নয়াদিল্লি: রাজধানী দিল্লিতে আবারও ঘনিয়ে এল এক ভয়ঙ্কর নৃশংসতার কালো ছায়া, যা ফিরিয়ে আনল ২০১২ সালের নির্ভয়াকাণ্ডের বিভীষিকা। ১৭ বছরের এক কিশোরীকে চলন্ত টেম্পোর ভেতর গণধর্ষণ করার পর কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করার অভিযোগ উঠল। এখানেই শেষ নয়, চরম পাশবিকতার পর কিশোরীর নিথর দেহ রাস্তার পাশে ফেলে রেখে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। দিনকয়েক পর পচাগলা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া সেই দেহের কিছু অংশ কুকুরে ছিঁড়ে খেয়েছে বলেও পুলিশি তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে। সেন্ট্রাল দিল্লির এই হাড়হিম করা ঘটনায় পুলিশ ৩ জন নাবালক-সহ মোট চার জনকে গ্রেফতার করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৩ সেপ্টেম্বর। সেন্ট্রাল দিল্লির কুশক রোড সংলগ্ন এলাকা থেকে বিকৃত অবস্থায় এক কিশোরীর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। দেহটি এতটাই পচে গিয়েছিল এবং এত মর্মান্তিক আঘাত ছিল যে, প্রথম দর্শনে তা পুরুষ না নারীর, তা চেনাও অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। এমনকি শরীর থেকে একটি হাত পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, কিশোরীকে একটি টেম্পোর মধ্যে গণধর্ষণ করার পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়। এলাকার প্রায় ৫০টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে এবং টানা ১৫ সেপ্টেম্বর রাতভর অভিযান চালিয়ে পুলিশ সেই সন্দেহভাজন টেম্পোটির সন্ধান পায়। টেম্পোর চালককে জেরা করেই খাদ্দা কলোনির বাসিন্দা অভিযুক্তদের নাগাল পান তদন্তকারীরা।
পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, ধৃত তিন নাবালকের বয়স ১৬ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। তাদের কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত দু’টি রক্তমাখা ছুরি এবং ঘটনার সময়ের পোশাক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পুরো গাড়িটি ও উদ্ধার হওয়া আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, কিশোরী বেশ কিছুদিন ধরে নিখোঁজ থাকা সত্ত্বেও পরিবার থানায় কোনও ডায়েরি করেনি, কারণ সে প্রায়শই কয়েক দিনের জন্য বাইরে থাকত। বর্তমানে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং পকসো আইনে মামলা রুজু করে দিল্লি পুলিশ গোটা ঘটনার গভীর তদন্ত শুরু করেছে। ধৃতদের সাথে কিশোরীর কী পূর্বপরিচয় ছিল এবং এই নৃশংস আক্রোশের আসল কারণ কী, তা জানার চেষ্টা চলছে।

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন