কলকাতা: রাজ্য সরকারের পাঠানো তথাকথিত 'গুন্ডা দমন বিল' রাষ্ট্রপতি ফেরত পাঠিয়েছেন! শুক্রবার দিল্লি থেকে এই খবরের রটে যায়। রাতে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে এই খবরকে ভুয়ো এবং ভিত্তিহীন বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন,বিলটি রাষ্ট্রপতির কাছে এখনও পৌঁছয়ইনি। তা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বিবেচনাধীন রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিলে 'গুন্ডা' বলে কোনও শব্দেরই উল্লেখ নেই, এটা সম্পূর্ণ সাংবাদিকদের তৈরি ভাষা।
এ দিন নবান্নে স্বরাষ্ট্রসচিব ও রাজ্য পুলিশের ডিজি-কে পাশে বসিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এই বিভ্রান্তিকর প্রচারের কড়া সমালোচনা করেন। বিলে 'গুন্ডা' শব্দের ব্যাখ্যা নিয়ে আপত্তির খবর খণ্ডন করে তিনি বলেন, "এই বিলে কোনও আইনি ত্রুটি নেই। সংবিধানের সপ্তম শিডিউলের ২৫৪(২) অনুচ্ছেদ মেনেই রাজ্য নিজস্ব এক্তিয়ারের মধ্যে এই প্রস্তাব তৈরি করেছে।"
প্রশাসনিক প্রোটোকল স্মরণ করিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য কোনও বিল পাঠালে তা আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে যায় এবং সেখান থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে অনুমোদনের জন্য পৌঁছয়। এই বিলটি বর্তমানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের যুগ্ম সচিব স্তরে বিবেচনাধীন। বিকেলে নবান্নের তরফে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে যোগাযোগও করা হয়েছে।
কিন্তু কেন বিলটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো প্রয়োজন হলো? তার আইনি ব্যাখ্যা দিয়ে কেরল ও অন্ধ্রপ্রদেশের উদাহরণ টানেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় যা জামিনযোগ্য, রাজ্য সেখানে অপরাধীদের তিন বছরের জেল এবং জামিন-অযোগ্য ধারার প্রস্তাব রেখেছে। আইনটিকে আরও কঠোর করতেই রাষ্ট্রপতির সম্মতির প্রয়োজন।
বিরোধীদের তীব্র কটাক্ষ করে শুভেন্দু বলেন, "যাঁরা নিজেদের গুন্ডা মনে করেন, তাঁরাই ভাবছেন বিল ফিরে এসেছে এবং রাজ্য হোঁচট খেয়েছে। বিলে যা রয়েছে, তাতে ভবিষ্যতে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারবে না।"
সংবাদমাধ্যম ও অপপ্রচারকারীদের উদ্দেশ্যে তাঁর সাফ বার্তা, "গল্পের গরু গাছে তুলে লাভ নেই। কান দিয়ে না দেখে চোখ দিয়ে দেখুন। এসব ভুয়ো খবরে কান না দিয়ে রাতে ভালো করে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন।" স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকে বিলটি অনুমোদন পাবে বলেই পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছে নবান্ন।

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন