সমুদ্র থেকে ফিরল না ‘মা কালী’! ট্রলারে মিলল আরও ৪ দেহ, শোকের ছায়া মৎস্যজীবী মহলে
শঙ্করপুরের ‘মা কালী’ ট্রলারকাণ্ডে ক্রমশ বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। রবিবার বকখালির উপকূল থেকে উদ্ধার হওয়া ট্রলারটিতে রাতভর তল্লাশি চালিয়ে আরও চার মৎস্যজীবীর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে পাঁচজনের দেহ মিলেছিল। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৬ জন মৎস্যজীবী।[TECHTARANGA-POST:10862]সোমবার ভোর পর্যন্ত প্রশাসনিক আধিকারিক, পুলিশ, বনদপ্তর এবং মৎস্যজীবীরা যৌথভাবে ট্রলারের ভিতরে তল্লাশি চালান। মাছ ধরার জাল বা ট্রলারের বিভিন্ন অংশে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়। তবে প্রশাসনের একাংশের আশঙ্কা, দুর্ঘটনার সময় কয়েকজন মৎস্যজীবী উত্তাল সমুদ্রের ঢেউয়ে ভেসে যেতে পারেন। রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান সুন্দরবন উন্নয়ন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী দীপঙ্কর জানা। পাথরপ্রতিমার গোবর্ধনপুরের সীতারামপুরে গিয়ে তিনি উদ্ধারকাজের তদারকি করেন। উপস্থিত ছিলেন কাকদ্বীপ মহকুমা প্রশাসনের আধিকারিক, সুন্দরবন পুলিশ জেলার আধিকারিক, বনদপ্তরের কর্মী এবং মৎস্যজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।[TECHTARANGA-POST:10872]জানা গিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘার শঙ্করপুর বন্দর থেকে গত ২ জুলাই মাছ ধরতে সমুদ্রে পাড়ি দিয়েছিল ‘মা কালী’ ট্রলারটি। ৫ জুলাইয়ের পর থেকে ট্রলারের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর থেকেই পুলিশ, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, বনদপ্তর এবং মৎস্যজীবী সংগঠনগুলির যৌথ তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। অবশেষে রবিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বকখালি উপকূল থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে চুলকাঠির জঙ্গলের কাছে বাঘেরচর এলাকায় উল্টে থাকা অবস্থায় ট্রলারটির সন্ধান মেলে। যৌথ অভিযানে ট্রলারটিকে উদ্ধার করে সীতারামপুর ঘাটে নিয়ে আসা হয়। এরপর তল্লাশি চালিয়ে একে একে উদ্ধার হয় ৯ জন মৎস্যজীবীর দেহ। উদ্ধার হওয়া দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য কাকদ্বীপ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিখোঁজদের খোঁজে এখনও তল্লাশি অভিযান চলছে।