জলপাইগুড়ি: দুর্গাপুজোর দিনগোনা শুরু হয়ে গিয়েছে চারদিকে। যখন উৎসবের আবহে কেনাকাটা ও মেজাজে মেতে ওঠার কথা, ঠিক তখনই ক্ষোভের আগুনে উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি পৌরসভা। নির্দিষ্ট সময়ে বকেয়া বেতন প্রদান এবং আসন্ন শারদোৎসবের বোনাসের দাবিতে শনিবার সকাল থেকেই পুরসভার প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে কর্মবিরতি ও অবস্থান বিক্ষোভে নামলেন পুরসভার অস্থায়ী কর্মীরা। হাতে ঝাড়ু, কোদাল, বালতি ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে প্রায় ৩৬০ জন অস্থায়ী পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও কর্মচারী সরব হলেন পুর প্রশাসনের বিরুদ্ধে। আন্দোলনকারীদের এই চরম পদক্ষেপের জেরে শনিবার দিনভর স্তব্ধ হয়ে পড়ে পুরসভার স্বাভাবিক কাজকর্ম, ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ নাগরিকরা।
আন্দোলনকারী কর্মীদের অভিযোগ, বিগত বহু মাস ধরেই তাঁদের পারিশ্রমিক ও বেতন পাওয়ার ক্ষেত্রে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সঠিক সময়ে বেতন না পাওয়ায় সংসার চালানোই দায় হয়ে পড়েছে বলে দাবি তাঁদের। পুরকর্মীদের বক্তব্য, এর আগেও একাধিকবার বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলনে নামতে হয়েছিল তাঁদের। সেই সময় পুর কর্তৃপক্ষের তরফে বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া এবং ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট দিনে বেতন প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়ে গিয়েছে, বাস্তবায়িত হয়নি। চলতি মাসের বেতন দেওয়া নিয়েও পুর প্রশাসন নতুন করে টালবাহানা শুরু করায় ক্ষোভের পারদ চরম সীমায় পৌঁছায়।
শনিবার সকালে কাজ বন্ধ রেখে সমস্ত সরঞ্জাম হাতে নিয়ে পুরসভার গেটের সামনে বসে পড়েন কর্মীরা। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, প্রতি মাসের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বেতন জমা করতে হবে। একই সঙ্গে অন্যান্য স্থায়ী কর্মচারীদের মতো এই অস্থায়ী কর্মীদেরও পুজোর আগে প্রাপ্য বোনাস অবিলম্বে প্রদান করতে হবে। বিক্ষোভকারীদের হুঁশিয়ারি, দুর্গাপুজোর আগে যদি তাঁদের ন্যায্য দাবি দ্রুত পূরণ করা না হয়, তবে আগামী দিনে পুরসভার গেট সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে আরও বৃহত্তর এবং অনশন আন্দোলনে নামবেন তাঁরা।
পুরসভার গেট অবরুদ্ধ থাকার কারণে শনিবার প্রশাসনিক কাজ তো ব্যাহত হয়েইছে, সেই সঙ্গে শহরের সাফাই অভিযান বন্ধ থাকার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন নাগরিক মহলও। উৎসবের মুখে এই আন্দোলনের জল কোন দিকে গড়ায় এবং পুর কর্তৃপক্ষ কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেয়, সেদিকেই এখন নজর জলপাইগুড়ির।

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন