বারুইপুর: বারুইপুরে নাবালিকা গণধর্ষণ ও খুন কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যু ঘিরে এবার নজিরবিহীন রাজনৈতিক যুদ্ধ শুরু হলো বঙ্গে। মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে পালাতে গিয়ে গুলিতে প্রভাসের খতম হওয়ার ঘটনাকে একদল যখন 'দৈববিচার' বলে স্বাগত জানাচ্ছে, অন্যদল তখন এর মধ্যে দেখছে আইনের চরম লঙ্ঘন। এই এনকাউন্টারকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন শাসকদল বিজেপির সঙ্গে বিরোধী তৃণমূল ও কংগ্রেসের সংঘাত চরম সীমায় পৌঁছেছে, তেমনই খোদ তৃণমূলের অন্দরেও তৈরি হয়েছে স্পষ্ট দুই মেরু।বারুইপুরে নির্যাতিতার পরিবারের পাশে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুমাঝরাতের এই এনকাউন্টার নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রথম বিস্ফোরণটি ঘটান কালীঘাটপন্থী তৃণমূল নেত্রী তথা সাংসদ মহুয়া মৈত্র। বর্তমান শুভেন্দু অধিকারীর সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, "পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, এ সব কী হচ্ছে?" এর পরেই তাঁর শাণিত কটাক্ষ, "বাঙালিরা দয়া করে নতুন বাংলা— অর্থাৎ উত্তরপ্রদেশ ২.০-কে স্বাগত জানান।" বিজেপি সরকারকে 'জঙ্গলের আইন' বলে তোপ দাগার পাশাপাশি রাজ্যে বুলডোজার সংস্কৃতির পর এবার এনকাউন্টার মডেল আমদানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই এনকাউন্টার নিয়ে তৃণমূলের অন্দরেই অন্য সুর শোনা যাচ্ছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবিরের নেত্রী তথা বিধায়ক শিউলি সাহা সরাসরি সরকারের পাশেই দাঁড়িয়েছেন। তাঁর দাবি, আইনে এনকাউন্টারের বিধান রয়েছে এবং কোনো অপরাধী পালাবার চেষ্টা করলে পুলিশ সঠিক পদক্ষেপই করেছে। তিনি আরজি কর কাণ্ডের পর তৃণমূল জমানায় আনা 'অপরাজিতা বিল'-এর প্রসঙ্গ টেনে ধর্ষকদের এমন চূড়ান্ত শাস্তির পক্ষেই সওয়াল করেন, যদিও এই প্রক্রিয়া যেন সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকে সেই বিষয়েও সতর্ক করেছেন তিনি।[TECHTARANGA-POST:10720]অন্যদিকে, এই এনকাউন্টারকে অপরাধীদের বিরুদ্ধে এক কড়া 'উদাহরণ' এবং 'দৈববিচার' বলে উল্লেখ করেছে শাসকদল বিজেপি। পদ্ম শিবিরের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সাফ জানান, কোনো অপরাধী যে আর কোনো রাজনৈতিক নেতার আশীর্বাদে পার পাবে না, এই ঘটনা তারই প্রমাণ। একই সঙ্গে তিনি পূর্বতন তৃণমূল জমানার কামদুনি কাণ্ডের ফাইল নতুন করে খোলারও দাবি তোলেন। তবে এই এনকাউন্টার সংস্কৃতির তীব্র বিরোধিতা করেছে কংগ্রেস। পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এবং ছাত্র পরিষদের সভানেত্রী প্রিয়াঙ্কা চৌধুরী এই ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি তুলেছেন। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখা উচিত এবং কোনো এনকাউন্টারের পথে না হেঁটে আদালতের মাধ্যমেই অপরাধ প্রমাণ করে সর্বোচ্চ সাজা বা ফাঁসি দেওয়া উচিত। সব মিলিয়ে, বারুইপুরের সূর্যপুরের পুকুর থেকে উদ্ধার হওয়া নাবালিকার নির্মম খুনের ঘটনাটি এখন রাজ্য রাজনীতির এক জলজ্যান্ত বারুদ তৈরি করে দিয়েছে।
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার