নয়াদিল্লি: দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে জাতীয় রাজনীতিতে যে আগুন জ্বলে উঠেছে, তার আঁচ এবার আছড়ে পড়ল নির্বাচন কমিশনের কর্মসূচিতেও। বিরোধী দলগুলোর লাগাতার আন্দোলন, সিজেপি-র ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম এবং সুপ্রিম কোর্টের কড়া অবস্থানের মুখে পড়ে শেষমেশ নিজের দু’দিনের ছত্তীসগঢ় সফর স্থগিত রাখতে বাধ্য হলেন জ্ঞানেশ কুমার। বুধবার কমিশনের অন্য শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে তাঁর রাজ্যটিতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ছত্তীসগঢ়ের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-এর দপ্তর থেকে আচমকাই ‘অনিবার্য কারণ’ দর্শিয়ে এই সফর স্থগিতের কথা ঘোষণা করা হয়।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ছত্তীসগঢ়ের বিজেপি সরকার প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ‘রাজ্যের অতিথি’ হিসেবে আপ্যায়ন করার সবরকম জমকালো প্রস্তুতি সেরে রেখেছিল। দন্তেওয়াড়ার দন্তেশ্বরী মন্দির থেকে শুরু করে বস্তারের চিত্রকোট জলপ্রপাত ও ভোরামদেও মন্দির দর্শন—প্রতিটি স্থানের নিরাপত্তা চূড়ান্ত করেছিল রায়পুর পুলিশ-প্রশাসন। কিন্তু সফর বাতিলের ফলে সব আয়োজনেই জল ঢেলে গেল। ঘটনাচক্রে, উত্তরপ্রদেশ, লাদাখ, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডের পর এবার ছত্তীসগঢ়েও জ্ঞানেশের সফর এভাবে স্থগিত হয়ে যাওয়া নিয়ে এখন উত্তাল রাজনৈতিক অলিন্দ।
এই বিতর্ককে তুঙ্গে নিয়ে গেছে মঙ্গলবারের রাজপথের উত্তাপ। ‘ভোটচুরি’ ও বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ইস্তফা চেয়ে মঙ্গলবার সংসদ চত্বর থেকে নির্বাচন সদনের দিকে হাঁটেন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সাংসদেরা। পুলিশি বাধায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সরাসরি আকাশবাণী ভবন চত্বরে ঢুকে পড়ে ধর্নায় বসেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাড্রা। পুলিশ তাঁদের আটক করে নিউ পুলিশ লাইন্সে নিয়ে গেলেও আন্দোলনের ঝাঁজ বিন্দুমাত্র কমেনি। শনিবার থেকে যন্তর মন্তরে টানা বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
একদিকে যখন বিরোধী শিবিরের আন্দোলন তুঙ্গে, অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টেও বড় ধাক্কা খেয়েছে কমিশন। ফর্ম ৬-এর বিতর্কিত পরিবর্তন নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রকে নোটিস পাঠিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে জবাব তলব করেছে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ। একইসঙ্গে, একটি ইংরেজি দৈনিকের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যে দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তি উড়িয়েই কমিশন স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। চতুর্মুখী রাজনৈতিক ও আইনি চাপে কার্যত কোণঠাসা কমিশন যদিও দাবি করছে কর্মসূচির তারিখ পরিবর্তন খুবই স্বাভাবিক ঘটনা, তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে—দেশজুড়ে বাড়তে থাকা এই তুমুল ক্ষোভের চাপ সামলাতেই কার্যত আত্মরক্ষার পথ বেছে নিচ্ছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন