কলকাতা: নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আবহেই রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মোড়। এবার মুকুন্দপুরে মমতাপন্থী তৃণমূল নেতাকর্মীদের ওপর আক্রমণের ঘটনায় সরাসরি তাঁদের পাশে এসে দাঁড়াল প্রদেশ কংগ্রেস। মঙ্গলবার রাতে মুকুন্দপুর এলাকায় তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। যাদবপুর এলাকায় দলীয় কার্যালয় দখলের অভিযোগে মমতাপন্থীদের মিছিল ঘিরে এই হিংসার সূত্রপাত বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হন প্রাক্তন আইপিএস আধিকারিক তথা তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর এবং দলের আইটি সেল নেত্রী উপাসনা চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন। ওই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ময়দানে নেমেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, যা বাংলায় কংগ্রেস ও মমতা তৃণমূলের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক জোটের পথ সুগম করছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
ঘটনার কড়া সমালোচনা করে শুভঙ্কর সরকার এক বিবৃতিতে একে ‘বর্বরোচিত হামলা’ বলে তোপ দাগেন। তাঁর অভিযোগ, হামলার পর পূর্ব যাদবপুর থানাকে কেন্দ্র করে চরম উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেখানে তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় নিরাপত্তার খাতিরে আশ্রয় নিলে বিজেপি কর্মীরা থানা ঘেরাও করে তাঁকে হাতবদল করার দাবি জানাতে থাকে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অবিলম্বে অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
তবে এই সমর্থনের আড়ালে রাজনৈতিক কৌশলও স্পষ্ট করে দিয়েছেন শুভঙ্কর। রাজ্যের বিরোধী ও ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলিকে একজোট হওয়ার বার্তা দিলেও তিনি কৌশলে শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। তিনি পরিষ্কার জানান, বাংলায় ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ব্যাটন থাকবে রাহুল গান্ধীর হাতেই। অর্থাৎ, কোনো সম্ভাব্য জোট গঠিত হলে তার মূল নিয়ন্ত্রক থাকবে জাতীয় কংগ্রেস।
রাজনৈতিক সূত্রে খবর, বুধবার আহত তৃণমূল নেতাকর্মীদের দেখতে হাসপাতালে নিজে হাজির হচ্ছেন প্রদেশ কংগ্রেস প্রধান। কালীঘাট ও প্রদেশ কংগ্রেসের মধ্যে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দূরত্ব ঘোচাতে এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। এখন দেখার, বিজেপিকে রুখতে তৈরি হতে চলা এই নতুন মেরুকরণ রাজ্যের রাজনীতিতে কোন নতুন বার্তা নিয়ে আসে।

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন