Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Durga Puja 2026:‘বিরিয়ানি খান, তবে হিন্দু দোকান থেকে!’ পুজোর মুখে ব্যানার-পোস্টার ঘিরে চরম বিতর্ক, তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৬
 Durga Puja 2026:‘বিরিয়ানি খান, তবে হিন্দু দোকান থেকে!’ পুজোর মুখে ব্যানার-পোস্টার ঘিরে চরম বিতর্ক, তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি
ছবি-সংগৃহীত

শিলিগুড়ি: দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে শিলিগুড়ি শহরজুড়ে নতুন করে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক দানা বেঁধেছে। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ‘হিন্দু জাগরণ মঞ্চ’-এর নামে কিছু বিতর্কিত পোস্টার ও ব্যানার সামনে আসায় রাজ্যজুড়ে শোরগোল শুরু হয়েছে। ওই পোস্টারগুলিতে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, পুজোর দিনগুলোতে সাধারণ মানুষ যেন বিরিয়ানি কিংবা পুজোর সামগ্রী শুধুমাত্র হিন্দু দোকান থেকেই কেনেন। রবিবারের সকালে শিলিগুড়ির বিভিন্ন দেওয়ালে এই পোস্টারগুলি নজরে আসতেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

পোস্টারগুলির বয়ান ঘিরে ইতিমধ্যেই তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। একটি পোস্টারে লেখা রয়েছে, “বিরিয়ানি খেতে বারণ করা হচ্ছে না। বিরিয়ানি খান, কিন্তু হিন্দু দোকান থেকে।” আবার অন্য একটি ব্যানারে আহ্বান জানানো হয়েছে যে, আসন্ন পুজোয় সমস্ত কেনাকাটা যেন শুধুমাত্র হিন্দু বিক্রেতাদের দোকান থেকেই করা হয়। দীর্ঘকাল ধরে এই এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষের একাংশ এমন ফতোয়ায় তীব্র বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। তাঁদের স্পষ্ট কথা, বহু বছর ধরে সর্বধর্মের মানুষ মিলেমিশে এই শহরে ব্যবসা করে আসছেন, কিন্তু উৎসবের মুখে এভাবে ধর্ম দেখে কেনাকাটার নিদান দেওয়া একেবারেই কাম্য নয়।

যদিও এই পোস্টার বা ব্যানার ঘিরে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তুঙ্গে উঠলেও আয়োজকদের পক্ষ থেকে অন্য যুক্তি দেওয়া হয়েছে। হিন্দু জাগরণ মঞ্চের শিলিগুড়ি মহানগর সংযোজক অভিষেক দাসের দাবি, সমাজ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নানা বিষয়ে সতর্কবার্তা দিতেই এই পোস্টার দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট অংশকে সামনে এনে অযথা জলঘোলা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে ময়দানে নেমেছেন শিলিগুড়ির প্রাক্তন মেয়র গৌতম দেব। তিনি সাফ জানান, ভারত একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ, তাই এমন বিভাজনমূলক পোস্টার সত্যি ভাবনার বাইরে। একই সুরে সিপিএমের প্রাক্তন বিধায়ক অশোক ভট্টাচার্যও তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, এটি সমাজে ঘৃণা ছড়ানোর এক জঘন্য রাজনীতি। শিলিগুড়িতে মারোয়ারি থেকে নেপালি—সব সম্প্রদায়ের মানুষের ব্যবসাকে এভাবে সংকটে ফেলা যায় না।

যদিও এই বিতর্ক প্রসঙ্গে বিজেপির জেলা সভাপতি অরুণ মণ্ডল আয়োজকদের পক্ষে সুর চড়িয়েছেন। তাঁর দাবি, সনাতনী রীতি মেনে চলা এবং আমিষ-নিরামিষ খাদ্যাভ্যাস নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার সবার রয়েছে। প্রসঙ্গত, এর আগে বাংলায় সাধু-সন্তদের নিদান এবং আমিষ বিতর্ক নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। এবার দুর্গাপুজো একেবারে দোরগোড়ায় কড়া নাড়তেই শিলিগুড়িতে এই নতুন ফতোয়া ও রাজনৈতিক তরজা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

বিষয় : Siliguri News durgapuja BENGAIFOOD BIRYANICONTROVERSY

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬


Durga Puja 2026:‘বিরিয়ানি খান, তবে হিন্দু দোকান থেকে!’ পুজোর মুখে ব্যানার-পোস্টার ঘিরে চরম বিতর্ক, তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
শিলিগুড়ি: দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে শিলিগুড়ি শহরজুড়ে নতুন করে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক দানা বেঁধেছে। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ‘হিন্দু জাগরণ মঞ্চ’-এর নামে কিছু বিতর্কিত পোস্টার ও ব্যানার সামনে আসায় রাজ্যজুড়ে শোরগোল শুরু হয়েছে। ওই পোস্টারগুলিতে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, পুজোর দিনগুলোতে সাধারণ মানুষ যেন বিরিয়ানি কিংবা পুজোর সামগ্রী শুধুমাত্র হিন্দু দোকান থেকেই কেনেন। রবিবারের সকালে শিলিগুড়ির বিভিন্ন দেওয়ালে এই পোস্টারগুলি নজরে আসতেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।পোস্টারগুলির বয়ান ঘিরে ইতিমধ্যেই তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। একটি পোস্টারে লেখা রয়েছে, “বিরিয়ানি খেতে বারণ করা হচ্ছে না। বিরিয়ানি খান, কিন্তু হিন্দু দোকান থেকে।” আবার অন্য একটি ব্যানারে আহ্বান জানানো হয়েছে যে, আসন্ন পুজোয় সমস্ত কেনাকাটা যেন শুধুমাত্র হিন্দু বিক্রেতাদের দোকান থেকেই করা হয়। দীর্ঘকাল ধরে এই এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষের একাংশ এমন ফতোয়ায় তীব্র বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। তাঁদের স্পষ্ট কথা, বহু বছর ধরে সর্বধর্মের মানুষ মিলেমিশে এই শহরে ব্যবসা করে আসছেন, কিন্তু উৎসবের মুখে এভাবে ধর্ম দেখে কেনাকাটার নিদান দেওয়া একেবারেই কাম্য নয়।যদিও এই পোস্টার বা ব্যানার ঘিরে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তুঙ্গে উঠলেও আয়োজকদের পক্ষ থেকে অন্য যুক্তি দেওয়া হয়েছে। হিন্দু জাগরণ মঞ্চের শিলিগুড়ি মহানগর সংযোজক অভিষেক দাসের দাবি, সমাজ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নানা বিষয়ে সতর্কবার্তা দিতেই এই পোস্টার দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট অংশকে সামনে এনে অযথা জলঘোলা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে ময়দানে নেমেছেন শিলিগুড়ির প্রাক্তন মেয়র গৌতম দেব। তিনি সাফ জানান, ভারত একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ, তাই এমন বিভাজনমূলক পোস্টার সত্যি ভাবনার বাইরে। একই সুরে সিপিএমের প্রাক্তন বিধায়ক অশোক ভট্টাচার্যও তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, এটি সমাজে ঘৃণা ছড়ানোর এক জঘন্য রাজনীতি। শিলিগুড়িতে মারোয়ারি থেকে নেপালি—সব সম্প্রদায়ের মানুষের ব্যবসাকে এভাবে সংকটে ফেলা যায় না।যদিও এই বিতর্ক প্রসঙ্গে বিজেপির জেলা সভাপতি অরুণ মণ্ডল আয়োজকদের পক্ষে সুর চড়িয়েছেন। তাঁর দাবি, সনাতনী রীতি মেনে চলা এবং আমিষ-নিরামিষ খাদ্যাভ্যাস নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার সবার রয়েছে। প্রসঙ্গত, এর আগে বাংলায় সাধু-সন্তদের নিদান এবং আমিষ বিতর্ক নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। এবার দুর্গাপুজো একেবারে দোরগোড়ায় কড়া নাড়তেই শিলিগুড়িতে এই নতুন ফতোয়া ও রাজনৈতিক তরজা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত