কলকাতা: আড়াই বছরের এক একরত্তি শিশু, যার সবেমাত্র বাইরে পা রাখা আর নতুন পৃথিবী চেনার শুরু। কিন্তু সেই খুদের ভাগ্যে যে অপেক্ষা করছিল এমন এক বিভীষিকা, তা স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি তাঁর বাবা-মা। নিউ আলিপুরের একটি অতি নামকরা বেসরকারি স্কুলের ক্লাসরুমে প্রি-নার্সারির এক পড়ুয়াকে তুলে সজোরে মাটিতে আছাড় মারার গুরুতর অভিযোগ উঠল এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। নারকীয় এই ঘটনার জেরে ভেঙে গিয়েছে শিশুর ডান পা। এই নৃশংস ঘটনাটি ঘিরে ইতিমধ্যেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সমগ্র তিলোত্তমায়, ঘটনার জল গড়িয়েছে রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশন পর্যন্ত।
আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায় অতি অল্প বয়সেই সন্তানদের প্লে-স্কুল বা প্রি-নার্সারিতে ভর্তি করেন অভিভাবকরা, যাতে তারা হাসিখুশি পরিবেশে নতুন জিনিস শিখতে পারে। নিউ আলিপুরের এই স্কুলেও আড়াই বছরের শিশুটিকে একই আশা নিয়ে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু গত শুক্রবার আচমকাই ঘটে যায় সেই ভয়াবহ কাণ্ড। জানা গিয়েছে, ক্লাসের মধ্যেই কোনও কারণে কান্না বা বায়না করছিল একরত্তি শিশুটি— যা এই বয়সে অত্যন্ত স্বাভাবিক ও সাধারণ বিষয়। কিন্তু তাতেই চরম মেজাজ হারান সানন্দা পাল নামের এক অভিযুক্ত শিক্ষিকা। মেজাজ সামলাতে না পেরে মুহূর্তের মধ্যে শিশুটিকে কোলে তুলে নিয়ে সজোরে আছাড় মারেন মেঝেতে। যন্ত্রণায় ককিয়ে ওঠে খুদে।
খবর পেয়ে তড়িঘড়ি স্কুলে পৌঁছান পরিবারের সদস্যরা এবং শিশুটিকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, আঘাত এতটাই মারাত্মক ছিল যে খুদের ডান পায়ের হাড় ভেঙে গিয়েছে। এর পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে পরিবার। অভিযুক্ত শিক্ষিকা সানন্দা পালের বিরুদ্ধে নিউ আলিপুর থানায় লিখিত এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার গুরুত্ব বুঝে স্কুলের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। সিসিটিভিতে নৃশংসতার প্রমাণ মিলতেই অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
একজন শিক্ষিকার কাছ থেকে এমন চরম অসংবেদনশীল ও হিংসাত্মক আচরণ কেন, তা খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে নিউ আলিপুর থানার পুলিশ। অন্যদিকে, প্রি-স্কুল চত্বরে এমন পৈশাচিক ঘটনায় স্তম্ভিত ও হতবাক স্কুল কর্তৃপক্ষও। খুদের নিরাপত্তায় এমন মারাত্মক গলদ নিয়ে এখন ফুঁসছেন শহরের অন্যান্য অভিভাবকেরাও।

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন