বঙ্গোপসাগর কি এখন মৃত্যুফাঁদ? শংকরপুরের পর ফের ট্রলারডুবিতে উদ্বেগে মৎস্যজীবী মহল
বকখালির উপকূল থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে গভীর সমুদ্রে ডুবে গেল ইলিশ ধরার একটি ট্রলার। অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন ১২ মৎস্যজীবী। শংকরপুরের ট্রলার দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে মৎস্যজীবী মহলে।[TECHTARANGA-POST:10894]ফের বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবির ঘটনা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বকখালির উপকূল থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে গভীর সমুদ্রে দুর্ঘটনার কবলে পড়ল একটি মাছ ধরার ট্রলার। তবে এই ঘটনায় স্বস্তির খবর, ট্রলারে থাকা ১২ জন মৎস্যজীবীকেই জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনাইটেড ফিশারমেন ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘এফ বি সিদ্ধিবিনায়ক’ নামে ট্রলারটি কাকদ্বীপের বাসিন্দা লক্ষীনারায়ণ দাসের। গত ১০ জুলাই সাগরদ্বীপের বেনুবন এলাকা থেকে ইলিশ ধরতে গভীর সমুদ্রে রওনা দিয়েছিল ট্রলারটি। মাছ ধরে সোমবার রাতে ফেরার পথে বিপত্তি ঘটে। মৎস্যজীবীদের দাবি, উত্তাল সমুদ্রে ট্রলারের নীচের অংশে ফাটল ধরে। সেখান দিয়ে দ্রুত জল ঢুকতে শুরু করে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্রলারটি ডুবতে থাকে। প্রাণ বাঁচাতে আর্তনাদ শুরু করেন মৎস্যজীবীরা। প্রবল ঢেউয়ের মধ্যে কোনওক্রমে ভেসে থাকার চেষ্টা করেন তাঁরা।চিৎকার শুনে আশপাশে থাকা কয়েকটি ট্রলার দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। শেষ পর্যন্ত ১২ জন মৎস্যজীবীকেই জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনাইটেড ফিশারমেন ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সম্পাদক বিজন মাইতি জানিয়েছেন, ট্রলারটি এখনও উদ্ধার করা যায়নি। উদ্ধার হওয়া মৎস্যজীবীদের মধ্যে কয়েকজনকে ইতিমধ্যেই নামখানার ঘাটে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সকলেই সুস্থ রয়েছেন বলে খবর। এই ঘটনার নেপথ্যে উত্তাল সমুদ্রকেই দায়ী করছেন মৎস্যজীবীরা। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে একটি সক্রিয় ঘূর্ণাবর্তের জেরে সমুদ্রের পরিস্থিতি অস্বাভাবিক রয়েছে। প্রশাসনের তরফে আগামী কয়েকদিন মৎস্যজীবীদের সতর্ক থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:10923]উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই পূর্ব মেদিনীপুরের শংকরপুর থেকে ১৫ জন মৎস্যজীবীকে নিয়ে রওনা হওয়া ‘জয় মা কালী’ ট্রলারটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রায় এক সপ্তাহ পর বকখালি উপকূলের কাছে উল্টে থাকা অবস্থায় ট্রলারটির খোঁজ মেলে। তার ভিতর থেকে উদ্ধার হয় ১০ জন মৎস্যজীবীর দেহ। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বেশ কয়েকজন।