২১ জুলাইয়ের আগেই মমতার শিবিরে বড় ধাক্কা, তৃণমূল ছাড়লেন মণীশ গুপ্ত
তৃণমূলের ভাঙন যেন থামার নামই নিচ্ছে না। সাংসদ, বিধায়কদের পর এবার দল ছাড়ার ঘোষণা করলেন প্রাক্তন আমলা ও তৃণমূল নেতা মণীশ গুপ্ত। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের ঠিক আগে তাঁর এই সিদ্ধান্ত নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা উসকে দিয়েছে।[TECHTARANGA-POST:11005]বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মণীশ গুপ্ত জানান, তিনি আর তৃণমূলে থাকতে চান না। তাঁর কথায়, “এই দলটায় আমার আর কিছু করার নেই। তাই অযথা সময় নষ্ট না করে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পরে অবশ্যই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দেব।” মণীশ গুপ্তর দলত্যাগের সময়টাও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের মহাকরণ অভিযানে পুলিশের গুলিতে ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর নাম দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। সে সময় তিনি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই মণীশ গুপ্তকেই তৃণমূলে নিয়ে এসে মন্ত্রী ও বিধায়ক করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।[TECHTARANGA-POST:10979]সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ শিবিরের তরফে ফের তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া কাকলি ঘোষ দস্তিদার প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলেন, ১৯৯৩-এর গুলিকাণ্ডে বিতর্কিত এক ব্যক্তিকে কেন কোনও তদন্ত ছাড়াই তৃণমূলে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এমনকি নতুন করে তদন্তের দাবিও ওঠে। এদিন শুধু দল ছাড়ার কথাই বলেননি তিনি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন। মণীশ গুপ্ত বলেন, “এখন যিনি মুখ্যমন্ত্রী, শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত দক্ষ প্রশাসক। আমি আশা করি, তাঁর নেতৃত্বে বাংলা নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে।” এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। তাহলে কি তিনিও বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পথে? যদিও এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিতে চাননি মণীশ গুপ্ত।