নয়াদিল্লি: ক্যান্সারের মতো মারণরোগের ওষুধের আকাশছোঁয়া দাম এবং খুচরো বিক্রির ক্ষেত্রে প্রকাণ্ড তফাত নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। খুচরো বিক্রেতার কেনা দাম এবং ওষুধের প্যাকেটে ছাপা সর্বোচ্চ খুচরো মূল্যের (MRP) মধ্যে ১০ গুণেরও বেশি ব্যবধান দেখে বিষয়টিকে সাধারণ রোগীদের ওপর ‘দিনদুপুরে ডাকাতি’ বলে আখ্যা দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। চিকিৎসক সঞ্জয় কুলশ্রেষ্ঠের দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে দেশের বিচারব্যবস্থার শীর্ষ পীঠস্থান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, জীবনদায়ী ওষুধের দামে এই ধরনের অসঙ্গতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
আদালতের শুনানিপর্বে একটি নির্দিষ্ট ওষুধের উদাহরণ টেনে আনা হয়, যেখানে দেখা যায় যে ওষুধটি নির্মাতা সংস্থা মাত্র ২,৭০০ টাকায় খুচরো বিক্রেতাকে (PTR) সরবরাহ করছে, সেই একই ওষুধের প্যাকেটে এমআরপি লেখা রয়েছে প্রায় ২৭,০০০ টাকা! অর্থাৎ রোগীদের থেকে সোজা ১০ গুণ বেশি দাম হাঁকা হচ্ছে। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ উষ্মা প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলে, প্রস্তুতকারক সংস্থা যখন এত কম দামে বিক্রেতাকে ওষুধ দিচ্ছে, তখন ওষুধের প্যাকেটে এত বিপুল এমআরপি ছাপানোর অনুমতি কে দিল? আদালতের পর্যবেক্ষণ, প্রথম দৃষ্টিতেই এটি একটি সুপরিকল্পিত জালিয়াতি ছাড়া আর কিছুই নয়। একই সঙ্গে এই অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বছরের পর বছর নীরব ভূমিকা পালন করায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক আধিকারিকদের ওপর তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আদালত।
উল্লেখ্য, ফার্মাসিউটিক্যালস বা ওষুধ শিল্পে ‘প্রাইস টু রিটেইলার’ (PTR) হলো সেই দর, যে দামে একজন ডিস্ট্রিবিউটর বা ম্যানুফ্যাকচারার খুচরো ফার্মেসিকে ওষুধ বিক্রি করে। অন্যদিকে এমআরপি হলো সর্বোচ্চ মূল্য যা ক্রেতা থেকে আদায় করা যেতে পারে। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট সতর্ক করে জানিয়েছে, এই বিশাল মূল্যের ফারাক কেবল সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে তা নয়, জাতীয় আয়ুষ্মান ভারতের মতো সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পগুলির ওপরও এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। কারণ হাসপাতালগুলি যখন উচ্চ এমআরপিতে ওষুধ কেনে এবং সরকারের কাছে রিইম্বার্সমেন্ট দাবি করে, তখন পরোক্ষভাবে সাধারণ করদাতাদের টাকাই নয়ছয় হয়।
যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, জাতীয় ওষুধ মূল্য নির্ধারণ কর্তৃপক্ষ (NPPA) একাধিক ক্যান্সার প্রতিষেধক ওষুধের দাম ইতিমধ্যেই বেঁধে দিয়েছে এবং সরকারের নিয়মে বেশ কিছু লাইফ-সেভিং ড্রাগের সিলিং প্রাইস নির্ধারিত রয়েছে। তবে ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি ইচ্ছাকৃতভাবে কীভাবে এমআরপি বাড়িয়ে পকেট ভারী করছে, এবার তা খতিয়ে দেখতে কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন