অনুব্রত-ঘনিষ্ঠের আত্মীয়ের বাড়িতে হানা, উদ্ধার ৩২ কোটি নগদ ও বিপুল সোনা!
বীরভূম: বাসচালক পেশায়, অথচ তাঁরই সাধারণ টালির চালে থরে থরে সাজানো কোটি কোটি টাকা আর কেজি কেজি সোনা! বীরভূমের বহুল আলোচিত পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের এক আত্মীয়ের বাড়িতে মঙ্গলবার গভীর রাতে পুলিশ হানা দিতেই বেরিয়ে এল চোখ কপালে তোলার মতো তথ্য। রাত গড়িয়ে সকাল পার হলেও তল্লাশি অভিযান থামেনি। আনুমানিক ৩০ থেকে ৩২ কোটি টাকা নগদ এবং ৮ থেকে ১০ কেজি সোনা উদ্ধারের গুঞ্জনে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে এলাকা জুড়ে। উদ্ধার করা টাকা গণনার জন্য আনা হয়েছে মোট পাঁচটি নোট গোনার যন্ত্র এবং সেই বিশাল পরিমাণ অর্থ বহন করার জন্য পুলিশকে আনতে হয়েছে দু’টি বড় লোহার ট্রাঙ্ক।স্থানীয় সূত্রের খবর, মঙ্গলবার গভীর রাতে আচমকাই টুলুর আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়ি ঘিরে ফেলে পুলিশের বিশাল একটি বাহিনী। ভেতরে ঢুকেই তল্লাশি চালাতে শুরু করেন তদন্তকারীরা। তল্লাশি চলাকালীন সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা অগণিত টাকার বান্ডিল ও সোনার গয়না দেখে হতবাক হয়ে যান আধিকারিকেরা। রাতভোর অভিযানের পর বুধবার সকালেও পুলিশের বড় দল বাড়িটি ঘিরে রেখে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও পুলিশের তরফে অফিশিয়ালি এখনও উদ্ধার হওয়া চূড়ান্ত পরিসংখ্যান জানানো হয়নি, তবে কোটি কোটি টাকার পাহাড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিশ কর্মীদের।অভিযুক্ত মিনার মণ্ডল পেশায় একজন সরকারি বাসের চালক হলেও বাস্তবে টুলু মণ্ডলের একাধিক পাথর খাদানের ব্যবসা দেখভাল করতেন বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি। বীরভূমের রাজনীতিতে এক সময় অনুব্রত মণ্ডলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন পাথর ব্যবসায়ী টুলু। তাঁর বিরুদ্ধে বেআইনি খাদান চালানো এবং গরু পাচার কাণ্ডে জড়িত থাকারও অভিযোগ ওঠে, যার জেরে ২০২২ সালে তাঁর বাড়ি-অফিসে হানা দিয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। এ দিনের ঘটনার পর সাঁইথিয়ার বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহা কটাক্ষ করে বলেন, "রাজ্যে চোর, ডাকাত ও সিন্ডিকেট রাজ বন্ধ হচ্ছে। যাঁরা বলেছিলেন খেলা হবে, তাঁরা এখন বাস্তব খেলা দেখতে পাচ্ছেন। দুর্নীতিতে জড়িয়ে থাকা এই সমস্ত টাকা উদ্ধার করে সাধারণ মানুষের কাজে লাগানো হোক।" পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে মিনার মণ্ডলের ঘরে মজুত এই বিপুল পরিমাণ কালো টাকার নেপথ্যে মূল হাত কার।[TECHTARANGA-POST:11326]হিডেন স্টোরিজ নিউজ