ডানকুনি: রাতের অন্ধকারে যাত্রী সেজে ক্যাব ভাড়া করে সুকৌশলে খুন! ডানকুনি ও কলকাতা— পরপর দুই ক্যাব চালকের জোড়া খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল গোটা রাজ্যে। একই কায়দায় বা ‘মোডাস অপারেন্ডি’তে এই খুনগুলি হওয়ায় প্রথম থেকেই সিরিয়াল কিলিংয়ের জোরালো সন্দেহ দানা বেঁধেছিল পুলিশের মনে। শেষ পর্যন্ত ঘটনার দু’দিনের মধ্যেই যৌথ অভিযানে নেমে তিন দুষ্কৃতীকে পাকড়াও করল কলকাতা পুলিশ এবং চন্দননগর কমিশনারেট। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে উঠে এসেছে হাড়হিম করা সব তথ্য।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত তিনজনের নাম শেখ আরিয়ান, শেখ মনিরুল ও শেখ সাহাদাত। এদের মধ্যে একজন মধ্যমগ্রামের এবং বাকি দু’জন সোদপুরের বাসিন্দা। উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম ও সোদপুর এলাকাকে কেন্দ্র করে এরা একটি সক্রিয় ‘লুঠেরা গ্যাং’ চালাত। ধৃতদের একজন অতীতে নিজেই পেশায় গাড়িচালক ছিল, তাই গাড়ি চালনার ভালোই হাত ছিল তার। মূলত বিরাটি ও মধ্যমগ্রামের ক্যাব চালকদেরই তারা টার্গেট করত। রাতের বেলা কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের মতো ফাঁকা ও নির্জন জায়গা বেছে নিয়ে চালকদের খুন করে তাদের গাড়ি, মোবাইল, সোনার গয়না ও টাকা লুট করে চম্পট দিত এই গ্যাংটি।[TECHTARANGA-POST:13536]গত ৬ অক্টোবর ডানকুনির ভাদুয়া এলাকা থেকে পা বাঁধা অবস্থায় রামজি কইরি নামে এক প্রবীণ বিরাটি ক্যাব চালকের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তাঁর লুট হওয়া ক্যাবটি পরে কলকাতার মল্লিকবাজার এলাকা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই পরের দিন সকালে পূর্ব কলকাতার এন্টালি এলাকা থেকে উদ্ধার হয় মধ্যমগ্রামের অপর এক ক্যাব চালক ভগবানপ্রসাদ গুপ্তার দেহ। দুটি ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। ডানকুনি থানা, চন্দননগর কমিশনারেট এবং কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দারা যৌথভাবে সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল টাওয়ারের লোকেশন ট্র্যাক করে তিন অপরাধীর নাগাল পান।প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, লুটপাটে বাধা পেলেই চালকদের পা বেঁধে ফেলত এই দুষ্কৃতীরা। এরপর নৃশংসভাবে খুন করে সর্বস্ব লুঠ করে নিত। ডানকুনিতে চালকের দেহ রাস্তায় ফেলে দিলেও কলকাতার ক্ষেত্রে তা পারেনি। বর্তমানে ধৃতরা ডানকুনি থানার হেফাজতে রয়েছে এবং পরবর্তীতে এন্টালি থানাও তাদের নিজেদের হেফাজতে নেবে। পরপর দুই চালকের খুন ও সিরিয়াল কিলিংয়ের এই ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে ক্যাব চালক মহলে।