Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

বহুতলের সুইমিং পুলে স্কুলছাত্রীর দেহ, ৮ তলার ফায়ার এক্সিট থেকেই কি মরণঝাঁপ?

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বহুতলের সুইমিং পুলে স্কুলছাত্রীর দেহ, ৮ তলার ফায়ার এক্সিট থেকেই কি মরণঝাঁপ?
প্রতীকী ছবি

কলকাতা: মাঝরাতে বিকট শব্দে কেঁপে উঠেছিল ইএম বাইপাসের ধারের বিলাসবহুল বহুতল আবাসন। ছুটে গিয়ে নিরাপত্তারক্ষীরা দেখেন, সুইমিং পুলের জলে ভাসছে এক কিশোরীর নিথর দেহ। শহরের এক নামী ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের দশম শ্রেণির ওই ছাত্রীর মর্মান্তিক এই পরিণতিকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ কলকাতায় চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সে কি নিছকই অবসাদগ্রস্ত হয়ে বহুতল থেকে ঝাঁপ দিল, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে অন্য কোনো অন্ধকার ষড়যন্ত্র—তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর ধোঁয়াশা। ইতিমধ্যে ছাত্রীর মা পূর্ব যাদবপুর থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দায়ের করে মেয়েকে খুনের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেননি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মুকুন্দপুরের ওই আবাসনের ছয়তলার ফ্ল্যাটে বাবার সঙ্গেই থাকত ১৫ বছরের ওই কিশোরী। ঘটনার দিন রাত প্রায় দেড়টা নাগাদ সুইমিং পুলে কিছু পড়ার বিকট শব্দ শোনেন রক্ষীরা। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক তদন্তে দুর্ঘটনা বলে মনে হলেও তদন্ত এগোতেই ঘটনার মোড় ঘুরে যায় আবাসনের আটতলায়। ওই তলের একটি ফায়ার এক্সিট ব্যালকনি থেকে উদ্ধার হয় ছাত্রীর মোবাইল ফোনটি। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, কিশোরীর ঘাড় ও পায়ে একাধিক গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তার মৃত্যু হয়েছে জলে ডুবে। পুলিশের অনুমান, আটতলা থেকে ঝাঁপ দেওয়ার সময় ছয়তলার একটি বারান্দায় প্রচণ্ড ধাক্কা খায় সে, যার ফলে সেখানে রক্তের দাগও পাওয়া গিয়েছে। সেখান থেকে সোজা ছিটকে পড়ে আবাসনের নিচের সুইমিং পুলে।

তবে ঘটনার পেছনে একাধিক অমীমাংসিত প্রশ্ন তদন্তকারীদের ভাবিয়ে তুলছে। ওই অংশের বারান্দাগুলি সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারির বাইরে থাকায় কোনো প্রত্যক্ষ ফুটেজ মেলেনি। তদন্তে উঠে এসেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে ছাত্রীর মা-বাবার বিচ্ছেদ ঘটে এবং সে বাবার কাছেই বড় হচ্ছিল। বাবার দাবি, বর্তমানে পরীক্ষা চলছিল এবং অঙ্ক ও বাংলা নিয়ে চরম মানসিক চাপে ভুগছিল মেয়েটি। তবে খাতা বা মোবাইলে কোনো সুইসাইড নোট মেলেনি, উপরন্তু রাত সোয়া একটা নাগাদও সে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েছিল। মাত্র পনেরো মিনিটের মধ্যে ছয়তলার বাসিন্দা কিশোরী কেন ও কীভাবে আটতলায় গেল, কিংবা সেই রাতে ঠিক কী ঘটেছিল যা তাকে এমন চরম পরিণতির দিকে ঠেলে দিল—তা খতিয়ে দেখতে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে পুলিশ।

হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বিষয় : BreakingNews KOLKATAPOLICE KolkataNews CRIMEUPDATE HiddenStoriesNews EMBYPASS MysteryDeath

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বহুতলের সুইমিং পুলে স্কুলছাত্রীর দেহ, ৮ তলার ফায়ার এক্সিট থেকেই কি মরণঝাঁপ?

প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
কলকাতা: মাঝরাতে বিকট শব্দে কেঁপে উঠেছিল ইএম বাইপাসের ধারের বিলাসবহুল বহুতল আবাসন। ছুটে গিয়ে নিরাপত্তারক্ষীরা দেখেন, সুইমিং পুলের জলে ভাসছে এক কিশোরীর নিথর দেহ। শহরের এক নামী ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের দশম শ্রেণির ওই ছাত্রীর মর্মান্তিক এই পরিণতিকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ কলকাতায় চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সে কি নিছকই অবসাদগ্রস্ত হয়ে বহুতল থেকে ঝাঁপ দিল, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে অন্য কোনো অন্ধকার ষড়যন্ত্র—তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর ধোঁয়াশা। ইতিমধ্যে ছাত্রীর মা পূর্ব যাদবপুর থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দায়ের করে মেয়েকে খুনের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেননি।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মুকুন্দপুরের ওই আবাসনের ছয়তলার ফ্ল্যাটে বাবার সঙ্গেই থাকত ১৫ বছরের ওই কিশোরী। ঘটনার দিন রাত প্রায় দেড়টা নাগাদ সুইমিং পুলে কিছু পড়ার বিকট শব্দ শোনেন রক্ষীরা। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক তদন্তে দুর্ঘটনা বলে মনে হলেও তদন্ত এগোতেই ঘটনার মোড় ঘুরে যায় আবাসনের আটতলায়। ওই তলের একটি ফায়ার এক্সিট ব্যালকনি থেকে উদ্ধার হয় ছাত্রীর মোবাইল ফোনটি। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, কিশোরীর ঘাড় ও পায়ে একাধিক গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তার মৃত্যু হয়েছে জলে ডুবে। পুলিশের অনুমান, আটতলা থেকে ঝাঁপ দেওয়ার সময় ছয়তলার একটি বারান্দায় প্রচণ্ড ধাক্কা খায় সে, যার ফলে সেখানে রক্তের দাগও পাওয়া গিয়েছে। সেখান থেকে সোজা ছিটকে পড়ে আবাসনের নিচের সুইমিং পুলে।তবে ঘটনার পেছনে একাধিক অমীমাংসিত প্রশ্ন তদন্তকারীদের ভাবিয়ে তুলছে। ওই অংশের বারান্দাগুলি সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারির বাইরে থাকায় কোনো প্রত্যক্ষ ফুটেজ মেলেনি। তদন্তে উঠে এসেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে ছাত্রীর মা-বাবার বিচ্ছেদ ঘটে এবং সে বাবার কাছেই বড় হচ্ছিল। বাবার দাবি, বর্তমানে পরীক্ষা চলছিল এবং অঙ্ক ও বাংলা নিয়ে চরম মানসিক চাপে ভুগছিল মেয়েটি। তবে খাতা বা মোবাইলে কোনো সুইসাইড নোট মেলেনি, উপরন্তু রাত সোয়া একটা নাগাদও সে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েছিল। মাত্র পনেরো মিনিটের মধ্যে ছয়তলার বাসিন্দা কিশোরী কেন ও কীভাবে আটতলায় গেল, কিংবা সেই রাতে ঠিক কী ঘটেছিল যা তাকে এমন চরম পরিণতির দিকে ঠেলে দিল—তা খতিয়ে দেখতে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে পুলিশ।হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত