Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Bombay IIT: পরিবারের তোলা বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগ খারিজ! সাহিলের ঘটনায় দুল্লাকে ফেরত আনতে এবার পাল্টা চাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Bombay IIT: পরিবারের তোলা বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগ খারিজ! সাহিলের ঘটনায় দুল্লাকে ফেরত আনতে এবার পাল্টা চাপ
যত-কাণ্ড এখন আইআইটি বম্বেতে। ছবি: সংগৃহীত

মুম্বই: যতকাণ্ড বম্বে আইআইটিতে। 

দ্বিতীয় বর্ষের বিটেক ছাত্র সাহিল রবীন্দ্র ওয়াকোডের মর্মান্তিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তুলকালাম কান্ড মুম্বইয়ের প্রযুক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে। এক দিকে সাহিলের পরিবারের তোলা জাতিগত বৈষম্যের অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে সুর চড়ালেন তাঁরই সহপাঠী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা। অন্য দিকে, এই ঘটনায় সাসপেন্ড হওয়া অধ্যাপক তথা প্রাক্তন ডিন সূর্যনারায়ণ দুল্লার শাস্তির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে তাঁকে সসম্মানে ফিরিয়ে আনার দাবিতে উল্টো চাপ তৈরি হতে শুরু করেছে ক্যাম্পাসে। 

গত শুক্রবার হোস্টেলের বন্ধ ঘর থেকে উদ্ধার হয় এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র সাহিলের ঝুলন্ত দেহ। অভিযোগ ওঠে, মিড-সেমিস্টার পরীক্ষায় মোবাইল ফোন এবং চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে অসদুপায় অবলম্বনের সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে যান সাহিল। তার পরেই এই চরম ঘটনা। 

পরিবারের দাবি, তফসিলি জাতিভুক্ত হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই ক্যাম্পাসে জাতিগত বৈষম্য ও প্রাতিষ্ঠানিক মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছিল সাহিলকে। এমনকি অভিযুক্ত অধ্যাপক দুল্লাও পরীক্ষার হলে তাঁর বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ তোলে পরিবার। 

তবে এই সমস্ত অভিযোগ এক লহমায় উড়িয়ে দিচ্ছেন সাহিলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহপাঠীরা। এনডিটিভি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাহিলের সহপাঠী যতীশ কুমার স্পষ্ট জানিয়েছেন, “ক্যাম্পাসে জাতিগত বৈষম্যের কোনও অস্তিত্ব নেই। আমি নিজে কখনও এমন কিছুর মুখোমুখি হইনি। পরীক্ষার চার-পাঁচ দিন আগেও ও একদম সাধারণ, হাসিখুশি ছিল। সমস্যাটা অন্য জায়গায়, আর তা হল অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপ। শাস্তি দেওয়ার আগে পড়ুয়াদের মানসিক অবস্থাটা বোঝা উচিত।” অন্য দিকে, বিক্ষোভের মুখে পড়ে আইআইটি বম্বে কর্তৃপক্ষ সাহিলের বিরুদ্ধে ওঠা নকলের বিবরণ প্রকাশ্যে এনে ক্ষমা চাইলেও তা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সাহিলের মৃত্যুর পর আন্দোলনের চাপে ‘ডিন অফ স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার’ (অধ্যাপক দুল্লা)-কে অপসারিত ও সাসপেন্ড করা হয়েছিল। কিন্তু এ বার তাঁর সমর্থনে পাল্টা লড়াইয়ে নামল ‘আইআইটি বম্বে ফ্যাকাল্টি ফোরাম’। 

শিক্ষকমহলের দাবি, অধ্যাপক দুল্লা কেবল প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা পরিদর্শকের নিয়মমাফিক দায়িত্ব পালন করছিলেন। অনিয়ম বা অসদুপায় অবলম্বনের ঘটনাটি তিনি প্রাতিষ্ঠানিক প্রোটোকল মেনেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন।

দুল্লার পক্ষে সওয়াল করে তাঁর নিজের বিভাগ ‘পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং ল্যাবরেটরি’-র গবেষক ও প্রাক্তনীদের একাংশও জানিয়েছেন, শিক্ষাগত ডিসিপ্লিনের জায়গায় অধ্যাপক দুল্লা কড়া হতে পারেন, তবে তিনি কখনও কারও প্রতি পক্ষপাতিত্ব বা অন্যায় আচরণ করেননি। 

নিরপেক্ষ তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত তাঁর সাসপেনশন প্রত্যাহারের সপক্ষে সোচ্চার হয়েছেন শিক্ষক থেকে শুরু করে প্রাক্তনীরা। এক দিকে পরিবারের বর্ণবিদ্বেষের সুর, আর অন্য দিকে অধ্যাপকের সমর্থনে উল্টো সুর, সব মিলিয়ে আইআইটি বম্বের আবহাওয়া এখন চরম উত্তপ্ত।

বিষয় : #IITBombay #IITBombayProtest #SahilWakode #MumbaiNews #NationalNews #IITBombayNews #CasteismAllegation #StudentLifePressure #HiddenStoriesNews

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


Bombay IIT: পরিবারের তোলা বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগ খারিজ! সাহিলের ঘটনায় দুল্লাকে ফেরত আনতে এবার পাল্টা চাপ

প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
মুম্বই: যতকাণ্ড বম্বে আইআইটিতে। দ্বিতীয় বর্ষের বিটেক ছাত্র সাহিল রবীন্দ্র ওয়াকোডের মর্মান্তিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তুলকালাম কান্ড মুম্বইয়ের প্রযুক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে। এক দিকে সাহিলের পরিবারের তোলা জাতিগত বৈষম্যের অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে সুর চড়ালেন তাঁরই সহপাঠী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা। অন্য দিকে, এই ঘটনায় সাসপেন্ড হওয়া অধ্যাপক তথা প্রাক্তন ডিন সূর্যনারায়ণ দুল্লার শাস্তির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে তাঁকে সসম্মানে ফিরিয়ে আনার দাবিতে উল্টো চাপ তৈরি হতে শুরু করেছে ক্যাম্পাসে। গত শুক্রবার হোস্টেলের বন্ধ ঘর থেকে উদ্ধার হয় এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র সাহিলের ঝুলন্ত দেহ। অভিযোগ ওঠে, মিড-সেমিস্টার পরীক্ষায় মোবাইল ফোন এবং চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে অসদুপায় অবলম্বনের সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে যান সাহিল। তার পরেই এই চরম ঘটনা। পরিবারের দাবি, তফসিলি জাতিভুক্ত হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই ক্যাম্পাসে জাতিগত বৈষম্য ও প্রাতিষ্ঠানিক মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছিল সাহিলকে। এমনকি অভিযুক্ত অধ্যাপক দুল্লাও পরীক্ষার হলে তাঁর বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ তোলে পরিবার। তবে এই সমস্ত অভিযোগ এক লহমায় উড়িয়ে দিচ্ছেন সাহিলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহপাঠীরা। এনডিটিভি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাহিলের সহপাঠী যতীশ কুমার স্পষ্ট জানিয়েছেন, “ক্যাম্পাসে জাতিগত বৈষম্যের কোনও অস্তিত্ব নেই। আমি নিজে কখনও এমন কিছুর মুখোমুখি হইনি। পরীক্ষার চার-পাঁচ দিন আগেও ও একদম সাধারণ, হাসিখুশি ছিল। সমস্যাটা অন্য জায়গায়, আর তা হল অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপ। শাস্তি দেওয়ার আগে পড়ুয়াদের মানসিক অবস্থাটা বোঝা উচিত।” অন্য দিকে, বিক্ষোভের মুখে পড়ে আইআইটি বম্বে কর্তৃপক্ষ সাহিলের বিরুদ্ধে ওঠা নকলের বিবরণ প্রকাশ্যে এনে ক্ষমা চাইলেও তা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।সাহিলের মৃত্যুর পর আন্দোলনের চাপে ‘ডিন অফ স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার’ (অধ্যাপক দুল্লা)-কে অপসারিত ও সাসপেন্ড করা হয়েছিল। কিন্তু এ বার তাঁর সমর্থনে পাল্টা লড়াইয়ে নামল ‘আইআইটি বম্বে ফ্যাকাল্টি ফোরাম’। শিক্ষকমহলের দাবি, অধ্যাপক দুল্লা কেবল প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা পরিদর্শকের নিয়মমাফিক দায়িত্ব পালন করছিলেন। অনিয়ম বা অসদুপায় অবলম্বনের ঘটনাটি তিনি প্রাতিষ্ঠানিক প্রোটোকল মেনেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন।দুল্লার পক্ষে সওয়াল করে তাঁর নিজের বিভাগ ‘পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং ল্যাবরেটরি’-র গবেষক ও প্রাক্তনীদের একাংশও জানিয়েছেন, শিক্ষাগত ডিসিপ্লিনের জায়গায় অধ্যাপক দুল্লা কড়া হতে পারেন, তবে তিনি কখনও কারও প্রতি পক্ষপাতিত্ব বা অন্যায় আচরণ করেননি। নিরপেক্ষ তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত তাঁর সাসপেনশন প্রত্যাহারের সপক্ষে সোচ্চার হয়েছেন শিক্ষক থেকে শুরু করে প্রাক্তনীরা। এক দিকে পরিবারের বর্ণবিদ্বেষের সুর, আর অন্য দিকে অধ্যাপকের সমর্থনে উল্টো সুর, সব মিলিয়ে আইআইটি বম্বের আবহাওয়া এখন চরম উত্তপ্ত।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত