মালদহ: দেওর-বউদির নিষিদ্ধ প্রণয়, আর সেই সম্পর্কের টানাপোড়েনেই শেষমেশ রক্তে ভেসে গেল রান্নাঘরের মেঝে। পরকীয়ার বন্ধন ছিঁড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাওয়াই যেন কাল হল মালদহের হরিশচন্দ্রপুরের এক গৃহবধূর। শনিবার রাতে স্বামী ও পরিবারের বাকি সদস্যদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে বউদিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল খোদ দেওরের বিরুদ্ধে। পাশের ঘরে তখন আপন মনে খেলে বেড়াচ্ছিল নিহতের দুই নিষ্পাপ সন্তান। নিমেষে ঘটে যাওয়া এই হাড়হিম করা ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত বধূর নাম অমৃতা ওঁরাও (২৭)। বছর কয়েক আগে নন্দলাল ওঁরাওয়ের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল এবং তাঁদের দুটি সন্তানও রয়েছে। শনিবার রাতে অমৃতা যখন একা রান্নাঘরে রাতের কাজ সারছিলেন, সেই সময় স্বামী ঘরে ছিলেন না এবং পরিবারের বাকি সদস্যরাও ঘরের বাইরে নিজেদের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। অভিযোগ, সেই ফাঁকা বাড়ির সুযোগ নিয়ে আচমকাই ধারালো অস্ত্র হাতে রান্নাঘরে ঢুকে পড়ে নন্দলালের ভাই, অর্থাৎ অমৃতার দেওর পাঁচু ওঁরাও। কিছু বুঝে ওঠার আগেই অমৃতাকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি কোপাতে শুরু করে সে। যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন বধূ। তাঁর আর্তচিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসার আগেই অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয় অভিযুক্ত পাঁচু।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ অমৃতাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার নৃশংসতায় এলাকায় চরম উত্তেজনা তৈরি হলে হরিশচন্দ্রপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী রাতেই পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি অভিযান শুরু করে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত পাঁচু ওঁরাওকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয়দের বয়ান অনুযায়ী, দেওর ও বউদির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই একটি বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। কিন্তু সম্প্রতি অমৃতা সেই অনৈতিক পথ থেকে সরে আসতে এবং সম্পর্ক ছিন্ন করতে অনড় অবস্থান নেন। প্রাথমিক অনুমান, প্রেমে প্রত্যাখ্যানের রাগ ও আক্রোশ থেকেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে বউদিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দেওর। দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন