১০৮ কলস জলে মহাস্নান সম্পন্ন, শঙ্খধ্বনি-মন্ত্রোচ্চারণে মুখর দিঘার জগন্নাথ মন্দির
প্রথামতো দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে পালিত হল জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা। স্নানযাত্রাকে কেন্দ্র করে শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, মন্ত্রোচ্চারণ এবং ভক্তদের জয়ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে দিঘা ও তমলুকের মন্দির চত্বর। এদিন ভক্তদের উপস্থিতিতে গোটা এলাকা পরিণত হয় এক উৎসবে।[TECHTARANGA-POST:10426]দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে মূল প্রবেশদ্বারের ডান পাশে তৈরি করা স্নানমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ আচার-অনুষ্ঠান। সেখানে ১০৮ কলস জল, পঞ্চামৃত, দুধ, ডাবের জলসহ নানা উপচারে স্নান করানো হয় জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রাকে। স্নান শেষে তিন বিগ্রহকে গজবেশ ও পদ্মবেশে সাজানো হয় এবং নিবেদন করা হয় ৫৬ ভোগ। এরপর মন্দিরে হয় পুষ্পবৃষ্টি ও মহারতি। তমলুকের ঐতিহাসিক মহাপ্রভু মন্দিরেও এদিন বিশেষ আয়োজন ছিল। পুরী থেকে আনা জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার প্রথমবার স্নানযাত্রা অনুষ্ঠিত হয় সেখানে। সকাল ৭টা নাগাদ মূল বেদি থেকে তিন বিগ্রহকে স্নানবেদিতে আনা হয়। এরপর তিন মণ দুধ, এক মণ দই, ২৫ কেজি চিনি, ১১ কেজি ঘি, ৫ কেজি মধু, ১০৮টি ডাবের জল, ২১ তীর্থের জল, পঞ্চামৃত ও পঞ্চগব্য দিয়ে মহাস্নান সম্পন্ন হয়।[TECHTARANGA-POST:10424]স্নানযাত্রার পর গজবেশে সজ্জিত হন জগন্নাথ ও বলভদ্র, সুভদ্রাকে পরানো হয় কুমারী বেশ। এরপর মহারতি ও অন্নভোগের আয়োজন করা হয়। ভক্তদের উপস্থিতিতে গোটা তমলুক শহর জুড়ে তৈরি হয় উৎসবের আবহ। পুরাণ অনুযায়ী, স্নানযাত্রার পর ভগবান জগন্নাথ অসুস্থ হয়ে অনসর পর্বে থাকেন এবং পরে নবযৌবন উৎসবে পুনরায় ভক্তদের দর্শন দেন। এরপর রথযাত্রায় জগন্নাথ বলভদ্র ও সুভদ্রাকে নিয়ে মাসির বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা করেন।