জামাইষষ্ঠীর ভুরিভোজের মাঝেই সিলিন্ডার বিস্ফোরণের দাপট! দাউদাউ করে জ্বলল আস্ত শ্বশুরবাড়ি
বনগাঁ: জামাইষষ্ঠীর আমেজ নিমেষের মধ্যে বদলে গেল চরম আতঙ্কে। রবিবার ছুটির দিনে শ্বশুরবাড়িতে জমিয়ে পাত পেড়ে খাওয়ার কথা ছিল চার জামাইয়ের। সকাল থেকেই বাড়ি জুড়ে চলছিল এলাহি রান্নাবান্নার তোড়জোড়। কিন্তু দুপুরের চড়চড়িয়ে বাড়তে থাকা খিদের মাঝেই ঘটল এক হাড়হিম করা দুর্ঘটনা। রান্না চলাকালীন আচমকাই শেষ হয়ে যায় গ্যাসের সিলিন্ডার। নতুন একটি সিলিন্ডার এনে ওভেন জ্বালাতেই ঘটে বিপত্তি। মুহূর্তের মধ্যে দাউদাউ করে আগুন ধরে যায় গোটা রান্নাঘরে, যা চোখের পলকে ছড়িয়ে পড়ে পুরো বাড়িতে। উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ থানার কুটি বাড়ি খাসপাড়া এলাকায় এই ঘটনায় চার জামাইয়ের পাত পেড়ে খাওয়ার আনন্দ বদলে গেল কান্নায়।[TECHTARANGA-POST:10147]স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শ্বশুর ও শাশুড়ি দুজনেই বেশ বয়স্ক হওয়ায় চার জামাই মিলে দায়িত্ব নিয়েছিলেন রবিবাসরীয় দুপুরের রান্নাবান্নার। বেশ আনন্দের সাথেই চলছিল হুল্লোড়, অর্ধেক রান্না হয়েও গিয়েছিল। ঠিক তখনই প্রথম সিলিন্ডারটির গ্যাস ফুরিয়ে যাওয়ায় নতুন সিলিন্ডারটি যখন ওভেনের সাথে জোড়া হয়, তখনই কোনওভাবে লিক করে গ্যাস। ৪৫ মিনিট কেন আটকে রইলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী? জানুন আসল সত্যিওভেন অন করতেই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে চারপাশ। আগুন লাগার পর উপস্থিত সকলে তা নেভানোর মরিয়া চেষ্টা করলেও অত্যন্ত দ্রুততার সাথে তা ছড়িয়ে পড়ে শোয়ার ঘরগুলিতে। প্রাণভয়ে জামাই ও বাড়ির বাকি সদস্যরা ঘর থেকে বাইরে ছুটে আসেন। আশপাশের প্রতিবেশীরা ছুটে এসে বড়সড় বিস্ফোরণ এড়াতে বাকি গ্যাস সিলিন্ডারগুলি টেনেহিঁচড়ে পাশের পুকুরে ফেলে দেন।[TECHTARANGA-POST:10120]খবর দেওয়া হয় দমকলে, কিন্তু ঘিঞ্জি এলাকা ও অত্যন্ত সরু গলি হওয়ায় দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দমকলের গাড়িকে চরম বেগ পেতে হয়। দীর্ঘ লম্বা গলির মুখে গাড়ি দাঁড় করিয়ে পাইপ জোড়া লাগিয়ে জল পৌঁছাতে পৌঁছাতে বেশ কিছুটা সময় নষ্ট হয়ে যায়। আর সেই সামান্য সময়ের মধ্যেই চোখের সামনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় মধ্যবিত্ত পরিবারের তিল তিল করে গড়ে তোলা সমস্ত আসবাবপত্র ও মূল্যবান জিনিস। দমকলের দুটি ইঞ্জিনের কয়েক ঘণ্টার অক্লান্ত চেষ্টায় অবশেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। দমকলের আধিকারিক সুজিত কুমার মণ্ডল জানান, আগুন লাগার সঠিক কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে, তবে সরু রাস্তার জন্য কাজ করতে বেশ সমস্যা হয়েছে। জামাই আদরের এই করুণ পরিণতিতে আপাতত স্তব্ধ গোটা খাসপাড়া এলাকা।