তদন্তের দিনই চরম নাটকীয় মোড়! ভবানী ভবনে গেলেন না অভিষেক, সিআইডি-র কাছে পৌঁছল জরুরি চিঠি
কলকাতা: বিধানসভার হাইপ্রোফাইল সই-কেলেঙ্কারি মামলায় সিআইডি-র তলবে সোমবার হাজিরা দিলেন না তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দুপুর ১২টায় তাঁকে ভবানী ভবনে তলব করা হয়েছিল, কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে তিনি সেখানে উপস্থিত হননি। তৃণমূল এবং পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সশরীরে হাজিরা দিতে না-পারার সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করে ইতিমিধ্যেই সিআইডি-কে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন অভিষেক। গত শনিবারের এক অনভিপ্রেত ঘটনার পর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে জল্পনা চলছিল, আর এবার সেই শরীর খারাপের জেরেই রাজ্য রাজনীতির নজরকাড়া এই তদন্ত প্রক্রিয়ায় নতুন মোড় এল।[TECHTARANGA-POST:9664]অভিষেকের ঘনিষ্ঠমহল সূত্রে খবর, মূলত গুরুতর ‘শারীরিক অসুস্থতার’ কারণেই সোমবার ভবানী ভবনের মুখোমুখি হননি তিনি। ওই সূত্রের দাবি, অভিষেকের ডান দিকের চোয়াল, ঘাড় এবং বুকের আশপাশে এখনও তীব্র ব্যথা রয়েছে এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে আপাতত তিনি বাড়িতেই সম্পূর্ণ বিশ্রামে রয়েছেন। প্রসঙ্গত, গত শনিবার ভোট-পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত দলীয় কর্মীদের দেখতে গিয়ে নিজেই হামলার মুখে পড়েছিলেন অভিষেক। ওই দিন রাতেই শারীরিক জটিলতা দেখা দেওয়ায় তাঁকে প্রথমে বাইপাসের ধারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরে মিন্টো পার্কের অন্য একটি নামী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানান, হাসপাতালে ভর্তি করানোর মতো গুরুতর পরিস্থিতি না থাকলেও, তাঁকে কড়া বিশ্রামে থাকতে হবে। আর সেই শারীরিক ধকলের কারণেই সিআইডি-র গোয়েন্দাদের মুখোমুখি হতে পারলেন না তিনি।[TECHTARANGA-POST:9648]বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা, উপদলনেতা এবং মুখ্যসচেতক কে হবেন, তা নির্বাচন করা নিয়ে এক নজিরবিহীন পরিষদীয় জটিলতায় পড়েছে ঘাসফুল শিবির। গত ৪ মে ভোটের ফলঘোষণার পর, ৬ মে কালীঘাটের বাসভবনে জয়ী বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকে বসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেদিন বিধায়কেরা হাত তুলে সর্বসম্মতভাবে জানান, পরিষদীয় দলের নেতা কে হবেন তা দলনেত্রীই ঠিক করবেন। সেই মতো শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্রকে উপদলনেতা এবং ফিরহাদ হাকিমকে মুখ্যসচেতক করার কথা ঘোষণা করে বিধানসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি পাঠানো হয়। [TECHTARANGA-POST:9623]কিন্তু আইনি মারপ্যাঁচে বিধানসভার সচিব সেই চিঠি প্রত্যাখ্যান করেন, কারণ নিয়ম অনুযায়ী এই নির্বাচন পরিষদীয় দলের বৈঠকের ভেতরেই হওয়া বাধ্যতামূলক। এই জট কাটাতে গত ১৯ মে কালীঘাটে ফের বৈঠক ডেকে বিধায়কদের সই করানো হয়। অভিযোগ উঠেছে, সেই সইগুলি আসলে করানো হয়েছিল ৬ মে তারিখের ব্যাকডেটেড কার্যবিবরণীতে। দুই জায়গার সই ও তারিখের এই চরম গরমিল ঘিরেই তৈরি হয়েছে মূল আইনি জট, যার তদন্তে নেমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করেছিল সিআইডি। কিন্তু প্রথম দিনেই অভিষেকের চিঠি পাঠানোয় এই মামলা এখন কোন দিকে ঘোরে, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।