কলকাতা: রাষ্ট্রবাদী সরকার ফেলে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে একদল চক্রান্তকারী! বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) মঞ্চ থেকে এমনই বিস্ফোরক দাবি করে সকলকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে থাকা ষড়যন্ত্রকারীদের 'ছারপোকা' বলে আখ্যা দিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে বিরোধীদের বিক্ষোভের আবহেই রবিবার আলিপুরে বিএইচপি-র বিশেষ অনুষ্ঠানে শুভেন্দুর এই তোপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
রবিবার আলিপুরে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, চারিপাশে প্রচুর ছারপোকা কিলবিল করছে, এদের কোনও ভাবেই হালকা ভাবে নেওয়া চলবে না। দেশের প্রশাসনিক ও সামাজিক ব্যবস্থার ভিতরে এরা ঢুকে বসে রয়েছে। প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে এই ধরনের দেশবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে চরম পদক্ষেপ নেওয়ার স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি। এ দিনের ভাষণ থেকে কলকাতাকে 'ডিভোশনাল ক্যাপিটাল' বা ভক্তিমূলক রাজধানী হিসেবেও অভিহিত করেন তিনি।
অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের পতনের নেপথ্য কারণ ব্যাখ্যা করেন শুভেন্দু। তিনি দাবি করেন, সনাতন ধর্ম, হিন্দু সংগঠন, দেবদেবী ও ভারতীয় সংস্কৃতিকে বারংবার আঘাত করার কারণেই গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পূর্বতন সরকারের এমন করুণ পরিণতি হয়েছে। বিগত সরকারের আমলে ধর্ম দেখে অত্যাচারের খতিয়ান তুলে ধরার পাশাপাশি 'অপারেশন সিঁদুর' প্রসঙ্গও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। বর্তমান বিজেপি সরকারের আমলে বাংলায় কোনও সাধু-সন্তের অপমান সহ্য করা হবে না জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন, সরকার সব সময় ধর্মীয় ভাবাবেগ রক্ষায় কঠোর ভূমিকা নেবে।
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বড় ঘোষণা, আগামী ৬ মাসের মধ্যে লাভ জিহাদ, ল্যান্ড জিহাদ এবং অবৈধ ধর্মান্তরকরণ রোধে চরম কঠোর ও কঠিন আইন আনা হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত বিশ্বগুরুর আসনে বসলেও দেশের ভেতরের শত্রুদের চিহ্নিত করে একজোট হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। জাতীয়তাবাদী সরকারকে উখাড় ফেলে দেওয়ার চক্রান্ত এ রাজ্যে সফল হতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি সাফ জানিয়ে দেন।

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন