সিপিএম আমলে জন্ম, তৃণমূলে রমরমা! আশ্রমের আড়ালে কোটি কোটি টাকার বালি সাম্রাজ্য চালানো ডন অজয় অবশেষে গ্রেপ্তার
দুর্গাপুর: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটতেই পুলিশের জালে ধরা পড়ল দুর্গাপুরের কুখ্যাত বালি মাফিয়া অজয় হাড়ি। বিগত তৃণমূল কংগ্রেস জমানায় শাসক দলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং প্রভাবশালী বলে পরিচিত এই মাফিয়া দীর্ঘদিন ধরে অজয় নদ থেকে বেআইনিভাবে বালি তুলে পাচারের এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল। [TECHTARANGA-POST:10614]বাম জমানায় এই অজয়ের অপরাধ জগতে উত্থান হলেও, পরিবর্তনের পর তৃণমূলের বড় বড় নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে নিজের প্রভাব কয়েকগুণ বাড়িয়ে নেয় সে। এর পর থেকেই বুক ফুলিয়ে প্রশাসনের নাকের ডগায় দেদারে বালি পাচার করে রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যায় এই ডন। অবশেষে শনিবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কাঁকসার মলানদিঘি ফাঁড়ির পুলিশ বিদবিহার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে, যা নিয়ে শিল্পাঞ্চলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।হুমায়ুন ইস্যুতে দিলীপের বার্তা— 'আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়'অজয় নদ থেকে বেআইনি বালি পাচারের টাকা দিয়ে এই মাফিয়া গড়ে তুলেছিল এক চোখধাঁধানো রাজপ্রাসাদ ও বিলাসবহুল জীবন। শুধু দামি গাড়ি বা বাড়িই নয়, তার বালি সাম্রাজ্যে দাপিয়ে বেড়াত শয়ে শয়ে ডাম্পার, ট্রাক্টর, অত্যাধুনিক বালি তোলার মেশিন এবং জেসিবি। বালি পাচারের কালো টাকা সাদা করতে পরবর্তীতে সে ইটভাটার ব্যবসাতেও হাত বাড়ায়। তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, নিজের সমস্ত পাপ ও বেআইনি কারবারকে আড়াল করতে এই মাফিয়া একটি আস্ত আশ্রমও তৈরি করেছিল। অভিযোগ, এই পবিত্র আশ্রমের আড়ালেই চলত সমস্ত অসাধু চক্র ও কালো টাকার লেনদেন। এত কিছুর পরও বিগত সরকার ও পুলিশ প্রশাসন কেন তার বিরুদ্ধে এতদিন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, তা নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।[TECHTARANGA-POST:10599]রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর বালি পাচার রুখতে প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করতেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল এই ডন। বেশ কিছুদিন ধরেই পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে বিভিন্ন ডেরায় গা ঢাকা দিয়ে বেড়াচ্ছিল অজয় হাড়ি। তবে শেষরক্ষা হলো না, মলানদিঘি ফাঁড়ির পুলিশের পাতা ফাঁদে পা দিয়েই শনিবার শ্রীঘরে ঠাঁই হলো তার। আজ, রবিবার ধৃত বালি মাফিয়াকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছে। এই কোটি কোটি টাকার বালি পাচার চক্রের শিকড় ঠিক কতটা গভীরে ছড়ানো এবং এর পেছনে প্রাক্তন শাসকদলের আর কোন কোন হেভিওয়েট নেতার হাত রয়েছে, তা জানতে ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে চাইছে পুলিশ।