আসানসোল: শহরের রাস্তায় যত্রতত্র পানের পিক বা থুতু ফেলা কিংবা ময়লা ফেলার বাজে অভ্যাস রয়েছে? তবে সাবধান! একটু অসতর্ক হলেই আপনার সেই কীর্তি ধরা পড়বে স্বয়ংক্রিয় সিসিটিভি ক্যামেরায়, আর নিমেষেই পকেট থেকে খসবে মোটা অঙ্কের জরিমানা। শহরকে জঞ্জালমুক্ত ও সুন্দর রাখতে এমনই কড়া দাওয়াই প্রয়োগ করল আসানসোল পুরনিগম। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের হুঁশিয়ারির পর সেপ্টেম্বর মাসের শুরু থেকেই পুরোদমে ময়দানে নেমেছে প্রশাসন। আর অভিযান শুরু হতেই চমকে ওঠার মতো ফলাফল—মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় অনিয়মকারীদের থেকে ১ লক্ষ টাকারও বেশি জরিমানা আদায় করে নজির গড়েছে পুলিশ ও পুর প্রশাসন।
শহরের রূপ ফেরাতে আসানসোল পুরনিগমের তুরুপের তাস এখন ‘এএমসি সিটি ওয়াচ’। শহরের ১০টি বরো এলাকার অলিগলিতে নজরদারি চালাতে নামানো হয়েছে কমলা, কালো ও সাদা রঙের সুসজ্জিত ১০টি বিশেষ গাড়ি। এই গাড়িগুলির মূল আকর্ষণ হল ছাদে বসানো সর্বাধুনিক ‘মুভেবল সিসি ক্যামেরা’, যা ৩৬০ ডিগ্রি কোণে ঘুরতে পারে। শহরের কোথাও প্রকাশ্যে আবর্জনা ফেলা হচ্ছে কি না, রাস্তায় থুতু ফেলা বা প্রকাশ্যে মূত্রত্যাগের মতো ঘটনা ঘটছে কি না—সবটাই রিয়েল-টাইমে নিখুঁতভাবে লেন্সবন্দি করছে এই হাইটেক ক্যামেরা। ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে হাতেনাতে পাকড়াও করা হচ্ছে আইনভঙ্গকারীদের।
এই অভিনব ডিজিটাল নজরদারি প্রসঙ্গে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট জানিয়েছেন, শহরের স্বচ্ছতা রক্ষায় এই গাড়িগুলি নিরন্তর তথ্য সংগ্রহ করে নজরদারি চালাবে। তবে নোংরা ফেলার দায়ে জরিমানা করার মূল ক্ষমতা তুলে দেওয়া হয়েছে সাফাইকর্মী ও ‘স্বচ্ছ বন্ধু’দের হাতেই, যাঁরা দিনরাত শহর পরিষ্কারের লড়াই লড়েন। এর আগে স্বয়ংক্রিয় ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ও ‘স্বচ্ছ অ্যাপ’-এর সাফল্যের পর পুরনিগমের এই ‘ক্যামেরা গাড়ি’কে যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন আসানসোলবাসী। প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপে রাস্তাঘাটে নোংরা ফেলার প্রবণতা যেমন নাটকীয়ভাবে কমছে, তেমনই সাধারণ মানুষের মধ্যেও বাড়ছে নাগরিক সচেতনতা।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন