Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Navi Pillay: ম্যান্ডেলার হয়ে লড়েছিলেন আইনি লড়াই! নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাভি পিল্লাই

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬
 Navi Pillay: ম্যান্ডেলার হয়ে লড়েছিলেন আইনি লড়াই! নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাভি পিল্লাই
নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাভি পিল্লাই। ফাইল ছবি

জেনেভা: আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও মানবাধিকার রক্ষার ইতিহাসে এক সোনালী অধ্যায় যুক্ত হলো। ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত প্রখ্যাত আইনি ব্যক্তিত্ব ও প্রাক্তন বিচারপতি নাভানেথেম নাভি পিল্লাই। শুক্রবার নরওয়ের নোবেল কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে এই সর্বোচ্চ সম্মানের জন্য তাঁর নাম ঘোষণা করে। বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে আজীবন আপসহীন সংগ্রাম, আন্তর্জাতিক আদালত এবং রাষ্ট্রপুঞ্জে মানবাধিকার রক্ষায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। এমনকি কিংবদন্তি নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার হয়েও অতীতে আদালতে সওয়াল করেছিলেন এই অকুতোভয় তামিল কন্যা।

চলতি বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের আর্থিক মূল্য ১ কোটি ২০ লক্ষ সুইডিশ ক্রোনা। আগামী ১০ ডিসেম্বর নরওয়ের অসলো শহরে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এই সম্মান তুলে দেওয়া হবে। নাভি পিল্লাইয়ের নোবেল জয়ের খবর সামনে আসতেই খুশির হাওয়া বইছে আন্তর্জাতিক প্রশাসনিক মহলে। রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার দপ্তরের মুখপাত্র শাবিয়া মান্টু জেনেভায় এক বিশেষ বার্তায় পিল্লাইয়ের ভিয়সী প্রশংসা করে জানান, “বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার সুরক্ষায় তাঁর পদক্ষেপ অনন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে এবং এই মুহূর্তে মানব কল্যাণে আরও বেশি দায়বদ্ধতা প্রয়োজন।”


দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান শহরে এক সাধারণ তামিল পরিবারে জন্ম নাভি পিল্লাইয়ের। জীবনের সূচনা থেকেই বর্ণবিদ্বেষের চরম নিষ্ঠুরতা প্রত্যক্ষ করেছিলেন তিনি। সমস্ত বাধা পেরিয়ে ১৯৬৭ সালে তিনি নিজস্ব একটি আইন সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জুরিডিক্যাল সায়েন্সে উচ্চশিক্ষা শেষ করে ১৯৮৮ সালে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার হাই কোর্টের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হয়ে তিনি ইতিহাস গড়েছিলেন। পরবর্তীকালে ১৯৯৯ সালে রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান বিচারপতি এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের হেভিওয়েট বিচারকের দায়িত্ব সামলান তিনি।

২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের পদে থেকে বিশ্বমঞ্চে নিজের দক্ষতার ছাপ রেখেছিলেন নাভি পিল্লাই। শুধু তাই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অধিকৃত প্যালেস্টাইন ভূখণ্ড নিয়ে গঠিত রাষ্ট্রপুঞ্জের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সভাপতিত্ব করেছিলেন তিনি। ২০১৯ সালে মায়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে অ্যাডহক বিচারক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এই দূরদর্শী আইনি ব্যক্তিত্ব। তাঁর এই নোবেল জয় বিশ্বের সমস্ত শোষিত মানুষের লড়াইয়ে এক নতুন অনুপ্রেরণা যোগাল।

বিষয় : navi pillay nobel peace prize united nations

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬


Navi Pillay: ম্যান্ডেলার হয়ে লড়েছিলেন আইনি লড়াই! নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাভি পিল্লাই

প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
জেনেভা: আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও মানবাধিকার রক্ষার ইতিহাসে এক সোনালী অধ্যায় যুক্ত হলো। ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত প্রখ্যাত আইনি ব্যক্তিত্ব ও প্রাক্তন বিচারপতি নাভানেথেম নাভি পিল্লাই। শুক্রবার নরওয়ের নোবেল কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে এই সর্বোচ্চ সম্মানের জন্য তাঁর নাম ঘোষণা করে। বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে আজীবন আপসহীন সংগ্রাম, আন্তর্জাতিক আদালত এবং রাষ্ট্রপুঞ্জে মানবাধিকার রক্ষায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। এমনকি কিংবদন্তি নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার হয়েও অতীতে আদালতে সওয়াল করেছিলেন এই অকুতোভয় তামিল কন্যা।চলতি বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের আর্থিক মূল্য ১ কোটি ২০ লক্ষ সুইডিশ ক্রোনা। আগামী ১০ ডিসেম্বর নরওয়ের অসলো শহরে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এই সম্মান তুলে দেওয়া হবে। নাভি পিল্লাইয়ের নোবেল জয়ের খবর সামনে আসতেই খুশির হাওয়া বইছে আন্তর্জাতিক প্রশাসনিক মহলে। রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার দপ্তরের মুখপাত্র শাবিয়া মান্টু জেনেভায় এক বিশেষ বার্তায় পিল্লাইয়ের ভিয়সী প্রশংসা করে জানান, “বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার সুরক্ষায় তাঁর পদক্ষেপ অনন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে এবং এই মুহূর্তে মানব কল্যাণে আরও বেশি দায়বদ্ধতা প্রয়োজন।”দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান শহরে এক সাধারণ তামিল পরিবারে জন্ম নাভি পিল্লাইয়ের। জীবনের সূচনা থেকেই বর্ণবিদ্বেষের চরম নিষ্ঠুরতা প্রত্যক্ষ করেছিলেন তিনি। সমস্ত বাধা পেরিয়ে ১৯৬৭ সালে তিনি নিজস্ব একটি আইন সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জুরিডিক্যাল সায়েন্সে উচ্চশিক্ষা শেষ করে ১৯৮৮ সালে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার হাই কোর্টের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হয়ে তিনি ইতিহাস গড়েছিলেন। পরবর্তীকালে ১৯৯৯ সালে রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান বিচারপতি এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের হেভিওয়েট বিচারকের দায়িত্ব সামলান তিনি।২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের পদে থেকে বিশ্বমঞ্চে নিজের দক্ষতার ছাপ রেখেছিলেন নাভি পিল্লাই। শুধু তাই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অধিকৃত প্যালেস্টাইন ভূখণ্ড নিয়ে গঠিত রাষ্ট্রপুঞ্জের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সভাপতিত্ব করেছিলেন তিনি। ২০১৯ সালে মায়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে অ্যাডহক বিচারক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এই দূরদর্শী আইনি ব্যক্তিত্ব। তাঁর এই নোবেল জয় বিশ্বের সমস্ত শোষিত মানুষের লড়াইয়ে এক নতুন অনুপ্রেরণা যোগাল।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত