কলকাতা: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার কোনও ঘটনাই ঘটেনি। মঙ্গলবার তৃতীয়ার দিন কালীঘাটে মমতার বাড়ির সামনে ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি প্রসঙ্গে এমনটাই স্পষ্ট করে জানালেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা।
পুলিশের কাছে এই সংক্রান্ত কোনো হামলার তথ্য বা প্রমাণ নেই বলেই দাবি করেছেন তিনি। কমিশনারের স্পষ্ট বক্তব্য, ওই তরুণী হামলার উদ্দেশ্যে নয়, বরং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতেই সেখানে এসেছিলেন।
দিল্লির কর্মসূচি সেরে সোমবারই কালীঘাটের বাসভবনে ফিরেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাড়ির পাশেই মিলন সংঘের পুজোর উদ্বোধনে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। অভিযোগ ওঠে, ঠিক সেই সময় বাড়ি থেকে বেরোনোর প্রস্তুতি নেওয়ার মুখে ঘটে বিপত্তি। নিজেকে ভাইঝি পরিচয় দিয়ে মমতার কনভয় বা বাসভবনের সামনে হাজির হন অনুসূয়া সাহা নামের এক তরুণী।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, নেত্রীর কাছাকাছি পৌঁছে ‘পিসি’ বলে তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ার চেষ্টা করেন ওই তরুণী। এমনকি তাঁর শাড়ি ধরে টান মারারও অভিযোগ ওঠে। যদিও তৎক্ষণাৎ উপস্থিত জনতা এবং নিরাপত্তারক্ষীরা ওই তরুণীকে ধরে ফেলেন, ফলে বড় ধরনের কোনও অঘটন বা আঘাত এড়ানো সম্ভব হয়।
প্রাথমিক তথ্যে জানা গিয়েছিল, অভিযুক্তের কাছ থেকে একটি ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে এবং তিনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানান। পরে পুলিশ ওই তরুণীকে গ্রেফতার করে।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, নিউ আলিপুরের বাসিন্দা অভিযুক্ত অনুসূয়া সাহা পেশায় একজন সিভিক ভলান্টিয়ার। ২০১১ সালে পশ্চিম বন্দর থানা থেকে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়েছিল। তবে পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ওই মহিলা বিগত প্রায় এক বছর ধরে কর্তব্যে অনুপস্থিত ছিলেন এবং ডিউটিতে আসতেন না।
পাশাপাশি কমিশনার এও জানান যে, অভিযুক্ত তরুণীর বাবা একসময়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পূর্ব পরিচিত ছিলেন। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরেই তিনি দেখা করতে এসেছিলেন। সব মিলিয়ে, এই ঘটনাকে পরিকল্পিত 'হামলা' হিসেবে মানতে নারাজ লালবাজার।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন