দিল্লি বিমানবন্দরে ঠায় ৪৫ মিনিট আটকে প্রধানমন্ত্রী মোদী! নেপথ্যে যে কারণ জানলে কুর্নিশ করবেন আপনিও
নয়াদিল্লি: কলকাতা থেকে ফিরেই এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল দেশের রাজধানী। দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে দিল্লির মাটি ছুঁয়েছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিমান। কিন্তু ভিআইপি প্রোটোকল ভেঙে সঙ্গে সঙ্গে বিমানবন্দর থেকে বেরোলেন না তিনি। বরং ঘড়ির কাঁটায় ঠিক দুপুর ২টো পর্যন্ত বিমানবন্দরের ভেতরেই ঠায় বসে রইলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। আচমকা কেন ৪৫ মিনিট ধরে থমকে রইল প্রধানমন্ত্রীর কনভয়, তা নিয়ে তীব্র জল্পনা ছড়ায় রাজনৈতিক মহলে। তবে নেপথ্যের আসল কারণটি যখন সামনে এল, তখন নিন্দুকেরাও মোদীর এই সংবেদনশীল সিদ্ধান্তের প্রশংসা করতে বাধ্য হচ্ছেন। জানা গিয়েছে, দেশজুড়ে চলা নিট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থেই এই স্বেচ্ছাবন্দিত্বের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।[TECHTARANGA-POST:10143]রবিবার বাংলায় আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের কর্মসূচি শেষ করে যখন মোদীর বিমান দিল্লিতে অবতরণ করে, তখন ঘড়ির কাঁটায় দুপুর একটা বেজে পনেরো মিনিট। নিয়ম অনুযায়ী, বিমানবন্দর থেকে সটান নিজের বাসভবনের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু সেই সময়ই দিল্লির রাজপথে হাজার হাজার নিট পরীক্ষার্থীর ভিড়। প্রত্যেকেই শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততায় নিজেদের পরীক্ষাকেন্দ্রের দিকে ছুটছেন। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর কনভয় রাস্তায় বেরোলে কড়া প্রোটোকল মেনে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ত দিল্লির ট্রাফিক। যান নিয়ন্ত্রণে তৈরি হতো তীব্র জ্যাম, যার জেরে বহু পরীক্ষার্থীর কেরিয়ার নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা ছিল। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের এই চরম বিপদের কথা মাথায় রেখেই নিজের প্রোটোকল আটকে রাখার নির্দেশ দেন মোদী। পরীক্ষা শুরু হওয়া পর্যন্ত বিমানবন্দরেই অপেক্ষা করেন তিনি।[TECHTARANGA-POST:10130]দুপুর ২টোয় পরীক্ষা শুরু হতেই রাজপথ ফাঁকা হয় এবং অবশেষে বিমানবন্দর থেকে নিজের বাসভবনের দিকে রওনা দেয় প্রধানমন্ত্রীর কনভয়। উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী প্রশ্নফাঁস বিতর্কের জেরে বাতিল হওয়া নিট পরীক্ষার পুনঃপরীক্ষা নিয়ে এবার কোনও ঝুঁকি নেয়নি কেন্দ্র। দেশ-বিদেশ মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কেন্দ্রে ২২ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষায় বসেছেন। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার স্বার্থে দেড় লক্ষেরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরায় এআই (AI) প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে। নকল রুখতে বসানো হয়েছে ৫১ হাজারেরও বেশি সিগন্যাল জ্যামার। প্রায় ৩৯ হাজার তল্লাশি কর্মী ও হাজার হাজার পর্যবেক্ষকের কড়া নজরদারিতেই সম্পন্ন হচ্ছে এই মেগা পরীক্ষা। আর সেই পরীক্ষার্থীদের স্বার্থেই আজ ট্রাফিক জ্যামের গেরো থেকে দিল্লিকে মুক্ত রাখলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী।