পশ্চিম মেদিনীপুর: চলন্ত বাইকে সাউন্ড সাইলেন্সর লাগানো বন্দুকে দুষ্কৃতী হামলা নাকি নিজেদের বন্দুক নিয়ে খেলতে গিয়ে আচমকা অঘটন? খড়্গপুর শহরের ওল্ড সেটেলমেন্ট এলাকায় দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র অক্ষয় ঝায়ের রহস্যজনক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এল এক চমকপ্রদ মোড়। প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসা পুরনো গ্যাং ওয়ারের তত্ত্ব ও সাজানো হামলার গল্প ধোপে টিকল না। খড়্গপুর টাউন থানার পুলিশ মূল ঘটনাটির পর্দাফাঁস করে নিশ্চিত করেছে, কোনও বহিরাগত দুষ্কৃতী নয়, বরং বন্ধুর বাবার আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অসাবধানতাবশত নাড়াচাড়া করতে গিয়েই বুকে গুলি লাগে নির্দোষ স্কুলছাত্রের। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে অক্ষয়ের বন্ধু সাগর কুমারসহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা খড়্গপুরের ভয়াবহ গ্যাং ওয়ারের অতীত স্মৃতি উড়িয়ে দিয়ে ঘটনার আসল সত্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, বুধবারেও সাগর এবং অক্ষয় পাশের বাড়ির বন্ধু হিসেবে একসাথে ঘোরাঘুরি করছিল। সকালে সাগরের বাড়িতে গিয়ে তাঁর বাবা ভেঙ্কট রাওয়ের একটি ৯ এমএম পিস্তল নিয়ে নাড়াচাড়া করছিল সাগর ও অক্ষয়। সেই সময় অসাবধানতাবশত অক্ষয় নিজেই বন্দুকটি চালিয়ে ফেলে। প্রথম ফাঁকা ফায়ারিং হলেও, দ্বিতীয় গুলিটি সরাসরি বিদ্ধ হয় অক্ষয়ের বুকের বাঁ দিকে। রক্তাক্ত অবস্থায় বন্ধুকে পড়ে থাকতে দেখে ভয় পেয়ে যায় সাগর। এরপর সে দ্রুত নিজের অন্য বন্ধুদের ডেকে খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে চলন্ত বাইকে সাউন্ড সাইলেন্সর লাগানো দুষ্কৃতী হামলার একটি কাল্পনিক গল্প ফেঁদে বসে।
প্রসঙ্গত, গতকালের ঘটনার প্রাথমিক বিবরণে খড়্গপুরে চরম আতঙ্কের আবহ তৈরি হয়েছিল। তখন দাবি করা হয়, বুধবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ ২০ নম্বর ওয়ার্ডে সাগরের বাইকের পেছনে বসে যাওয়ার সময় একটি নম্বরপ্লেটহীন স্কুটিতে আসা দুষ্কৃতীরা পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে অক্ষয়কে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। স্থানীয় কাউন্সিলর ডি বাসন্তীও দাবি করেছিলেন, নিহত গ্যাংস্টার শ্রীনু নাইডুর অনুগামী প্রসাদের ছেলে সাগরই ছিল হামলাকারীদের আসল লক্ষ্য, কিন্তু ভুলবশত বুলেট লাগে অক্ষয়ের বুকে। তৎকালীন খড়্গপুরের বিধায়ক তথা রাজ্য সরকারের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষও মাফিয়ারাজের প্রসঙ্গ তুলে পুলিশি তৎপরতার কথা বলেছিলেন। পুলিশ সুপারও প্রথমে দুটি গোষ্ঠীর বিবাদের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি।
তবে সাগরের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া রক্তমাখা জামাকাপড় এবং রক্তমাখা নমুনা সমস্ত মিথ্যে ছক ভেঙে দেয়। সাগরের বাড়ি থেকে ওই অবৈধ ৯ এমএম পিস্তল ও তিন রাউন্ড কার্তুজ বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে সাগর কুমার, কোলা যোগেশ্বর রাও ও বিশাল জানাকে। ধৃতদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা ও অস্ত্র আইনে মামলা রুজু হয়েছে। অন্যদিকে কলকাতার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অক্ষয়ের শারীরিক অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকেরা শারীরিক পরীক্ষার পর অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেবেন।

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন