলে সামিল হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, একাধিক বামপন্থী নেতা এবং সমাজবাদী পার্টির শীর্ষস্থানীয় নেতাকর্মীরা। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত আগেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, এই বিচারাধীন বিষয় নিয়ে তিনি কোনো সাক্ষাতের সময় দিতে পারবেন না এবং আদালত রাজনীতির জায়গা নয়। তা সত্ত্বেও বিরোধীরা তাঁদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি থেকে একচুলও সরে দাঁড়াননি।রবিবারই বিরোধী শিবির থেকে এই সুপ্রিম কোর্ট অভিযানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়েছিল। পরিকল্পনা ছিল, শীর্ষ আদালতে গিয়ে প্রধান বিচারপতির হাতে একটি স্মারকলিপি তুলে দেবেন বিরোধী দলগুলির প্রধান মুখেরা। তবে প্রধান বিচারপতির তরফ থেকে সাক্ষাতের অনুমতি না মেলায় কর্মসূচির রূপরেখায় সামান্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। ঠিক হয়েছে, আদালত চত্বর পর্যন্ত সকলে মিছিল করে গেলেও শেষ পর্যন্ত রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে মাত্র দশজনের একটি প্রতিনিধি দল সুপ্রিম কোর্টে একটি বিশেষ পিটিশন বা আবেদনপত্র জমা দেবেন। মিছিলে অংশ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেছেন যে, দেশের মানুষ তাঁদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং সেই বঞ্চিত মানুষের অধিকার ফেরানোর লড়াইয়েই তাঁরা বিচার চাইতে রাস্তায় নেমেছেন।[TECHTARANGA-POST:13572]অন্যদিকে, বিরোধীদের এই সুপ্রিম কোর্ট অভিযানকে একযোগে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে শাসক দল বিজেপি। ঠিক একই সময়ে সাংবাদিক বৈঠক করে গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে ‘ইন্ডি’ জোটকে সরাসরি ‘বিদেশি শক্তির হাতের পুতুল’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছে। সিনিয়র বিজেপি নেতা শিবরাজ সিং চৌহান তীব্র আক্রমণ শানিয়ে দাবি করেছেন যে, বিরোধীরা দেশের সংবিধানকে অপমান করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে অতীতে রাহুল গান্ধী নিজেই মন্তব্য করেছিলেন তাঁদের লড়াই নাকি শুধু রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়, বরং সরাসরি রাষ্ট্রশক্তির বিরুদ্ধে। এই ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী মনোভাবের ফলেই দেশের রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কংগ্রেস ধীরে ধীরে মুছে যাবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।এদিকে বিরোধী শিবিরের তরফ থেকেও পালটা কড়া হুংকার দেওয়া হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে রাহুল গান্ধী এক বিস্ফোরক পোস্টে লিখেছেন যে, ‘শিবের তাণ্ডব নৃত্য শুরু হয়ে গিয়েছে, এই অবস্থায় কোনো পরিকল্পনা থাকে না, এটা শিবের মিছিল, যে কেউ আসতে পারেন, আমি কাউকে আটকাব না।’ প্রধান বিচারপতির বার্তার পরেও বিরোধীদের এই অনড় অবস্থান এবং বিজেপির চড়া আক্রমণাত্মক সুরের জেরে জাতীয় রাজনীতিতে এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সুপ্রিম কোর্ট চত্বর এবং সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।