Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Murshidabad: জুয়ার ঠেকে হানা, বোমায় রক্তাক্ত পুলিশ! মুর্শিদাবাদের সালারে ধুন্ধুমার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Murshidabad: জুয়ার ঠেকে হানা, বোমায় রক্তাক্ত পুলিশ! মুর্শিদাবাদের সালারে ধুন্ধুমার
মুর্শিদাবাদের সালারে আক্রান্ত সাদেক আলি।

বহরমপুর: জুয়ার কারবারে রাশ টানতে গিয়ে দুষ্কৃতীদের বোমাবাজির মুখে পড়ল পুলিশ। দুষ্কৃতীদের ছোঁড়া বোমার আঘাতে গুরুতর আহত হলেন এক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই)। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে স্থানান্তরিত করা হয়েছে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। রবিবার গভীর রাতে মুর্শিদাবাদের সালার থানার খাঁড়েরা গ্রামের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। গোটা ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজ্যরমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি জানিয়েছেন, ক্রমশই হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে মুর্শিদাবাদ। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, খাঁড়েরা গ্রামে বেশ কিছু দিন ধরেই একটি নির্দিষ্ট ডেরায় নিয়মিত জুয়ার আসর বসছিল। গোপন সূত্রে সেই খবর পৌঁছে যায় সালার থানায়। রবিবার রাতে জুয়ার সেই ঠেকে হানা দেওয়ার পরিকল্পনা করে পুলিশ। সেই মতো গভীর রাতে সালার থানার এএসআই সাদেক আলির নেতৃত্বে একটি পুলিশবাহিনী খাঁড়েরা গ্রামের ওই আস্তানায় অভিযান চালায়।

অভিযোগ, পুলিশবাহিনী গ্রামে পৌঁছানো মাত্রই তাদের ঘিরে ফেলে তাণ্ডব শুরু করে দুষ্কৃতীরা। রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি বোমাবর্ষণ শুরু হয়। পর পর বিকট শব্দে বেশ কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে সমগ্র খাঁড়েরা গ্রাম। আচমকা এই হামলায় ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে পুলিশ দল। দুষ্কৃতীদের ছোঁড়া স্প্লিন্টারের আঘাতে ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন এএসআই সাদেক আলি। এ ছাড়া বোমার আঘাতে জখম হন আরও কয়েক জন পুলিশকর্মী।

ঘটনার আকস্মিকতা সামলে উঠে সালার থানায় খবর দেওয়া হলে রাতেই বিশাল অতিরিক্ত পুলিশবাহিনী ও জেলা পুলিশের পদস্থ আধিকারিকেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। জখম পুলিশকর্মীদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় সালার গ্রামীণ হাসপাতালে। তবে এএসআই সাদেক আলির আঘাত অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় এবং শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় চিকিৎসকেরা তাঁকে বহরমপুরের মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার পরামর্শ দেন। বর্তমানে তিনি সেখানেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

হামলার পর পর পর বোমা ছুড়ে রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতী দল। খবর পেয়ে এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি অভিযান শুরু করে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাফ। রাতভর গ্রামে তল্লাশি চালিয়ে ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে বেশ কয়েক জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে পুলিশ। ওই বেআইনি জুয়ার ঠেকে কারা যুক্ত ছিল, পুলিশের ওপর হামলা চালাতে আচমকা এত বোমা কোথা থেকে এল এবং মূল চক্রী কারা, তা খতিয়ে দেখতে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ।

কলকাতার রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, মুর্শিদাবাদ ক্রমশ উপদ্রুত জেলার আকার নিচ্ছে। হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। আইন, কানুন কিছুই মানা হচ্ছে না। সালাদের ঘটনায় দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি হবে বলেও জানিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। সম্প্রতি রাজ্য়ের বেশ কিছু এলকায় পুলিশের বিরুদ্ধে যেমন অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছে, তেমনই পুলিশের মার খাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। 

সোমবার সকালেও থমথমে খাঁড়েরা গ্রাম। নতুন করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য গোটা গ্রাম জুড়ে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে বিশাল পুলিশবাহিনী ও র‌্যাফ। ঘটনার সাথে যুক্ত মূল অভিযুক্তদের খোঁজে চিরুনি তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।

বিষয় : HiddenStoriesNews #Salara #MurshidabadNews #WestBengalPolice #CrimeNews #HiddenStoriesNews #BengalNews #BreakingNews Bengal

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


Murshidabad: জুয়ার ঠেকে হানা, বোমায় রক্তাক্ত পুলিশ! মুর্শিদাবাদের সালারে ধুন্ধুমার

প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
বহরমপুর: জুয়ার কারবারে রাশ টানতে গিয়ে দুষ্কৃতীদের বোমাবাজির মুখে পড়ল পুলিশ। দুষ্কৃতীদের ছোঁড়া বোমার আঘাতে গুরুতর আহত হলেন এক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই)। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে স্থানান্তরিত করা হয়েছে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। রবিবার গভীর রাতে মুর্শিদাবাদের সালার থানার খাঁড়েরা গ্রামের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। গোটা ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজ্যরমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি জানিয়েছেন, ক্রমশই হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে মুর্শিদাবাদ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, খাঁড়েরা গ্রামে বেশ কিছু দিন ধরেই একটি নির্দিষ্ট ডেরায় নিয়মিত জুয়ার আসর বসছিল। গোপন সূত্রে সেই খবর পৌঁছে যায় সালার থানায়। রবিবার রাতে জুয়ার সেই ঠেকে হানা দেওয়ার পরিকল্পনা করে পুলিশ। সেই মতো গভীর রাতে সালার থানার এএসআই সাদেক আলির নেতৃত্বে একটি পুলিশবাহিনী খাঁড়েরা গ্রামের ওই আস্তানায় অভিযান চালায়।অভিযোগ, পুলিশবাহিনী গ্রামে পৌঁছানো মাত্রই তাদের ঘিরে ফেলে তাণ্ডব শুরু করে দুষ্কৃতীরা। রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি বোমাবর্ষণ শুরু হয়। পর পর বিকট শব্দে বেশ কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে সমগ্র খাঁড়েরা গ্রাম। আচমকা এই হামলায় ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে পুলিশ দল। দুষ্কৃতীদের ছোঁড়া স্প্লিন্টারের আঘাতে ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন এএসআই সাদেক আলি। এ ছাড়া বোমার আঘাতে জখম হন আরও কয়েক জন পুলিশকর্মী।ঘটনার আকস্মিকতা সামলে উঠে সালার থানায় খবর দেওয়া হলে রাতেই বিশাল অতিরিক্ত পুলিশবাহিনী ও জেলা পুলিশের পদস্থ আধিকারিকেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। জখম পুলিশকর্মীদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় সালার গ্রামীণ হাসপাতালে। তবে এএসআই সাদেক আলির আঘাত অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় এবং শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় চিকিৎসকেরা তাঁকে বহরমপুরের মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার পরামর্শ দেন। বর্তমানে তিনি সেখানেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।হামলার পর পর পর বোমা ছুড়ে রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতী দল। খবর পেয়ে এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি অভিযান শুরু করে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাফ। রাতভর গ্রামে তল্লাশি চালিয়ে ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে বেশ কয়েক জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে পুলিশ। ওই বেআইনি জুয়ার ঠেকে কারা যুক্ত ছিল, পুলিশের ওপর হামলা চালাতে আচমকা এত বোমা কোথা থেকে এল এবং মূল চক্রী কারা, তা খতিয়ে দেখতে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ।কলকাতার রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, মুর্শিদাবাদ ক্রমশ উপদ্রুত জেলার আকার নিচ্ছে। হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। আইন, কানুন কিছুই মানা হচ্ছে না। সালাদের ঘটনায় দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি হবে বলেও জানিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। সম্প্রতি রাজ্য়ের বেশ কিছু এলকায় পুলিশের বিরুদ্ধে যেমন অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছে, তেমনই পুলিশের মার খাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। সোমবার সকালেও থমথমে খাঁড়েরা গ্রাম। নতুন করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য গোটা গ্রাম জুড়ে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে বিশাল পুলিশবাহিনী ও র‌্যাফ। ঘটনার সাথে যুক্ত মূল অভিযুক্তদের খোঁজে চিরুনি তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত