কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে এবার নতুন করে চরম উৎকণ্ঠার মুখে পড়লেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা। প্রাথমিকে বিপুল সংখ্যক এই চাকরি বাতিলের মামলাটি সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এদিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি সতীশ চন্দ্র শর্মার ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটি গ্রহণ করে সমস্ত পক্ষকে নোটিশ জারি করেছে এবং আগামী অগাস্ট মাসের তৃতীয় সপ্তাহে এর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:9239] মামলাটি শোনার সময় বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের একটি পর্যবেক্ষণকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে শিক্ষা মহলে; তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমাদের দেখতে হবে শিশুদের ভবিষ্যৎ যাঁদের ওপর ন্যস্ত আছে, তাঁরা প্রকৃত অর্থেই যোগ্য কিনা!” উল্লেখ্য, এই মামলার ইতিহাস বেশ দীর্ঘ এবং নাটকীয়। ২০১৬ সালের প্রাথমিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম এবং অ্যাপটিটিউড টেস্ট না নেওয়ার অভিযোগ তুলে ২০২৩ সালের ১২ মে কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এই ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিলের এক নজিরবিহীন নির্দেশ দিয়েছিলেন। [TECHTARANGA-POST:9223]সিঙ্গল বেঞ্চের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে শিক্ষকরা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হলে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ মানবিকতার খাতিরে সেই নির্দেশ খারিজ করে দেয়। ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ ছিল, বিগত প্রায় নয় বছর ধরে চাকরি করা এই শিক্ষকদের পঙ্গু করে দেওয়া যায় না এবং তাঁদের পরিবারের কথা ভেবেই চাকরি বহাল রাখা হয়। কিন্তু ডিভিশন বেঞ্চের সেই স্বস্তির রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ। অবশেষে শীর্ষ আদালত এই মামলাটি গ্রহণ করায় এবং বিচারপতির কড়া মন্তব্যের জেরে নয়া সরকারের জমানাতেও ৩২ হাজার শিক্ষকের ভাগ্য ফের সুতোয় ঝুলতে শুরু করল।
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার