স্কুলে ঢুকতে না দেওয়াই কি ডেকে আনল মৃত্যু? নদীতে স্নান করতে নেমে তলিয়ে গেল ১০ম শ্রেণির ৩ ছাত্র!
আসানসোল: শনিবার স্কুলে না আসার ‘শাস্তি’ হিসেবে সোমবার ক্লাসে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। গেট থেকেই বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল দশম শ্রেণির পড়ুয়াদের। কিন্তু বাড়ি না ফিরে বন্ধুদের সাথে নদীর ধারে খেলতে যাওয়াই যে এভাবে কাল হবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। [TECHTARANGA-POST:10405]১৫ জুলাই পর্যন্ত বাড়ল মর্নিং স্কুলের মেয়াদ? নদীতে স্নান করতে নেমে জলে ডুবে মর্মান্তিক মৃত্যু হলো ৩ স্কুল ছাত্রের। আসানসোলের কুলটি থানার ডিশেরগড় এলাকার দামোদর নদীর চরে এই শিউরে ওঠার মতো ঘটনাটি ঘটেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেমন নিয়ামতপুর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে, তেমনই স্কুলের ভূমিকা নিয়েও উঠছে একাধিক প্রশ্ন।[TECHTARANGA-POST:10406]স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ৩ ছাত্রই কুলটির নিয়ামতপুর এলাকার একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল। শনিবার তারা কোনো কারণে স্কুলে অনুপস্থিত থাকায়, সোমবার সকালে স্কুলে এলে প্রধান শিক্ষক বা স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের ঢুকতে না দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। স্কুল ছুটি হয়ে যাওয়ায় ওই ৩ পড়ুয়াসহ মোট ৮ বন্ধু মিলে ডিশেরগড় নদীর ধারে খেলতে চলে যায়। বেশ কিছুক্ষণ খেলাধুলো করার পর দুপুরের দিকে গরমের হাত থেকে বাঁচতে তারা নদীতে স্নান করার সিদ্ধান্ত নেয়। সাঁতার না জানা সত্ত্বেও ওই ৩ পড়ুয়া নদীর গভীর জলের দিকে এগিয়ে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে তলিয়ে যেতে থাকে।[TECHTARANGA-POST:10403]বন্ধুদের চোখের সামনেই ৩ জনকে ডুবে যেতে দেখে নদীর পাড়ে থাকা বাকি পড়ুয়ারা চিৎকার করতে করতে বড়দের ডাকতে ছোটেন। স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং খবর দেওয়া হয় কুলটি থানার পুলিশকে। পুলিশ ও স্থানীয় ডুবুরিদের বেশ কিছুক্ষণের প্রচেষ্টায় নদী থেকে ওই ৩ ছাত্রকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু পরীক্ষা করার পর চিকিৎসকরা তাদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। দেহগুলি ময়নাতদন্তে পাঠিয়ে পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ কেন নাবালক ছাত্রদের অভিভাবকদের না জানিয়ে গেট থেকে তাড়িয়ে দিল, তা-ও খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।