নয়াদিল্লি: খরা কাটল জাপানের মাঠে।
প্রতিযোগিতার প্রথম দুই দিনে চারটি রূপো ঘরে উঠলেও অধরাই থেকে গিয়েছিল সোনার পদক। অবশেষে এশিয়ান গেমসে ভারতকে প্রথম সোনা এনে দিলেন হরমনপ্রীত কৌররা। ক্রিকেটমঞ্চে এশিয়া কাপ ফাইনালেরই যেন এক হুবহু পুনরাবৃত্তি দেখা গেল এ দিন।
নিশিনের করোগি স্পোর্টস পার্কে শ্রীলঙ্কাকে স্রেফ উড়িয়ে দিল ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল। লঙ্কানদের ১৪৭ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে পোডিয়ামের সর্বোচ্চ স্থানে জাতীয় পতাকা ওড়ালেন হরমনপ্রীতেরা।
টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্তে শুরু থেকেই আগুনে মেজাজে ধরা দেন দুই ভারতীয় ওপেনার স্মৃতি মান্ধানা ও শেফালি বর্মা। বাউন্ডারি ছোট থাকার পূর্ণ সুবিধা তুলে লঙ্কান বোলিংকে স্রেফ ছাতু করতে থাকেন দু’জনে।
প্রথম পাওয়ার প্লে-তেই বিনা উইকেটে ৬৭ রান তুলে ভারতের জয়ের শক্ত ভিত তৈরি হয়ে যায়। ২৯ বলে ৪৮ রানের আগ্রাসী ইনিংস খেলে শেফালি সাজঘরে ফিরলেও, এক পঞ্জিকাবর্ষে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে সর্বোচ্চ রানের বিশ্বরেকর্ড গড়ে ফেলেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার লরা উলভার্টকে টপকে এই নজির গড়েন হরমনপ্রীতের সতীর্থ।
শেফালি আউট হলেও অন্য প্রান্ত থেকে রান তোলার গতি কমতে দেননি স্মৃতি। ৪৫ বলে ৭৯ রানের এক ঝকঝকে ইনিংস উপহার দেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। অধিনায়ক হরমনপ্রীত (১৯) রান না পেলেও শেষ দিকে শ্রীলঙ্কার বোলারদের ওপর সংহারমূর্তি ধারণ করেন রিচা ঘোষ। ৬টি চার ও ৩টি ছক্কায় সাজানো তাঁর ২২ বলে ৪৯ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ভর করেই নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২১৬ রানের পাহাড়প্রমাণ স্কোর গড়ে ভারত।
২১৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতীয় স্পিনের জালে পুরোপুরি আটকে পড়ে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপ। অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু (২৯) ছাড়া লঙ্কান ব্যাটারদের কেউই ভারতীয় স্পিনারদের বিষাক্ত ঘূর্ণির কোনও জবাব খুঁজে পাননি।
শ্রীলঙ্কার ঝুলিতে থাকা সবকটি উইকেটই ভাগ করে নেন ভারতের চার স্পিনার। ৪ ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে ৩টি উইকেট তুলে নেন দীপ্তি শর্মা। দুটি করে উইকেট পান শ্রী চরণি, শেফালি ও শ্রেয়াঙ্কা পাতিল। ১৫.৪ ওভারে মাত্র ৬৯ রানেই শেষ হয়ে যায় শ্রীলঙ্কার ইনিংস। চারপাশের ব্যর্থতার মাঝে আবার সেই ভারতের মেয়েরাই সোনা জিতে মুখ উজ্জ্বল করলেন দেশের।

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন