১১ বছরের মেয়েকে ধর্ষণ-খুনের বদলা! বারুইপুরে এক অভিযুক্তকে পিটিয়ে মারল ক্ষুব্ধ জনতা, নির্যাতিতার বাবাকে ফোন মুখ্যমন্ত্রীর
বারুইপুর: বারুইপুরে ১১ বছরের নাবালিকাকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা এবার এক চরম হিংসাত্মক ও অগ্নিগর্ভ রূপ ধারণ করল। ধপধপি সূর্যপুর হাট এলাকার এই নারকীয় ঘটনার প্রতিবাদে সকাল থেকেই কুলপি রোড অবরুদ্ধ করে যখন বিক্ষোভ চলছিল, ঠিক তখনই এক অভিযুক্তকে হাতের কাছে পেয়ে যান স্থানীয় বাসিন্দারা। আর তাতেই ক্ষোভের আগুন গিয়ে পড়ে তার ওপর। নাবালিকা খুনে জড়িত থাকার অভিযোগে ইন্দ্রজিৎ তাঁতি (২৬) নামের ওই যুবককে ধরে গণপিটুনি দিতে শুরু করে উত্তেজিত জনতা।[TECHTARANGA-POST:10622] খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। বারুইপুরের এই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির মাঝেই আসরে নেমেছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি নিজে নির্যাতিতা নাবালিকার বাবার সঙ্গে ফোনে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন এবং আগামী মঙ্গলবার পুরো পরিবারকে কলকাতার ভবানীভবনে আসার নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, দোষীদের কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না এবং পরিবারের সব দাবি শোনা হবে।IIT থেকে TMC-র অন্দরের ফাটল! চন্দ্রিমা ইস্যুতে বিস্ফোরক সুকান্ত মজুমদাররবিবার সকাল থেকেই বারুইপুর যেন এক যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। পরিবারের অভিযোগ ছিল, শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ থাকার পর রবিবার সকালে পুকুরে যখন নিষ্পাপ মেয়েটির দেহ ভাসতে দেখা যায়, তখন পুলিশ নিষ্ক্রিয় ছিল। স্থানীয়দের দাবি, পুলিশ যদি শনিবার রাতে সঠিক সময়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করত, তবে হয়তো নাবালিকাকে বাঁচানো যেত। পুলিশের এই চরম গাফিলতির অভিযোগে ক্ষিপ্ত হয়ে জনতা চড়াও হয় সূর্যপুর পুলিশ ক্যাম্পের ওপর। [TECHTARANGA-POST:10621]ক্যাম্পে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি কুলপি রোডে মৃতদেহ আটকে রেখে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ চলে। বিক্ষোভ তুলতে গেলে পুলিশের ওপর ফের একবার দলবদ্ধ হামলা চালানো হয়। শুধু তাই নয়, ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে রেললাইনের ওপরেও। শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার নামখানা লাইনে উত্তেজিত জনতা দীর্ঘক্ষণ ট্রেন অবরোধ করে রাখায় যাতায়াত সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রীর ফোনের আশ্বাস পাওয়ার পরই পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।[TECHTARANGA-POST:10609]পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, বছর এগারোর ওই নাবালিকাকে প্রথমে নৃশংসভাবে নির্যাতন করার পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার বিকেলে খাবার কেনার নাম করে বাড়ি থেকে বেরোনোর পর ৪ থেকে ৫ জন যুবক মিলে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়েছিল।[TECHTARANGA-POST:10601] স্থানীয়দের দাবি, এই জঘন্য অপরাধের পেছনে কোনো একজন নয়, বরং গোটা একটা গ্যাং জড়িত রয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্তদের মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করে বারুইপুর থানায় নিয়ে গিয়ে ম্যারাথন জেরা শুরু করেছে। তবে তার মাঝেই গণপিটুনিতে অন্য এক অভিযুক্তের এই মৃত্যুর ঘটনা এবং রণক্ষেত্রের চেহারা নেওয়া সূর্যপুর এলাকায় নতুন করে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ মোতায়েন করা হয়েছে। গোটা বারুইপুর জুড়ে এখন থমথমে উত্তেজনা বিরাজ করছে।