Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Mamata Banerjee: জ্ঞানেশের শাস্তি দাবিতে এবার সিপিএমের কাছাকাছি মমতা! অক্টোবরে দিল্লি সফর

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Mamata Banerjee: জ্ঞানেশের শাস্তি দাবিতে এবার সিপিএমের কাছাকাছি মমতা! অক্টোবরে দিল্লি সফর
জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে সিপিএমের সঙ্গে মমতা ?

কলকাতা ও নয়াদিল্লি: নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে 'ভোটচুরি' ও ভোটার তালিকা কারচুপির মারাত্মক অভিযোগকে হাতিয়ার করে জাতীয় রাজনীতিতে ফের সলতে পাকানো শুরু করল 'ইন্ডিয়া' (INDIA) জোট। 

তবে এ বার ঘটনা প্রবাহের কেন্দ্রে শুধুই মোদী বিরোধিতা নয়, নজর কেড়েছে বাংলার রাজনীতির ঐতিহাসিক সমীকরণ বদল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের ইমপিচমেন্ট এবং অপসারণের দাবিতে সরাসরি সিপিএমের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সখ্য তৈরি করলেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

সূত্রের খবর, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই রাজধানী দিল্লিতে উড়ে যাচ্ছেন মমতা, সঙ্গে যেতে পারেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। লক্ষ্য, জাতীয় নির্বাচন কমিশনারকে গদিচ্যুত করতে সংসদীয় ও রাজনৈতিক কৌশল চূড়ান্ত করা।

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে মমতার উত্থান মূলত বামপন্থার বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে। জাতীয় রাজনীতিতে 'ইন্ডিয়া' জোটে সিপিএম এক ছাদের তলায় থাকলেও, সিপিএম সাধারণ সম্পাদক ও আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের নেতাদের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন মমতা। 

কিন্তু জ্ঞানেশ কুমার বিতর্ক এবং ভোটার তালিকায় ব্যাপক কারচুপির প্রশ্ন সেই বরফ অনেকটাই গলিয়ে দিল। কালীঘাট সূত্রে খবর, এই ইস্যুতে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সিপিএম সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির সঙ্গে টেলিফোনে দীর্ঘ কথা হয়েছে মমতার। 

শুধু ফোনালাপই নয়, দু’পক্ষের মধ্যে চিঠি চালাচালিও হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বেবি আগেই সিইসি ইস্যুতে দেশের শীর্ষ বিরোধী নেতাদের সঙ্গে মমতাকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন, যার ইতিবাচক উত্তর দেন তৃণমূল নেত্রী। 

এমনকী, অনগ্রসর ভোটব্যাঙ্ক ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সিপিএম সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনা করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তৃণমূলের জ্যেষ্ঠ সাংসদ সৌগত রায় এই সমন্বয়ের সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন।

জাতীয় রাজনীতিতে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ নিশ্চিত করতে এবার অল-আউট লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে দিল্লি। সূত্রের খবর, মমতা ইতিমধ্যেই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব সহ একাধিক বিরোধী শিবিরের প্রধানদের সঙ্গে কথা বলেছেন। 

রাহুলের কাছে তাঁর স্পষ্ট প্রস্তাব, বিলম্ব না করে দ্রুত দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের মেগা বৈঠক ডাকা হোক। সেই আর্জি মেনেই আগামী বুধবার রাজধানীতে জরুরি বৈঠকে বসতে চলেছেন বিরোধী ব্লকের শীর্ষ নেতৃত্ব। চার্টার্ড ফ্লাইটে ৪ অক্টোবর দিল্লি পৌঁছানোর কথা মমতার।

সংসদের আসন্ন অধিবেশনেই নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব পেশ ও আগামী দিনের আন্দোলনসূচি ছকে ফেলা এই বৈঠকের প্রধান লক্ষ্য। অতীতে জাতীয় রাজনীতিতে ছন্নছাড়া হয়ে পড়া বিরোধীদের আবার এক ছাতার তলায় এনে দাঁড় করাল নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা। তবে আলিমুদ্দিন ও কালীঘাটের এই অভূতপূর্ব রাজনৈতিক সেতু নির্মাণ জ্ঞানেশ কুমারের কুর্সি টালমাটাল করার পাশাপাশি চব্বিশের পরবর্তী জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মোড় এনে দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

বিষয় : #HiddenStoriesNews #MamataBanerjee #GyaneshKumar #ElectionCommission #MABaby #CPIMvsBJP #INDIAAlliance #DelhiMeeting #RahulGandhi #ImpeachmentMotion #BanglaNews #KolkataNews #BengalPolitics #NationalPolitics

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


Mamata Banerjee: জ্ঞানেশের শাস্তি দাবিতে এবার সিপিএমের কাছাকাছি মমতা! অক্টোবরে দিল্লি সফর

প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
কলকাতা ও নয়াদিল্লি: নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে 'ভোটচুরি' ও ভোটার তালিকা কারচুপির মারাত্মক অভিযোগকে হাতিয়ার করে জাতীয় রাজনীতিতে ফের সলতে পাকানো শুরু করল 'ইন্ডিয়া' (INDIA) জোট। তবে এ বার ঘটনা প্রবাহের কেন্দ্রে শুধুই মোদী বিরোধিতা নয়, নজর কেড়েছে বাংলার রাজনীতির ঐতিহাসিক সমীকরণ বদল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের ইমপিচমেন্ট এবং অপসারণের দাবিতে সরাসরি সিপিএমের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সখ্য তৈরি করলেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই রাজধানী দিল্লিতে উড়ে যাচ্ছেন মমতা, সঙ্গে যেতে পারেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। লক্ষ্য, জাতীয় নির্বাচন কমিশনারকে গদিচ্যুত করতে সংসদীয় ও রাজনৈতিক কৌশল চূড়ান্ত করা।বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে মমতার উত্থান মূলত বামপন্থার বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে। জাতীয় রাজনীতিতে 'ইন্ডিয়া' জোটে সিপিএম এক ছাদের তলায় থাকলেও, সিপিএম সাধারণ সম্পাদক ও আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের নেতাদের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন মমতা। কিন্তু জ্ঞানেশ কুমার বিতর্ক এবং ভোটার তালিকায় ব্যাপক কারচুপির প্রশ্ন সেই বরফ অনেকটাই গলিয়ে দিল। কালীঘাট সূত্রে খবর, এই ইস্যুতে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সিপিএম সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির সঙ্গে টেলিফোনে দীর্ঘ কথা হয়েছে মমতার। শুধু ফোনালাপই নয়, দু’পক্ষের মধ্যে চিঠি চালাচালিও হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বেবি আগেই সিইসি ইস্যুতে দেশের শীর্ষ বিরোধী নেতাদের সঙ্গে মমতাকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন, যার ইতিবাচক উত্তর দেন তৃণমূল নেত্রী। এমনকী, অনগ্রসর ভোটব্যাঙ্ক ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সিপিএম সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনা করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তৃণমূলের জ্যেষ্ঠ সাংসদ সৌগত রায় এই সমন্বয়ের সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন।জাতীয় রাজনীতিতে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ নিশ্চিত করতে এবার অল-আউট লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে দিল্লি। সূত্রের খবর, মমতা ইতিমধ্যেই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব সহ একাধিক বিরোধী শিবিরের প্রধানদের সঙ্গে কথা বলেছেন। রাহুলের কাছে তাঁর স্পষ্ট প্রস্তাব, বিলম্ব না করে দ্রুত দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের মেগা বৈঠক ডাকা হোক। সেই আর্জি মেনেই আগামী বুধবার রাজধানীতে জরুরি বৈঠকে বসতে চলেছেন বিরোধী ব্লকের শীর্ষ নেতৃত্ব। চার্টার্ড ফ্লাইটে ৪ অক্টোবর দিল্লি পৌঁছানোর কথা মমতার।সংসদের আসন্ন অধিবেশনেই নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব পেশ ও আগামী দিনের আন্দোলনসূচি ছকে ফেলা এই বৈঠকের প্রধান লক্ষ্য। অতীতে জাতীয় রাজনীতিতে ছন্নছাড়া হয়ে পড়া বিরোধীদের আবার এক ছাতার তলায় এনে দাঁড় করাল নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা। তবে আলিমুদ্দিন ও কালীঘাটের এই অভূতপূর্ব রাজনৈতিক সেতু নির্মাণ জ্ঞানেশ কুমারের কুর্সি টালমাটাল করার পাশাপাশি চব্বিশের পরবর্তী জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মোড় এনে দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত