নয়াদিল্লি: স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় ও তীব্র বিরোধিতার মাঝেই এক বিরাট সিদ্ধান্ত নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের ১৭টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এবার শুরু হতে চলেছে স্পেশাল সামারি রিভিশন বা এসএসআর (SSR)। বৃহস্পতিবার কমিশনের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন কর্মসূচির কথা ঘোষণা করা হয়েছে। কমিশনের মূল লক্ষ্য— বাদ পড়া বৈধ ভোটারদের নাম পুনরায় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি অনুযায়ী নতুন যোগ্যতা অর্জনকারী নাগরিকদের ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করা।
সারা দেশজুড়ে বিতর্কিত এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সরব হয়ে বিরোধীরা দাবি তোলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বহু বৈধ ভারতীয় নাগরিকের নাম তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে। বিতর্ক এতটাই তুঙ্গে পৌঁছায় যে, খোদ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এহেন উত্তাল আবহে ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার ও বাদ পড়া ভোটারদের ফের তালিকায় যুক্ত করতে নতুন করে এই বিশেষ অভিযান বা এসএসআর ঘোষণা করল কমিশন।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ, বিহারের মতো যেসব রাজ্যে ইতোমধ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, সেখানেও এই নতুন ভোটার নথিভুক্তকরণ ও সংশোধনের কাজ চলবে। এমনকি যেসব রাজ্যে এখনও এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে, সেখানেও এই সমীক্ষা শুরু হবে; তবে আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ এবং লাদাখের জন্য আলাদাভাবে সূচি ঘোষণা করা হবে। নতুন এই প্রক্রিয়ায় এখন থেকে বিএলও (BLO)-রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের খুঁজে বের করবেন এবং সরাসরি ‘ফর্ম সিক্স’ পূরণ করাবেন। অন্যদিকে, রাজনৈতিক দলগুলির বুথ লেভেল এজেন্ট (BLA)-রা প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১০টি করে আবেদনপত্র সংশ্লিষ্ট বিএলও-র কাছে জমা দিতে পারবেন।
কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ১২ নভেম্বর প্রকাশিত হবে ভোটার তালিকার খসড়া। এরপর দাবি ও আপত্তি খতিয়ে দেখে যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষে আগামী বছরের ৪ জানুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি যাঁদের বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি হবে, তাঁরা প্রত্যেকেই এই রিভিশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার হওয়ার সুযোগ পাবেন। ভোটাধিকার বাতিলের অভিযোগ ঘিরে যখন তোলপাড় গোটা দেশ, তখন কমিশনের এই বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তৈরির উদ্যোগ নাগরিকদের আস্থ ফেরাতে কতটা সফল হয়, এখন সেটাই দেখার।

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন