Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Super El Nino: শীতেও উধাও হবে ঠান্ডা, বিশ্বজুড়ে লাল সতর্কবার্তা! রাষ্ট্রসংঘের আশঙ্কায় কাঁপছে পৃথিবী, আসছে ‘সুপার ডুপার এল নিনো’?

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬
Super El Nino: শীতেও উধাও হবে ঠান্ডা, বিশ্বজুড়ে লাল সতর্কবার্তা! রাষ্ট্রসংঘের আশঙ্কায় কাঁপছে পৃথিবী, আসছে ‘সুপার ডুপার এল নিনো’?
প্রতীকী ছবি

জেনেভা: ডিসেম্বরের কড়া শীতের দিনগুলোতেও এবার আর দেখা মিলবে না চিরচেনা ঠান্ডার! বরং বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা হু হু করে বাড়িয়ে পৃথিবীকে এক অগ্নিকুণ্ডে পরিণত করতে চলেছে আবহাওয়ার ভয়াল রূপ ‘সুপার ডুপার এল নিনো’। সম্প্রতি রাষ্ট্রসংঘের পক্ষ থেকে এক চাঞ্চল্যকর সতর্কবার্তা জারি করে জানানো হয়েছে, ১৯৫০ সালের পর থেকে এ যাবৎকালের অন্যতম তীব্র ও শক্তিশালী এল নিনোর মুখোমুখি হতে চলেছে পুরো মানবজাতি। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বা ‘ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন’ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, মানুষের তৈরি বিশ্ব উষ্ণায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পেরুর উপকূলবর্তী সমুদ্রপৃষ্ঠের জল অস্বাভাবিক উত্তপ্ত হয়ে ওঠার প্রক্রিয়াই জলবায়ুর ভাষায় ‘এল নিনো’ নামে পরিচিত। সাধারণ নিয়মে সমুদ্রের তাপমাত্রা ৪ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়ে প্রতি ২ থেকে ৭ বছর অন্তর বৈশ্বিক আবহাওয়া এলোমেলো করে দেয় এই এল নিনো। তবে এবার জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কার চরম বার্তা শুনিয়ে একে ‘সুপার ডুপার এল নিনো’ নাম দিয়েছেন। সমুদ্রের জমা থাকা বিপুল পরিমাণ তাপ একযোগে বায়ুমণ্ডলে নির্গত হওয়ার কারণে শীতের মরশুমেও পৃথিবীজুড়ে চরম দাবদাহ ও অস্বাভাবিক উষ্ণ আবহাওয়া বিরাজ করবে। ‘ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরাম’-এর মতে, নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে এটি তার সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করবে, যার তীব্র কোপ গিয়ে পড়বে বিশ্বের কৃষি, খাদ্য সরবরাহ, পরিবহণ এবং শক্তি খাতের ওপর।


প্রখ্যাত আবহাওয়াবিদ রায়ান মাউ সম্প্রতি পুরো পৃথিবীর একটি জলবায়ু মানচিত্র প্রকাশ করেছেন, যেখানে পুরো বিশ্বকে রক্তবর্ণ বা লাল রঙে ঢেকে যেতে দেখা গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে লিখেছেন, গোটা শীতকালজুড়ে এল নিনো তার সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে তাণ্ডব চালাবে এবং আমেরিকা মহাদেশের কিছু অংশ ছাড়া পৃথিবীর প্রায় সর্বত্রই রেকর্ড তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে।

ইতিমধ্যেই ‘ক্লাইমেট ইম্প্যাক্ট ল্যাব’-এর একটি গবেষণা রিপোর্ট মানবজাতির ঘুম উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছে যে, আগামী মাত্র ৬ মাসের মধ্যে এই এল নিনোর ভয়াবহ তাণ্ডব এবং অতিরিক্ত তাপপ্রবাহের বলি হয়ে বিশ্বজুড়ে প্রায় সাড়ে চার লক্ষ মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে পারেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট খাদ্য ও পানীয় জলের চরম সংকট এই ধ্বংসলীলাকে আরও ত্বরান্বিত করবে। এবার রাষ্ট্রসংঘের এই লাল সতর্কবার্তা বিশ্বজুড়ে নতুন করে এক চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করল।

বিষয় : climate change super el nino global warming

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


Super El Nino: শীতেও উধাও হবে ঠান্ডা, বিশ্বজুড়ে লাল সতর্কবার্তা! রাষ্ট্রসংঘের আশঙ্কায় কাঁপছে পৃথিবী, আসছে ‘সুপার ডুপার এল নিনো’?

প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
জেনেভা: ডিসেম্বরের কড়া শীতের দিনগুলোতেও এবার আর দেখা মিলবে না চিরচেনা ঠান্ডার! বরং বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা হু হু করে বাড়িয়ে পৃথিবীকে এক অগ্নিকুণ্ডে পরিণত করতে চলেছে আবহাওয়ার ভয়াল রূপ ‘সুপার ডুপার এল নিনো’। সম্প্রতি রাষ্ট্রসংঘের পক্ষ থেকে এক চাঞ্চল্যকর সতর্কবার্তা জারি করে জানানো হয়েছে, ১৯৫০ সালের পর থেকে এ যাবৎকালের অন্যতম তীব্র ও শক্তিশালী এল নিনোর মুখোমুখি হতে চলেছে পুরো মানবজাতি। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বা ‘ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন’ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, মানুষের তৈরি বিশ্ব উষ্ণায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়।প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পেরুর উপকূলবর্তী সমুদ্রপৃষ্ঠের জল অস্বাভাবিক উত্তপ্ত হয়ে ওঠার প্রক্রিয়াই জলবায়ুর ভাষায় ‘এল নিনো’ নামে পরিচিত। সাধারণ নিয়মে সমুদ্রের তাপমাত্রা ৪ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়ে প্রতি ২ থেকে ৭ বছর অন্তর বৈশ্বিক আবহাওয়া এলোমেলো করে দেয় এই এল নিনো। তবে এবার জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কার চরম বার্তা শুনিয়ে একে ‘সুপার ডুপার এল নিনো’ নাম দিয়েছেন। সমুদ্রের জমা থাকা বিপুল পরিমাণ তাপ একযোগে বায়ুমণ্ডলে নির্গত হওয়ার কারণে শীতের মরশুমেও পৃথিবীজুড়ে চরম দাবদাহ ও অস্বাভাবিক উষ্ণ আবহাওয়া বিরাজ করবে। ‘ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরাম’-এর মতে, নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে এটি তার সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করবে, যার তীব্র কোপ গিয়ে পড়বে বিশ্বের কৃষি, খাদ্য সরবরাহ, পরিবহণ এবং শক্তি খাতের ওপর।প্রখ্যাত আবহাওয়াবিদ রায়ান মাউ সম্প্রতি পুরো পৃথিবীর একটি জলবায়ু মানচিত্র প্রকাশ করেছেন, যেখানে পুরো বিশ্বকে রক্তবর্ণ বা লাল রঙে ঢেকে যেতে দেখা গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে লিখেছেন, গোটা শীতকালজুড়ে এল নিনো তার সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে তাণ্ডব চালাবে এবং আমেরিকা মহাদেশের কিছু অংশ ছাড়া পৃথিবীর প্রায় সর্বত্রই রেকর্ড তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে।ইতিমধ্যেই ‘ক্লাইমেট ইম্প্যাক্ট ল্যাব’-এর একটি গবেষণা রিপোর্ট মানবজাতির ঘুম উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছে যে, আগামী মাত্র ৬ মাসের মধ্যে এই এল নিনোর ভয়াবহ তাণ্ডব এবং অতিরিক্ত তাপপ্রবাহের বলি হয়ে বিশ্বজুড়ে প্রায় সাড়ে চার লক্ষ মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে পারেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট খাদ্য ও পানীয় জলের চরম সংকট এই ধ্বংসলীলাকে আরও ত্বরান্বিত করবে। এবার রাষ্ট্রসংঘের এই লাল সতর্কবার্তা বিশ্বজুড়ে নতুন করে এক চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করল।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত