নয়াদিল্লি: বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের প্রায় পাঁচ মাস অতিক্রান্ত। তারপরও ভোটের ফলাফল মেনে নিতে পারছেন না তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের অবস্থানে অনড় থেকে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কারচুপি এবং এসআইআর নিয়ে তাঁর অভিযোগ অব্যাহত। বুধবার দিল্লিতে বিরোধী জোটের বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকেও নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেন তিনি। প্রশ্ন তুলেছেন, নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের প্রধান সীমা খান্নার ভূমিকা নিয়ে। তিনি বলেন, ‘‘সীমা খান্না, ভ্যানিশ কুমার (জ্ঞানেশ কুমার) হাইজ্যাক করেছে গোটা ভোটপ্রক্রিয়া।”
মমতার দাবি, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে। গণনার দিন থেকেই কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘গণনার দিন ২,৩ রাউন্ড পর থেকে মানে পোস্টাল ব্যালট থেকে কারচুপি করেছে। তারপর মিডিয়াকে ম্যানেজ করল। সবাইকে বলল, বিজেপি জিতছে। এটাই আসল গল্প। ভ্যানিশ কুমারের একটাই লক্ষ্য ছিল, বিজেপিকে সন্তুষ্ট করা। এদের কি পদত্যাগ চাইব না? আপনারাই বলুন। এঁদের শাস্তি হবে না? জনতা চায়।” ভোটের ফল ঘোষণার পর তিনি দাবি করেছিলেন, তাঁকে হারানো হয়নি, বরং হারানো হয়েছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ৪ মে ফল প্রকাশ হয়েছে। তারপর থেকেই নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন তিনি।
এসআইআর নিয়েও মমতার আপত্তি নতুন নয়। তাঁর অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় বহু মানুষের নাম বাদ পড়েছে, যার ফলে তাঁদের ভোটাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি এদিন দিল্লির সাংবাদিক বৈঠকে মমতার অভিযোগ, এসআইআর নিয়ে আপত্তি জানাতে তিনি নিজে নির্বাচন কমিশনের কাছে গিয়েছিলেন এবং আদালতেও বিষয়টি তুলেছিলেন। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে। সেই সূত্রেই জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে ফের প্রশ্ন তোলেন তিনি এবং তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তবে মমতার এই অভিযোগগুলির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যের ফারাক রয়েছে। কমিশন এর আগে এসআইআর নিয়ে তাঁর অভিযোগকে খারিজ করে জানিয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ নিয়ম মেনেই করা হচ্ছে। কমিশনের পক্ষ থেকে প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগও অস্বীকার করা হয়েছে।
বিষয় : Mamata Banerjee New Delhi Gyanesh Kumar

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন