Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

বৈঠকের জট এড়িয়ে সরাসরি নবান্নর নির্দেশিকা! পুজোয় ২০ শতাংশ বোনাস পাচ্ছেন উত্তরবঙ্গের ৫ লক্ষ চা-শ্রমিক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বৈঠকের জট এড়িয়ে সরাসরি নবান্নর নির্দেশিকা! পুজোয় ২০ শতাংশ বোনাস পাচ্ছেন উত্তরবঙ্গের ৫ লক্ষ চা-শ্রমিক
ফাইল ছবি।

শিলিগুড়ি: দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে উত্তরবঙ্গের চা-বলয়ে এক বিরাট স্বস্তির বার্তা দিল রাজ্য সরকার। পাহাড় ও ডুয়ার্সের প্রায় পাঁচ লক্ষ চা-শ্রমিকের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এক ধাক্কায় ২০ শতাংশ হারে পুজো বোনাস প্রদানের সুপারিশ জারি করল নবান্ন। সোমবার শ্রম দফতরের অতিরিক্ত লেবার কমিশনারের জারি করা এক কড়া নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আগামী ৫ অক্টোবরের মধ্যেই সমস্ত শ্রমিকদের প্রাপ্য বোনাসের অর্থ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মিটিয়ে দিতে হবে। দ্বিপাক্ষিক বা ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের দীর্ঘায়িত টানাপোড়েন এড়িয়ে সরকারের এই সরাসরি পদক্ষেপে শ্রমিক পরিবারগুলিতে খুশির হাওয়া বইলেও, এই বিপুল আর্থিক বোঝার মুখে মাথায় হাত পড়েছে বাগান মালিকদের একাংশের।

সরকারি নির্দেশিকায় অত্যন্ত মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বলা হয়েছে, কোনো কর্মীর বেতন নির্ধারিত সীমার বেশি হওয়ার কারণে তিনি যদি 'পেমেন্ট অব বোনাস অ্যাক্ট, ১৯৬৫' অনুযায়ী বোনাস পাওয়ার অযোগ্যও বিবেচিত হন, তবে তাঁর বেতনকে নির্ধারিত সীমার মধ্যেই ধরে নিয়ে বোনাস প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। তবে সরকারের এই ঘোষণায় স্বস্তি মিললেও পুরোনো তিক্ত অভিজ্ঞতা ভাবাচ্ছে সাধারণ শ্রমিকদের। কারণ, গত বছরও শ্রম দফতর একইভাবে ২০ শতাংশ বোনাসের অ্যাডভাইজারি জারি করলেও বহু বাগানেই শেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের হাতে পুরো টাকা পৌঁছায়নি, যা নিয়ে চাপা অসন্তোষ এখনও অব্যাহত। অন্যদিকে, নিলামে চায়ের দাম না পাওয়া, দীর্ঘকালীন মন্দা ও ক্রমাগত উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে মালিকপক্ষ প্রশ্ন তুলছে—এই তীব্র সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে ২০ শতাংশ হারে বোনাস দেওয়া আদৌ সম্ভব কিনা।

নবান্নর এই পদক্ষেপ ঘিরে জোর রাজনৈতিক চর্চাও শুরু হয়েছে উত্তরের চা-বলয়ে। বামপন্থী ‘চিয়া কামান মজদুর ইউনিয়ন’-এর দার্জিলিং জেলার সাধারণ সম্পাদক গৌতম ঘোষ সরাসরি কটাক্ষ করে দাবি করেছেন, সরকার শুধুই কাগুজে নির্দেশিকা জারি করে দায় এড়িয়ে যাচ্ছে, বাস্তবে শ্রমিকেরা কতটা অর্থ হাতে পাবেন তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিইউসি নির্দেশিকাকে স্বাগত জানালেও গত বছরের বকেয়া বোনাস দ্রুত মেটানোর দাবি তুলে সরকারকে সতর্ক করেছে। তবে উল্টো সুর শোনা গিয়েছে আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ মনোজ টিগ্গার গলায়; তিনি নবান্নর এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে স্পষ্ট বলেন, মধ্যস্থতার দীর্ঘ টানাপোড়েন এড়িয়ে সরাসরি নির্দেশ দেওয়ায় প্রকৃত অর্থে শ্রমিকের স্বার্থই সুরক্ষিত হয়েছে।


হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বিষয় : BengalPolitics BreakingNews #nabanna HiddenStoriesNews NorthBengal TeaGardenWorkers PujaBonus

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বৈঠকের জট এড়িয়ে সরাসরি নবান্নর নির্দেশিকা! পুজোয় ২০ শতাংশ বোনাস পাচ্ছেন উত্তরবঙ্গের ৫ লক্ষ চা-শ্রমিক

প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
শিলিগুড়ি: দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে উত্তরবঙ্গের চা-বলয়ে এক বিরাট স্বস্তির বার্তা দিল রাজ্য সরকার। পাহাড় ও ডুয়ার্সের প্রায় পাঁচ লক্ষ চা-শ্রমিকের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এক ধাক্কায় ২০ শতাংশ হারে পুজো বোনাস প্রদানের সুপারিশ জারি করল নবান্ন। সোমবার শ্রম দফতরের অতিরিক্ত লেবার কমিশনারের জারি করা এক কড়া নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আগামী ৫ অক্টোবরের মধ্যেই সমস্ত শ্রমিকদের প্রাপ্য বোনাসের অর্থ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মিটিয়ে দিতে হবে। দ্বিপাক্ষিক বা ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের দীর্ঘায়িত টানাপোড়েন এড়িয়ে সরকারের এই সরাসরি পদক্ষেপে শ্রমিক পরিবারগুলিতে খুশির হাওয়া বইলেও, এই বিপুল আর্থিক বোঝার মুখে মাথায় হাত পড়েছে বাগান মালিকদের একাংশের।সরকারি নির্দেশিকায় অত্যন্ত মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বলা হয়েছে, কোনো কর্মীর বেতন নির্ধারিত সীমার বেশি হওয়ার কারণে তিনি যদি 'পেমেন্ট অব বোনাস অ্যাক্ট, ১৯৬৫' অনুযায়ী বোনাস পাওয়ার অযোগ্যও বিবেচিত হন, তবে তাঁর বেতনকে নির্ধারিত সীমার মধ্যেই ধরে নিয়ে বোনাস প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। তবে সরকারের এই ঘোষণায় স্বস্তি মিললেও পুরোনো তিক্ত অভিজ্ঞতা ভাবাচ্ছে সাধারণ শ্রমিকদের। কারণ, গত বছরও শ্রম দফতর একইভাবে ২০ শতাংশ বোনাসের অ্যাডভাইজারি জারি করলেও বহু বাগানেই শেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের হাতে পুরো টাকা পৌঁছায়নি, যা নিয়ে চাপা অসন্তোষ এখনও অব্যাহত। অন্যদিকে, নিলামে চায়ের দাম না পাওয়া, দীর্ঘকালীন মন্দা ও ক্রমাগত উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে মালিকপক্ষ প্রশ্ন তুলছে—এই তীব্র সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে ২০ শতাংশ হারে বোনাস দেওয়া আদৌ সম্ভব কিনা।নবান্নর এই পদক্ষেপ ঘিরে জোর রাজনৈতিক চর্চাও শুরু হয়েছে উত্তরের চা-বলয়ে। বামপন্থী ‘চিয়া কামান মজদুর ইউনিয়ন’-এর দার্জিলিং জেলার সাধারণ সম্পাদক গৌতম ঘোষ সরাসরি কটাক্ষ করে দাবি করেছেন, সরকার শুধুই কাগুজে নির্দেশিকা জারি করে দায় এড়িয়ে যাচ্ছে, বাস্তবে শ্রমিকেরা কতটা অর্থ হাতে পাবেন তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিইউসি নির্দেশিকাকে স্বাগত জানালেও গত বছরের বকেয়া বোনাস দ্রুত মেটানোর দাবি তুলে সরকারকে সতর্ক করেছে। তবে উল্টো সুর শোনা গিয়েছে আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ মনোজ টিগ্গার গলায়; তিনি নবান্নর এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে স্পষ্ট বলেন, মধ্যস্থতার দীর্ঘ টানাপোড়েন এড়িয়ে সরাসরি নির্দেশ দেওয়ায় প্রকৃত অর্থে শ্রমিকের স্বার্থই সুরক্ষিত হয়েছে।হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত