Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Princess Diana: ব্রিটেন ছেড়ে আফ্রিকায় নতুন জীবন! হাসনাতের সঙ্গে কী পরিকল্পনা করেছিলেন ডায়ানা?

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Princess Diana: ব্রিটেন ছেড়ে আফ্রিকায় নতুন জীবন! হাসনাতের সঙ্গে কী পরিকল্পনা করেছিলেন ডায়ানা?
ছবিঃ সংগৃহীত

ব্রিটেনের রাজপরিবারের ঝলমলে জীবন ছেড়ে অনেক দূরে শান্ত জীবন কাটানোর স্বপ্ন দেখতেন ডায়না। আর এই জীবনে পাশে থাকার কথা ছিল পাকিস্তানি-ব্রিটিশ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ হাসনাত খানের। এমনই দাবি উঠে এসেছে ডায়নার ভাই চার্লস স্পেন্সারের নতুন স্মৃতিকথা ‘Swan Song: Diana, My Sister’-এ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে হাসনাতের সঙ্গে নতুন করে জীবন শুরু করার কথা ভাবছিলেন ডায়না।

ব্রিটেনে খুব একটা খুশি ছিলেন না ডায়না। ১৯৯৭ সালের মার্চে দক্ষিণ আফ্রিকায় ভাইয়ের কাছে যাওয়ার সময়ও তিনি নাকি ভীষণ অখুশি ছিলেন। নিজের বইয়ে ডায়নার সেই ভাবনার নিয়ে স্পেন্সার লিখেছেন, “ ডায়না আফ্রিকায় এসেছিলেন এটাই দেখতে যে এখানে সে এবং তাঁর  হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ প্রেমিক একসঙ্গে থাকতে পারবেন কি না, তা নিজের চোখে দেখে নিতে। তাঁরা কি একসঙ্গে এখানে এসে নতুন করে জীবন গড়তে পারবেন? এমন আশাই কি মনে মনে করেছিলেন ডায়ানা?” কেপটাউনে হাসনাতের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি করা যায় কি না, তা নিয়ে তিনি বিখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ ক্রিশ্চিয়ান বার্নার্ডের সাহায্য চেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তাঁর ভাই। 


ডায়ানার এই ভাবনাগুলিকে স্পেন্সার তাঁর বইয়ে “সরল, অথচ অসম্ভব স্বপ্ন” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। হাসনাতের সঙ্গে ডায়ানার সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। স্পেন্সারের দাবি অনুযায়ী, প্রায় দু’বছর ধরে গোপনে সম্পর্ক ছিল তাঁদের। প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর এটিই ছিল ডায়ানার সবচেয়ে দীর্ঘ সম্পর্ক। এই সম্পর্ককে গোপন রাখতে দু’জনই যথেষ্ট সাবধান ছিলেন। হাসনাতের সঙ্গে লন্ডনের একটি জ্যাজ ক্লাবে যেতে একবার কালো পরচুলা পরেছিলেন ডায়ানা। আবার হাসনাতও নাকি গাড়ির ডিকিতে লুকিয়ে কেনসিংটন প্যালেসে ঢুকেছিলেন। ডায়না বিয়ের প্রস্তাব দিলে হাসনাত পরে সেই সম্ভাবনা নাকচ করে দেন বলে জানা যায়। ডায়ানা পাকিস্তানে হাসনাতের পরিবারের সঙ্গেও দেখা করেছিলেন। এমনকি উইলিয়াম ও হ্যারির সঙ্গেও হাসনাতের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন বলে স্পেন্সারের বইয়ে উঠে এসেছে।

স্পেন্সারের দাবি, ডায়ানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল হাতে হাসনাতের ফোনের অপেক্ষা করতেন। কিন্তু ফোন খুব একটা আসত না। নিজের বইয়ে তিনি লিখেছেন, “আমার বাড়িতে জেগে থাকা সময়ের প্রায় পুরোটাই ডায়ানা মোবাইল হাতে কাটাতেন। তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষটির ফোনের অপেক্ষায় থাকতেন তিনি। অথচ সেই ফোন খুব কমই আসত।” ১৯৯৭ সালের গ্রীষ্মে ডায়ানা ও হাসনাতের সম্পর্ক ভেঙে যায়। পরে ডায়ানা মোহাম্মদ আল-ফায়েদের ছেলে দোদির সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। ওই বছরই প্যারিসে গাড়ি দুর্ঘটনায় ডায়ানা, দোদি এবং তাঁদের চালক হেনরি পল মারা যান।


প্রায় তিন দশক পর ডায়ানার ভাইয়ের স্মৃতিকথায় ফের সামনে এল সেই পুরনো সম্পর্ক এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় নতুন জীবন শুরু করার সম্ভাবনার কথা।  ২০২৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ‘Swan Song: Diana, My Sister’ বইটি প্রকাশিত হয়েছে। স্পেন্সার জানিয়েছেন, তাঁর উদ্দেশ্য ছিল তাঁর বোনের জীবন সম্পর্কে নিজের দেখা ও জানা ঘটনাগুলি নথিবদ্ধ করে রাখা। তবে চার্লস স্পেন্সারের বর্ণনা অনুযায়ী ডায়ানা সত্যিই দক্ষিণ আফ্রিকায় হাসনাতের সঙ্গে স্থায়ীভাবে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কি না, তা নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করা যায় না।

বিষয় : Princess Diana King Charles Doctor Boyfriend

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


Princess Diana: ব্রিটেন ছেড়ে আফ্রিকায় নতুন জীবন! হাসনাতের সঙ্গে কী পরিকল্পনা করেছিলেন ডায়ানা?

প্রকাশের তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
ব্রিটেনের রাজপরিবারের ঝলমলে জীবন ছেড়ে অনেক দূরে শান্ত জীবন কাটানোর স্বপ্ন দেখতেন ডায়না। আর এই জীবনে পাশে থাকার কথা ছিল পাকিস্তানি-ব্রিটিশ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ হাসনাত খানের। এমনই দাবি উঠে এসেছে ডায়নার ভাই চার্লস স্পেন্সারের নতুন স্মৃতিকথা ‘Swan Song: Diana, My Sister’-এ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে হাসনাতের সঙ্গে নতুন করে জীবন শুরু করার কথা ভাবছিলেন ডায়না।ব্রিটেনে খুব একটা খুশি ছিলেন না ডায়না। ১৯৯৭ সালের মার্চে দক্ষিণ আফ্রিকায় ভাইয়ের কাছে যাওয়ার সময়ও তিনি নাকি ভীষণ অখুশি ছিলেন। নিজের বইয়ে ডায়নার সেই ভাবনার নিয়ে স্পেন্সার লিখেছেন, “ ডায়না আফ্রিকায় এসেছিলেন এটাই দেখতে যে এখানে সে এবং তাঁর  হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ প্রেমিক একসঙ্গে থাকতে পারবেন কি না, তা নিজের চোখে দেখে নিতে। তাঁরা কি একসঙ্গে এখানে এসে নতুন করে জীবন গড়তে পারবেন? এমন আশাই কি মনে মনে করেছিলেন ডায়ানা?” কেপটাউনে হাসনাতের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি করা যায় কি না, তা নিয়ে তিনি বিখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ ক্রিশ্চিয়ান বার্নার্ডের সাহায্য চেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তাঁর ভাই। ডায়ানার এই ভাবনাগুলিকে স্পেন্সার তাঁর বইয়ে “সরল, অথচ অসম্ভব স্বপ্ন” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। হাসনাতের সঙ্গে ডায়ানার সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। স্পেন্সারের দাবি অনুযায়ী, প্রায় দু’বছর ধরে গোপনে সম্পর্ক ছিল তাঁদের। প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর এটিই ছিল ডায়ানার সবচেয়ে দীর্ঘ সম্পর্ক। এই সম্পর্ককে গোপন রাখতে দু’জনই যথেষ্ট সাবধান ছিলেন। হাসনাতের সঙ্গে লন্ডনের একটি জ্যাজ ক্লাবে যেতে একবার কালো পরচুলা পরেছিলেন ডায়ানা। আবার হাসনাতও নাকি গাড়ির ডিকিতে লুকিয়ে কেনসিংটন প্যালেসে ঢুকেছিলেন। ডায়না বিয়ের প্রস্তাব দিলে হাসনাত পরে সেই সম্ভাবনা নাকচ করে দেন বলে জানা যায়। ডায়ানা পাকিস্তানে হাসনাতের পরিবারের সঙ্গেও দেখা করেছিলেন। এমনকি উইলিয়াম ও হ্যারির সঙ্গেও হাসনাতের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন বলে স্পেন্সারের বইয়ে উঠে এসেছে।স্পেন্সারের দাবি, ডায়ানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল হাতে হাসনাতের ফোনের অপেক্ষা করতেন। কিন্তু ফোন খুব একটা আসত না। নিজের বইয়ে তিনি লিখেছেন, “আমার বাড়িতে জেগে থাকা সময়ের প্রায় পুরোটাই ডায়ানা মোবাইল হাতে কাটাতেন। তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষটির ফোনের অপেক্ষায় থাকতেন তিনি। অথচ সেই ফোন খুব কমই আসত।” ১৯৯৭ সালের গ্রীষ্মে ডায়ানা ও হাসনাতের সম্পর্ক ভেঙে যায়। পরে ডায়ানা মোহাম্মদ আল-ফায়েদের ছেলে দোদির সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। ওই বছরই প্যারিসে গাড়ি দুর্ঘটনায় ডায়ানা, দোদি এবং তাঁদের চালক হেনরি পল মারা যান।প্রায় তিন দশক পর ডায়ানার ভাইয়ের স্মৃতিকথায় ফের সামনে এল সেই পুরনো সম্পর্ক এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় নতুন জীবন শুরু করার সম্ভাবনার কথা।  ২০২৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ‘Swan Song: Diana, My Sister’ বইটি প্রকাশিত হয়েছে। স্পেন্সার জানিয়েছেন, তাঁর উদ্দেশ্য ছিল তাঁর বোনের জীবন সম্পর্কে নিজের দেখা ও জানা ঘটনাগুলি নথিবদ্ধ করে রাখা। তবে চার্লস স্পেন্সারের বর্ণনা অনুযায়ী ডায়ানা সত্যিই দক্ষিণ আফ্রিকায় হাসনাতের সঙ্গে স্থায়ীভাবে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কি না, তা নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করা যায় না।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত