কলকাতা: চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্গাপুজো মণ্ডপে সপ্তমীর সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া নজিরবিহীন পদপিষ্টের ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যুর পর রবিবার দুপুরে ভবানীভবনে এক উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠকে বসলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসার পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ দানা বেঁধেছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এদিনের এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবাল, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। ঠিক কী কারণে শনিবার রাতে ওই মর্মান্তিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং কর্তব্যরত পুলিশ বা বেসরকারি সিকিউরিটি কর্মীরা তখন ঠিক কী করছিলেন, সিসিটিভি ফুটেজ সামনে রেখে তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখাই এই বৈঠকের মূল এজেন্ডা।
শনিবার রাতের ওই অভিশপ্ত মুহূর্তের পর থেকেই পুলিশি গাফিলতির অভিযোগ তুলে সোচ্চার হয়েছেন এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা। তাদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশকর্মী বা ভলান্টিয়ারের দেখা মেলেনি। তবে কড়া অবস্থান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দোষী কাউকেই একবিন্দু ছাড় দেওয়া হবে না। ইতিমধ্যে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে অনিচ্ছাকৃত খুন ও ষড়যন্ত্রের মামলা রুজু করে পুজো কমিটির সম্পাদক রাজকুমার সেওদা ও সহ-সভাপতি শান্তনু দুবে সহ মোট ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে লালবাজার। এই পুজোর আয়োজকদের তালিকায় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো দেবদীপ অধিকারী, জোড়াসাঁকোর বিজেপি বিধায়ক বিজয় ওঝা এবং উত্তর কলকাতা জেলা বিজেপির সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষের নাম জড়িয়ে থাকায় গোটা ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও চরম শোরগোল শুরু হয়েছে।
এদিকে, বিপর্যয়ের জেরে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ করেছে রাজ্য সরকার। বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের সচিব রাজেশ সিংহ, দমকলের ডিজি অনুজ শর্মা এবং এসটিএফ-এর এডিজি জাভেদ শামিমকে নিয়ে একটি বিশেষ পরিদর্শনকারী দল গঠন করা হয়েছে, যারা সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার সহ শহরের অন্যান্য হেভিওয়েট পুজো মণ্ডপগুলির প্রস্তুতি ও ভিড় সামলানোর ব্যবস্থা খতিয়ে দেখবে। অন্যদিকে, রবিবারের শুরুতেই আহতদের দেখতে কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে ছুটে যান রাজ্যপাল আর এন রবি। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীনদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। ঘটনার ফরেনসিক তদন্ত এবং সিসিটিভি ফুটেজের চুলচেরা বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই মর্মান্তিক পরিণতির আসল কারণ খুঁজে বের করতে এখন সব মহলের নজর রয়েছে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন