নিট ইস্যুতে উত্তাল দেশ। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে ছাত্র-যুবদের আন্দোলনের জেরে ইস্তফা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রীর। তবুও বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। এবার নিট পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে আদালতে জাল নথি জমা দিয়ে মামলা করার অভিযোগ উঠল কয়েকজন পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। আর সেই ঘটনাতেই কড়া বার্তা দিল কলকাতা হাই কোর্ট।শুক্রবার বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে এই মামলার শুনানি হয়। ঘটনার সূত্রপাত, কয়েকজন পরীক্ষার্থী অভিযোগ করেন যে, এনটিএ তাঁদের প্রকৃত নম্বর দেয়নি। সেই অভিযোগে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার শুনানিতে এনটিএ-কে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। আর সেই রিপোর্টেই উঠে আসে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এনটিএ আদালতকে জানায়, প্রকৃত নম্বর গোপন করে ভুয়ো তথ্যের ভিত্তিতে মামলা করা হয়েছে। এমনকি দাবি করা হয়, এক পরীক্ষার্থী তিনটি আলাদা স্কোরকার্ড জমা দিয়েছেন। তদন্তে জানা যায়, আদালতে জমা দেওয়া স্কোরকার্ডটি ২০২৫ সালের, অথচ মামলাটি অন্য পরীক্ষার ফল নিয়ে। শুধু তাই নয়, জমা দেওয়া OMR শিটও বিকৃত বলে অভিযোগ। এনটিএ-র আইনজীবী আদালতে জানান, সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীর জমা দেওয়া সমস্ত নথিই জাল ও বিকৃত। সেই কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ওই পরীক্ষার্থী আগামী তিন বছর পরীক্ষায় বসতে পারবে না।[TECHTARANGA-POST:11365]এদিকে, অন্য এক পরীক্ষার্থী দাবি করেছিলেন, তাঁর ফলাফলে ৩৭০ নম্বরের গরমিল হয়েছে। কিন্তু এনটিএ-র রিপোর্টে সেই অভিযোগও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করা হয়। এরপর আদালতের পর্যবেক্ষণের আগেই ওই পরীক্ষার্থী মামলা প্রত্যাহারের আবেদন জানান। রিপোর্ট খতিয়ে দেখে বিচারপতি অমৃতা সিনহা বলেন, "জাল নথি দিয়ে আদালতকে প্রতারিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।" এরপর মামলাটি খারিজ করে এনটিএ-কে অভিযুক্ত পরীক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমতি দেন।