দিল্লিতে ব্রিকসের মঞ্চ থেকেই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান স্পষ্ট করল সদস্য দেশগুলি। শনিবার প্রকাশিত যৌথ ঘোষণাপত্রে পহেলগাঁও হামলার নিন্দা করা হয়েছে। পাশাপাশি, জঙ্গি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার বার্তাও দিয়েছে ব্রিকস। ফলে সন্ত্রাস ইস্যুতে ফের আন্তর্জাতিক মঞ্চে গুরুত্ব পেল ভারতের অবস্থান।
ব্রিকসের ঘোষণাপত্রে কোনও নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তোলা হয়নি। কিন্তু সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। জঙ্গিদের সীমান্ত পেরিয়ে যাতায়াত, সন্ত্রাসে বিপুল অর্থের জোগান এবং জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার মতো বিষয়গুলির বিরুদ্ধে একসঙ্গে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও, তরুণদের মধ্যে উগ্রপন্থী ভাবধারা ছড়িয়ে পড়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। অনলাইনে বা অন্য কোনও মাধ্যমে চরমপন্থী মতাদর্শের প্রসার কীভাবে আটকানো যায়, তা নিয়েও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বার্তা রয়েছে। এই ঘোষণার রাজনৈতিক গুরুত্বও কম নয়। কারণ ব্রিকসের সদস্যদের মধ্যে চিন এবং ইরানের মতো দেশ রয়েছে, যাদের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। সেই মঞ্চেই পহেলগাঁওয়ের মতো একটি জঙ্গি হামলার নিন্দা হওয়া ভারতের জন্য নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও ঘোষণাপত্রে পাকিস্তানকে সরাসরি দায়ী করা হয়নি।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়। হামলার পর পাকিস্তানের মাটিতে এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালায় ভারত। ৭ মে শুরু হওয়া সেই অভিযানে একাধিক জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলা চালানোর কথা জানায় নয়াদিল্লি। এরপর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ে। পাকিস্তানের পাল্টা হামলার জবাবও দেয় ভারত। শেষ পর্যন্ত দুই দেশের সামরিক কর্তাদের মধ্যে কথাবার্তার পর ১০ মে সংঘর্ষ থামানোর সিদ্ধান্ত হয়।
বিষয় : India Pakistan Brics Summit

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন