Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

শেষকৃত্যের তোড়জোড় পরিবারে, তিনতলা ডুবে যাওয়া বাড়ি থেকে উদ্ধার বৃদ্ধা। ১০ দিন কীভাবে বাঁচলেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শেষকৃত্যের তোড়জোড় পরিবারে, তিনতলা ডুবে যাওয়া বাড়ি থেকে উদ্ধার বৃদ্ধা। ১০ দিন কীভাবে বাঁচলেন?
তিনতলা ডুবে যাওয়া বাড়ি থেকে উদ্ধার বৃদ্ধা। ছবি-সংগৃহীত

কাঠমান্ডু: মৃত্যু যখন চারপাশ গ্রাস করে নিয়েছে, তখনও এক চিলতে প্রাণশক্তি কীভাবে প্রকৃতির সব নিয়ম ভেঙে দেয়—তারই অবিশ্বাস্য সাক্ষী থাকল নেপাল। হড়পা বানের ভয়াল তাণ্ডবে চারতলা বাড়ির তিনটি তলাই তলিয়ে গিয়েছিল মাটির নিচে, এমনকি চারতলার একাংশও ঢেকে গিয়েছিল কাদামাটির নিশ্ছিদ্র চাদরে। বিপর্যয়ের দশ দিন পর, সেই মৃত্যুর ফাঁদ থেকেই শনিবার সকালে আচমকা ভেসে এল এক ক্ষীণ কান্নার আওয়াজ। ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে জীবন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হল ৬৪ বছরের চণ্ডিকা শ্রেষ্ঠাকে, যা খোদ উদ্ধারকারীদের কাছেও কোনো অবিশ্বাস্য মিরাকলের চেয়ে কম নয়।

বেত্রাবতী নদীর তীরবর্তী নুয়াকোট জেলার বিদুর পুরসভা এলাকার বাসিন্দা চণ্ডিকা শ্রেষ্ঠার বাড়িটি গত ২৬ অগস্ট হঠাৎ ধেয়ে আসা হড়পা বানের কাদায় পুরোপুরি বসে যায়। বাইরে থেকে জেগে ছিল কেবল চারতলার ভাঙাচোরা একাংশ। নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (এপিএফ) ইতিপূর্বে সেখানে তল্লাশি চালিয়ে কাউকে না পেয়ে ধরে নিয়েছিল যে প্রাণের আর কোনো অস্তিত্ব নেই। এরপর মাটি সরিয়ে রাস্তা মেরামতের কাজ চলাকালীন শনিবার আচমকাই কান্নার মৃদু শব্দ কানে আসে জওয়ানদের। সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ। চারতলার একটি ভাঙা জানালা দিয়ে কাদার মধ্যে হামাগুড়ি দিয়ে ভেতরে ঢোকেন উদ্ধারকারীরা, কান্নার সূত্র ধরে পৌঁছে যান অবরুদ্ধ বৃদ্ধার কাছে।

খাবার আর আলোহীন নরককুণ্ডে টানা দশ দিন কীভাবে এই অশীতিপর বৃদ্ধা বেঁচে রইলেন, তা ভেবে চিকিৎসকরাও তাজ্জব বনে গেছেন। তিনি নিজে এখনও কোনো কথা বলার মতো অবস্থায় নেই; উদ্ধার করার পরই নেপালি সেনার কপ্টারে তাঁকে কাঠমান্ডুতে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চণ্ডিকা দেবীর পরিবারের বাকি চার সদস্য এখনও নিখোঁজ এবং ধরে নেওয়া হয়েছিল বৃদ্ধাও আর বেঁচে নেই। এমনকি পরিবার তাঁর পারলৌকিক ক্রিয়ার ব্যবস্থাও প্রায় সেরে ফেলেছিল। কিন্তু উদ্ধারের ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই হাসপাতালে ছুটে যান পরিজনেরা এবং চণ্ডিকাদেবীকে জীবিত দেখে নিজেদের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারেননি তাঁরা।

উদ্ধারকারীদের বর্ণনা অনুযায়ী, হড়পা বানের তোড়ে নেমে আসা পলিতে গোটা এলাকার মাটি প্রায় ১০০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়ে গিয়েছে, যাতে বহু বাড়ি স্রেফ মাটির নিচে সমাধিস্ত হয়ে পড়েছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশজুড়ে ইতিমধ্যে ১,৩৩৮ জনের নিথর দেহ উদ্ধার হয়েছে এবং এখনও নিখোঁজ রয়েছেন পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ। কিন্তু এই তীব্র হাহাকার আর মৃত্যুমিছিলের মধ্যেও চণ্ডিকা শ্রেষ্ঠার ফিরে আসা যেন প্রকৃতির বুকে লেখা এক অদম্য জীবনের উপাখ্যান।


হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বিষয় : HiddenStoriesNews NepalDisaster MiracleRescue NepalLandslide SurvivalStory TragedyAndHope

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


শেষকৃত্যের তোড়জোড় পরিবারে, তিনতলা ডুবে যাওয়া বাড়ি থেকে উদ্ধার বৃদ্ধা। ১০ দিন কীভাবে বাঁচলেন?

প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
কাঠমান্ডু: মৃত্যু যখন চারপাশ গ্রাস করে নিয়েছে, তখনও এক চিলতে প্রাণশক্তি কীভাবে প্রকৃতির সব নিয়ম ভেঙে দেয়—তারই অবিশ্বাস্য সাক্ষী থাকল নেপাল। হড়পা বানের ভয়াল তাণ্ডবে চারতলা বাড়ির তিনটি তলাই তলিয়ে গিয়েছিল মাটির নিচে, এমনকি চারতলার একাংশও ঢেকে গিয়েছিল কাদামাটির নিশ্ছিদ্র চাদরে। বিপর্যয়ের দশ দিন পর, সেই মৃত্যুর ফাঁদ থেকেই শনিবার সকালে আচমকা ভেসে এল এক ক্ষীণ কান্নার আওয়াজ। ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে জীবন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হল ৬৪ বছরের চণ্ডিকা শ্রেষ্ঠাকে, যা খোদ উদ্ধারকারীদের কাছেও কোনো অবিশ্বাস্য মিরাকলের চেয়ে কম নয়।বেত্রাবতী নদীর তীরবর্তী নুয়াকোট জেলার বিদুর পুরসভা এলাকার বাসিন্দা চণ্ডিকা শ্রেষ্ঠার বাড়িটি গত ২৬ অগস্ট হঠাৎ ধেয়ে আসা হড়পা বানের কাদায় পুরোপুরি বসে যায়। বাইরে থেকে জেগে ছিল কেবল চারতলার ভাঙাচোরা একাংশ। নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (এপিএফ) ইতিপূর্বে সেখানে তল্লাশি চালিয়ে কাউকে না পেয়ে ধরে নিয়েছিল যে প্রাণের আর কোনো অস্তিত্ব নেই। এরপর মাটি সরিয়ে রাস্তা মেরামতের কাজ চলাকালীন শনিবার আচমকাই কান্নার মৃদু শব্দ কানে আসে জওয়ানদের। সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ। চারতলার একটি ভাঙা জানালা দিয়ে কাদার মধ্যে হামাগুড়ি দিয়ে ভেতরে ঢোকেন উদ্ধারকারীরা, কান্নার সূত্র ধরে পৌঁছে যান অবরুদ্ধ বৃদ্ধার কাছে।খাবার আর আলোহীন নরককুণ্ডে টানা দশ দিন কীভাবে এই অশীতিপর বৃদ্ধা বেঁচে রইলেন, তা ভেবে চিকিৎসকরাও তাজ্জব বনে গেছেন। তিনি নিজে এখনও কোনো কথা বলার মতো অবস্থায় নেই; উদ্ধার করার পরই নেপালি সেনার কপ্টারে তাঁকে কাঠমান্ডুতে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চণ্ডিকা দেবীর পরিবারের বাকি চার সদস্য এখনও নিখোঁজ এবং ধরে নেওয়া হয়েছিল বৃদ্ধাও আর বেঁচে নেই। এমনকি পরিবার তাঁর পারলৌকিক ক্রিয়ার ব্যবস্থাও প্রায় সেরে ফেলেছিল। কিন্তু উদ্ধারের ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই হাসপাতালে ছুটে যান পরিজনেরা এবং চণ্ডিকাদেবীকে জীবিত দেখে নিজেদের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারেননি তাঁরা।উদ্ধারকারীদের বর্ণনা অনুযায়ী, হড়পা বানের তোড়ে নেমে আসা পলিতে গোটা এলাকার মাটি প্রায় ১০০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়ে গিয়েছে, যাতে বহু বাড়ি স্রেফ মাটির নিচে সমাধিস্ত হয়ে পড়েছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশজুড়ে ইতিমধ্যে ১,৩৩৮ জনের নিথর দেহ উদ্ধার হয়েছে এবং এখনও নিখোঁজ রয়েছেন পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ। কিন্তু এই তীব্র হাহাকার আর মৃত্যুমিছিলের মধ্যেও চণ্ডিকা শ্রেষ্ঠার ফিরে আসা যেন প্রকৃতির বুকে লেখা এক অদম্য জীবনের উপাখ্যান।হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত