প্রি-ওয়েডিং শুটের আড়ালে হাড়হিম করা খুন! বিলাসবহুল রাজপ্রাসাদে বিয়ের আগেই হবু স্বামীকে খাদে ফেলল প্রেমিকা
পুনে: বিয়ের আর মাত্র এক মাস বাকি। উদয়পুর ও জয়পুরের রাজকীয় প্রাসাদে প্রায় ১৭ কোটি টাকা খরচ করে রাজকীয় বিয়ের সমস্ত প্রস্তুতি সারা হয়ে গিয়েছিল। তার আগে হবু স্ত্রীর জন্মদিন ও বিবাহপূর্ব ছবি তোলা বা 'প্রি-ওয়েডিং শুট' করতে গিয়ে পুণের ঐতিহাসিক লোহাগড় কেল্লায় ৩৫০ ফুট গভীর খাদে পড়ে মৃত্যু হয় ২৪ বছরের তরুণ রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কেতন বিশাল অগরওয়ালের। প্রাথমিকভাবে এটিকে একটি সাধারণ 'ট্রেকিং দুর্ঘটনা' বলে মনে করা হলেও, তদন্তে নামতেই সামনে এলো এক হাড়হিম করা রহস্য। পুণে গ্রামীণ পুলিশের দাবি, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং হবু স্ত্রী সিয়া গোয়েল এবং তাঁর গোপন প্রেমিক চেতন চৌধুরীর ঠান্ডা মাথায় করা একটি সুপরিকল্পিত নৃশংস হত্যাকাণ্ড![TECHTARANGA-POST:10205]পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে চরম চাঞ্চল্যকর তথ্য। কেতনের পরিবার সিয়ার সঙ্গে বিয়ে ঠিক করলেও, সিয়া আসলে ভালোবাসতেন চেতন নামের অন্য এক যুবককে। নিজের প্রেমের পথে কেতনকে প্রধান কাঁটা মনে করে সিয়া ও চেতন মিলে তাঁকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত ফেঁদেছিলেন। গত ১৪ জুন প্রথমবার কেতনকে লোহাগড় কেল্লায় নিয়ে গিয়ে সাপের আক্রমণের ভয় দেখিয়ে পাহাড়ি খাদে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু সেবার তা ব্যর্থ হয়। এরপর ১৯ জুন সিয়ার ২০ বছরের জন্মদিন উদযাপনের অছিলায় ফের সেখানে ট্রিপের পরিকল্পনা করা হয়। কেল্লার একটি অতি নির্জন জায়গায় প্রি-ওয়েডিং শুটের নাম করে নিয়ে গিয়ে ছবি তোলার সময় মওকা বুঝে কেতনকে পিছন থেকে সজোরে ধাক্কা মারেন সিয়া ও তাঁর প্রেমিক। মুহূর্তের মধ্যে ৩৫০ ফুট নিচে খাড়া উপত্যকায় তলিয়ে যান কেতন। পরে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় তাঁর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করে।[TECHTARANGA-POST:10204]কেতনের পরিবারের এক সদস্য জানিয়েছেন, বিয়ের আগে বালি দ্বীপে ঘুরতে যাওয়ার সমস্ত আয়োজন সম্পূর্ণ করে বাড়ি থেকে রওনাও হয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু মাঝরাস্তায় সিয়া হঠাৎ নাটক শুরু করেন যে তাঁর পাসপোর্ট হারিয়ে গিয়েছে। পরে পুলিশ জানতে পেরেছে, বালি ট্রিপ বাতিল করতে সিয়া নিজেই হোটেলের বাথরুমে পাসপোর্ট ছিঁড়ে ফেলে দিয়েছিলেন! এর পর সিয়ার জন্মদিন ধুমধাম করে পালন করতে মহাবালেশ্বরের একটি বিলাসবহুল রিসর্টের প্রায় ৪০টি রুম বুক করেছিলেন কেতন। ছেলেকে হারিয়ে বুক ফাটছে অগরওয়াল পরিবারের। পুলিশের মরণকামড় জেরার মুখে সিয়া প্রথমদিকে তথ্য গোপন করার চেষ্টা করলেও, তাঁর মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড, সোশ্যাল মিডিয়া চ্যাট এবং ডিজিটাল প্রমাণ খতিয়ে দেখে পুলিশ অপরাধের সত্যতা নিশ্চিত করে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) অধীনে খুন ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ধারায় সিয়া ও তাঁর প্রেমিক চেতনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে লোনাভালা গ্রামীণ থানার পুলিশ।