Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Kochi Accident: ‘বাবা সব সামলে নেবে!’ ড্রাঙ্ক অ্যান্ড ড্রাইভে তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যুর পরেও যুবকের দম্ভে হতবাক পুলিশ!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৬
Kochi Accident: ‘বাবা সব সামলে নেবে!’ ড্রাঙ্ক অ্যান্ড ড্রাইভে তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যুর পরেও যুবকের দম্ভে হতবাক পুলিশ!
দুর্ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত দুই গাড়ি। ছবি-সংগৃহীত

কোচি: মদের নেশায় বুঁদ হয়ে চোখের নিমেষে কেড়ে নিল তিনটি তাজা প্রাণ। তারপর পুলিশের জেরার মুখে দাঁড়িয়ে চরম ঔদ্ধত্য দেখিয়ে অভিযুক্ত তরুণের দাবি, ‘আমার বাবা সব সামলে নেবে!’ কেরলের কোচি বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা এবং অভিযুক্তের এমন ঠান্ডা মাথার অহংকার গোটা দেশকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। বেপরোয়া গতি এবং মদ্যপানের জেরে গাড়ি চাপিয়ে তিন তরুণ-তরুণীকে হত্যার এই ঘটনায় এখন তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক শোরগোল শুরু হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত রবিবার গভীর রাতে প্রায় ১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ কোচি বিমানবন্দরের সামনের মূল রাস্তায় একটি তীব্র গতির মিনি কুপার গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে ধাক্কা মারে একটি বাইককে। ইজাজ নামে এক যুবক ওই বাইকটি চালাচ্ছিলেন এবং তাঁর পিছনে বসেছিলেন গোপিকা ও দেবিকা নামের দুই তরুণী। স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ওই তিনজনেরই বয়স একুশ থেকে বাইশ বছরের মধ্যে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পিছন থেকে করা ওই ভয়ংকর ধাক্কায় ছিটকে দূরে গিয়ে পড়েন তিন আরোহী। শুধু তাই নয়, ধাক্কা মারার পরেই থেমে না থেকে বাইকটিকে প্রায় ১০০ মিটার রাস্তা পর্যন্ত সজোরে হিঁচড়ে নিয়ে যায় ঘাতক মিনি কুপারটি। ঘটনাস্থলেই মর্মান্তিক মৃত্যু হয় ওই তিন বাইক আরোহীর।


এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় গাড়িচালক ১৯ বছরের তরুণ সুহেল সজীবকে আটক করেছে পুলিশ। তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশ জানতে পেরেছে যে, ঘটনার ঠিক আগেই একটি স্থানীয় পানশালায় বসে বন্ধুদের সঙ্গে মদ্যপান করেছিলেন ওই অভিযুক্ত তরুণ। এরপর চরম মত্ত অবস্থায় বেপরোয়া গতিতে গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বেরিয়েছিলেন তিনি, যার ফলশ্রুতিতেই এই রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনা। কিন্তু সবচেয়ে বেশি শিহরণ জাগিয়েছে থানায় আটক হওয়ার পর ওই তরুণের আচরণ। পুলিশের জেরার মুখে তাঁর মুখে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা বা কান্নার লেশমাত্র ছিল না। উল্টোদিকে বুক ফুলিয়ে তিনি বলেন, রাস্তা কি শুধু হাঁটার জন্য, গাড়ি চালানোর জন্যই তো রাস্তা তৈরি হয়েছে! আর সবচেয়ে মর্মান্তিক ব্যাপার হলো, একযোগে তিন তরুণ-তরুণীর প্রাণ কেড়ে নেওয়ার পরেও নির্দ্বিধায় তিনি পুলিশকে হুমকি দিয়ে জানান যে, এই মামলার সমস্ত ঝামেলা তাঁর বাবা একাই সামলে নেবেন।

ইতিমধ্যে ঘটনার একটি সিসিটিভি ও প্রতিবাদের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে ক্ষিপ্ত জনতা ওই তরুণ চালককে ঘিরে তীব্র বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে কেরল সরকারও। রাজ্যের আবগারি মন্ত্রী কড়া নির্দেশিকা জারি করে সমস্ত পানশালাগুলিতে নজরদারি বাড়ানোর কথা বলেছেন। কোথাও বেআইনিভাবে বা আইন ভেঙে কমবয়সিদের মদ বিক্রি করা হলে কঠোরতম আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। টাকার জোরে আইনকে বুড়ো আঙুল দেখানোর এই মানসিকতার বিরুদ্ধে এখন দেশজুড়ে কঠোর শাস্তির দাবি উঠেছে।

বিষয় : Kochi accident mini cooper crash drunk and drive

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬


Kochi Accident: ‘বাবা সব সামলে নেবে!’ ড্রাঙ্ক অ্যান্ড ড্রাইভে তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যুর পরেও যুবকের দম্ভে হতবাক পুলিশ!

প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
কোচি: মদের নেশায় বুঁদ হয়ে চোখের নিমেষে কেড়ে নিল তিনটি তাজা প্রাণ। তারপর পুলিশের জেরার মুখে দাঁড়িয়ে চরম ঔদ্ধত্য দেখিয়ে অভিযুক্ত তরুণের দাবি, ‘আমার বাবা সব সামলে নেবে!’ কেরলের কোচি বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা এবং অভিযুক্তের এমন ঠান্ডা মাথার অহংকার গোটা দেশকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। বেপরোয়া গতি এবং মদ্যপানের জেরে গাড়ি চাপিয়ে তিন তরুণ-তরুণীকে হত্যার এই ঘটনায় এখন তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক শোরগোল শুরু হয়েছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত রবিবার গভীর রাতে প্রায় ১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ কোচি বিমানবন্দরের সামনের মূল রাস্তায় একটি তীব্র গতির মিনি কুপার গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে ধাক্কা মারে একটি বাইককে। ইজাজ নামে এক যুবক ওই বাইকটি চালাচ্ছিলেন এবং তাঁর পিছনে বসেছিলেন গোপিকা ও দেবিকা নামের দুই তরুণী। স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ওই তিনজনেরই বয়স একুশ থেকে বাইশ বছরের মধ্যে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পিছন থেকে করা ওই ভয়ংকর ধাক্কায় ছিটকে দূরে গিয়ে পড়েন তিন আরোহী। শুধু তাই নয়, ধাক্কা মারার পরেই থেমে না থেকে বাইকটিকে প্রায় ১০০ মিটার রাস্তা পর্যন্ত সজোরে হিঁচড়ে নিয়ে যায় ঘাতক মিনি কুপারটি। ঘটনাস্থলেই মর্মান্তিক মৃত্যু হয় ওই তিন বাইক আরোহীর।এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় গাড়িচালক ১৯ বছরের তরুণ সুহেল সজীবকে আটক করেছে পুলিশ। তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশ জানতে পেরেছে যে, ঘটনার ঠিক আগেই একটি স্থানীয় পানশালায় বসে বন্ধুদের সঙ্গে মদ্যপান করেছিলেন ওই অভিযুক্ত তরুণ। এরপর চরম মত্ত অবস্থায় বেপরোয়া গতিতে গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বেরিয়েছিলেন তিনি, যার ফলশ্রুতিতেই এই রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনা। কিন্তু সবচেয়ে বেশি শিহরণ জাগিয়েছে থানায় আটক হওয়ার পর ওই তরুণের আচরণ। পুলিশের জেরার মুখে তাঁর মুখে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা বা কান্নার লেশমাত্র ছিল না। উল্টোদিকে বুক ফুলিয়ে তিনি বলেন, রাস্তা কি শুধু হাঁটার জন্য, গাড়ি চালানোর জন্যই তো রাস্তা তৈরি হয়েছে! আর সবচেয়ে মর্মান্তিক ব্যাপার হলো, একযোগে তিন তরুণ-তরুণীর প্রাণ কেড়ে নেওয়ার পরেও নির্দ্বিধায় তিনি পুলিশকে হুমকি দিয়ে জানান যে, এই মামলার সমস্ত ঝামেলা তাঁর বাবা একাই সামলে নেবেন।ইতিমধ্যে ঘটনার একটি সিসিটিভি ও প্রতিবাদের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে ক্ষিপ্ত জনতা ওই তরুণ চালককে ঘিরে তীব্র বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে কেরল সরকারও। রাজ্যের আবগারি মন্ত্রী কড়া নির্দেশিকা জারি করে সমস্ত পানশালাগুলিতে নজরদারি বাড়ানোর কথা বলেছেন। কোথাও বেআইনিভাবে বা আইন ভেঙে কমবয়সিদের মদ বিক্রি করা হলে কঠোরতম আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। টাকার জোরে আইনকে বুড়ো আঙুল দেখানোর এই মানসিকতার বিরুদ্ধে এখন দেশজুড়ে কঠোর শাস্তির দাবি উঠেছে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত