অতিরিক্ত সময়ের রাজা আর্জেন্টিনা! স্কালোনির কৌশল নাকি মেসির মগজ, সাফল্যের আসল রহস্য কোথায়?
২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়ে উঠেছে তাদের লড়াই করে ফিরে আসার ক্ষমতা। ম্যাচ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হার মানতে নারাজ লিওনেল স্কালোনির দল। নকআউট পর্বে একাধিক ম্যাচে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর নিজেদের সেরা ফুটবল খেলেছে আলবিসেলেস্তেরা। আর তাতেই ফুটবল বিশ্বে এখন একটাই প্রশ্ন যে এই সাফল্যের আসল স্থপতি কে? কোচ স্কালোনি, নাকি লিওনেল মেসি?পুরো টুর্নামেন্টে ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে একের পর এক সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্কালোনি। সঠিক সময়ে বদলি, মাঝমাঠে নতুন ছন্দ আনা এবং প্রতিপক্ষের ক্লান্তিকে কাজে লাগিয়ে আক্রমণের গতি বাড়ানোর পরিকল্পনা বারবার কাজে দিয়েছে। অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনার তীব্র আক্রমণাত্মক ফুটবল সেই কৌশলেরই প্রমাণ। তবে শুধু কৌশল দিয়েই আর্জেন্টিনার সাফল্য ব্যাখ্যা করা যায় না। ৩৯ বছর বয়সেও লিওনেল মেসি প্রমাণ করে চলেছেন, তিনি শুধু একজন গোলদাতা নন, একজন অসাধারণ খেলার পরিচালকও। মাঠের ছন্দ নিয়ন্ত্রণ, রক্ষণভাগ চিরে দেওয়া পাস, সতীর্থদের সঠিক জায়গায় খেলানো এবং কঠিন মুহূর্তে নেতৃত্ব সব মিলিয়ে এখনও দলের হৃদস্পন্দন তিনিই। সেমিফাইনালেও আর্জেন্টিনার একাধিক আক্রমণের নেপথ্যে ছিল মেসির উপস্থিতি। তবে এই যাত্রা শুধু মেসি বা স্কালোনির নয়। জুলিয়ান আলভারেজ, এনজো ফার্নান্দেজ, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো এবং এমিলিয়ানো মার্টিনেজদের মতো ফুটবলাররা নিজেদের ভূমিকা নিখুঁতভাবে পালন করেছেন। দলের ঐক্য, মানসিক দৃঢ়তা এবং শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার মানসিকতাই আর্জেন্টিনাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে।[TECHTARANGA-POST:11032]ফুটবলের ইতিহাস বলে, বড় দলগুলো শুধু ভালো ফুটবল খেলে চ্যাম্পিয়ন হয় না বরং চাপের মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাই তাদের আলাদা করে দেয়। ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই গুণই বারবার দেখিয়েছে আর্জেন্টিনা। তাই অতিরিক্ত সময়ের এই সাফল্যকে শুধুই স্কালোনির কৌশল বা শুধুই মেসির মগজের কৃতিত্ব বলা কঠিন। আসলে এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে কোচের পরিকল্পনা, মেসির অভিজ্ঞতা এবং পুরো দলের শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাওয়ার মানসিকতা। এখন সব নজর বিশ্বকাপ ফাইনালের দিকে। স্পেনের বিরুদ্ধে একই জাদু দেখিয়ে আর্জেন্টিনা কি টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিততে পারবে নাকি নতুন চ্যাম্পিয়নের জন্ম হবে যার উত্তর মিলবে মহারণের মঞ্চেই।