তেহেরান: আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির টানাপোড়েন ও তীব্র কূটনৈতিক বাকযুদ্ধের মাঝে এবার হঠাৎ করেই জায়গা করে নিল বলিউড। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খোঁচা দিতে একেবারেই এক অপ্রচলিত পথ বেছে নিল ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কটাক্ষ করতে সোশাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় বলিউড অভিনেতা অক্ষয় কুমারের একটি ট্রোল মিম (Meme) ব্যবহার করল তিউনিসিয়ায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাস।
বুধবার তিউনিসিয়ার ইরানি দূতাবাসের অফিসিয়াল সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে এই বিশেষ মিমটি শেয়ার করা হয়। বিগত কয়েক মাস ধরেই সামরিক ও কূটনৈতিক দিক থেকে আমেরিকা ও ইরানের সম্পর্ক চরম তিক্ততার পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ড্রোন সংক্রান্ত ঘটনা এবং নানাবিধ কূটনৈতিক হানাহানির মধ্যে দু’দেশের প্রশাসনই একে অপরকে তোপ দাগছে। তবে এ বার সরকারি স্তরের কূটনৈতিক ক্ষোভ বা ক্ষুরধার বিবৃতির বদলে সোশাল মিডিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্টকে হাস্যকরভাবে উপস্থাপন করতে অক্ষয় কুমারের ছবির জনপ্রিয় পোজ ও সংলাপ ব্যবহার করা হয়েছে, যা মুহূর্তের মধ্যে বিশ্বজুড়ে বিপুল সাড়া ফেলেছে।
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সোশাল মিডিয়ার যুগে বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে বা প্রতিপক্ষকে বিঁধতে রাজনৈতিক মিম ব্যবহার নতুন নয়, তবে বলিউডের কোনও প্রথম সারির অভিনেতার ছবি ব্যবহার করে কোনো দেশের রাষ্ট্রদূতের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে এমন ট্রোল করা নিঃসন্দেহে এক বিরল ঘটনা।
তবে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে এই সাম্প্রতিক বাকযুদ্ধের পটভূমিতে রয়েছে ড্রোন সংক্রান্ত বিতর্ক। ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন ড্রোন ও সামরিক তৎপরতা নিয়ে খোঁচা দেওয়া হলেও পেন্টাগনের (Pentagon) তরফে বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
পেন্টাগন জানিয়েছে, ইরান যে ড্রোনটির কার্যকারিতা বা ত্রুটি নিয়ে কটাক্ষ করছে, সেটি আসলে একটি পুরনো মডেলের (older model) ড্রোন ছিল। প্রতিরক্ষা দফতরের এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, ওই ড্রোনটিতে কোনো গোপন বা স্পর্শকাতর সামরিক তথ্য (sensitive data) সঞ্চিত ছিল না, ফলে ড্রোনটি নিষ্ক্রিয় বা ত্রুটিযুক্ত হলেও আমেরিকার প্রতিরক্ষা নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো বড় ক্ষতি বা তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটেনি।
পেন্টাগন নিরাপত্তার বিষয়টি হালকাভাবে দেখানোর চেষ্টা করলেও ইরানি দূতাবাসের এই বলিপাড়া-ঘেঁষা মিম শেয়ারের ফলে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সোশাল মিডিয়া ইউজারদের একাংশ যেমন বিষয়টিকে রসাত্মক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখছেন, তেমনই কূটনীতিবিদদের মতে, এর মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে মনস্তাত্ত্বিক পদক্ষেপে কিছুটা হলেও ব্যঙ্গাত্মক বার্তা দিতে চেয়েছে তেহরান।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন