রেজিনগর: গণনার ইভিএম খোলার এখনও ৪৮ ঘণ্টা বাকি।
কিন্তু পূর্বমেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের পাশাপাশি মুর্শিদাবাদের রেজিনগর উপনির্বাচনও যেন নিজেদের পকেটে পুরে নিল ভারতীয় জনতা পার্টি। সকালে বাবার পর বিকেলে ছেলে। রেজিনগর ছাড়ার ঘোষণা হুমায়ূন-পুত্রের। আর এই ঘোষণাতেই রাজ্যের দুটি উপনির্বাচনের লড়াইয়ে কার্যত এগিয়ে থেকেই শুরু করতে চলেছে বাংলার শাসক দল।
বুধবার সকালেই রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা করেছিলেন নওদার বিধায়ক তথা ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র প্রধান হুমায়ুন কবীর। আর বিকেলে বাবার পথেই হাঁটলেন রেজিনগরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী গোলাম নবি আজাদও। তাতে রাজনৈতিক মহলে একটা প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে, কোন অদৃশ্য রাজনৈতিক জাদুতে মুর্শিদাবাদের এই সংখ্যালঘু-অধ্যুষিত গড়ও কার্যত কব্জা করে ফেলল বিজেপি? তা হলে কি আগামী শুক্রবার উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন নন্দীগ্রামের পাশাপাশি রেজিনগরেও গেরুয়া আবির খেলা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা?
মঙ্গলবার রেজিনগরে উপনির্বাচন শেষ হতেই ক্ষোভে-আক্ষেপে ফেটে পড়েন হুমায়ুন কবীর। ভোট লুটের গুরুতর অভিযোগ তুলে রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক তোপ দাগেন তিনি। চোখে জল নিয়ে নওদার বিধায়কের ঘোষণা, ‘‘শুভেন্দু অধিকারী যত দিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন, তত দিন আমি আর বিধানসভার চৌকাঠ মাড়াব না!’’
শুধু তা-ই নয়, এই ‘প্রহসনের ভোট’-এর প্রতিবাদে সক্রিয় রাজনীতি থেকেই সন্ন্যাস নেওয়ার বার্তা দেন তিনি। বাবার এই চরম সিদ্ধান্তের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একই পথে হেঁটে সন্ন্যাসের কথা ঘোষণা করেন রেজিনগরে তাঁর দলের প্রার্থী তথা পুত্র গোলাম নবি আজাদ। জানিয়ে দেন, শুক্রবার ভোটগণনার দিনেও তিনি গণনাকেন্দ্রে পা রাখবেন না।
বাবা-ছেলের এই নজিরবিহীন ময়দান ছাড়ার সিদ্ধান্তে খোদ ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র ভবিষ্যৎ এখন বিশ বাঁও জলে। যদিও সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার কোনও ইঙ্গিত মেলেনি। আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, ‘‘এই নোংরা রাজনীতির অংশ আর থাকতে চাই না। সমস্ত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মতাদর্শের লড়াই করা সম্ভব, কিন্তু পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে দিনের পর দিন যুদ্ধ করে টিকে থাকা যায় না। মানুষ পুলিশকে ভয় পেলে গণতন্ত্র মেরুদণ্ড হারাবে।’’
বেলডাঙা-২ পঞ্চায়েত সমিতির গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা নবি সাফ জানান, আর কোনও সরকারি বা রাজনৈতিক কাজে তিনি অংশ নেবেন না, বরং পরিবার ও ছোট্ট মেয়েকে সময় দেবেন।
হুমায়ুন ও তাঁর পুত্রের এই হঠাৎ ‘ময়দান ছেড়ে পালানো’র ঘটনাকে রেজিনগরের স্থানীয় সমীকরণে অত্যন্ত অর্থবহ বলে মনে করছে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক মহল। সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে হুমায়ুনের যে প্রভাব ছিল, রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে তা পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ায় বিরোধী মেরুকরণ বা ভোটবিভাজনের সুযোগ ভেস্তে গিয়ে সম্পূর্ণ সুবিধা পৌছে গিয়েছে বিজেপির ঘরে।
পুলিশ ও প্রশাসনের দাপট এবং বিরোধী শিবিরের এই আকস্মিক আত্মসমর্পণই ইঙ্গিত দিচ্ছে, শুক্রবারের গণনায় রেজিনগরের ভোটবাক্সে পদ্ম-ঝড় ওঠা এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। নন্দীগ্রামের পাশাপাশি মুর্শিদাবাদের এই লাল দুর্গও কি তবে গেরুয়া ঝড়ে উবে গেল? উত্তর মিলবে শুক্রবারই ।

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন